Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

যান্ত্রিক ত্রুটি ছিলই না, এয়ার ইন্ডিয়ার দাবিতে আমেদাবাদ দুর্ঘটনা ঘিরে রহস্য আরও ঘণীভূত

গত ১২ জুন আমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার কারণ কী? তা নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। দুর্ঘটনার এক মাস পর প্রধান তদন্তকারী সংস্থা এয়ারক্র্যাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)-র প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট সামনে এসেছে।

যান্ত্রিক ত্রুটি ছিলই না, এয়ার ইন্ডিয়ার দাবিতে আমেদাবাদ দুর্ঘটনা ঘিরে রহস্য আরও ঘণীভূত
  • ১৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি:  গত ১২ জুন আমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার কারণ কী? তা নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। দুর্ঘটনার এক মাস পর প্রধান তদন্তকারী সংস্থা এয়ারক্র্যাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)-র প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট সামনে এসেছে। এপ্রসঙ্গে খোদ এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তাদের বিমান ছিল যান্ত্রিকভাবে সম্পূর্ণ ত্রুটিহীন। প্রাথমিক রিপোর্ট বলেছে, ফুয়েল ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। কারণ দুই ইঞ্জিনের সু‌ইচই অফ হয়ে যায়। দুই পাইলট সেটা আচমকা আবিষ্কার করে হতচকিত হয়ে যান এবং শেষ চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে যায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভেঙে পড়ে বিমান। এই রিপোর্ট প্রকাশের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়ার চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার সংস্থার কর্মীদের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এখনই কোনও চুড়ান্ত উপসংহার টানা উচিত নয়। কারণ আমরা নিশ্চিত হয়েছি ওই বিমানে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত গাফিলতি হয়নি। এয়ার ইন্ডিয়ার এই বিবৃতির ফলে সর্বাগ্রে প্রশ্ন উঠছে, ইঞ্জিন ত্রুটিহীন ছিল। যান্ত্রিক রক্ষণাবেক্ষণের রিপোর্ট ছিল সমস্যাহীন। তাহলে ফুয়েল ইঞ্জিনের সুইচ অফ হয়ে গেল কীভাবে? কে করল? 

Advertisement

সোমবার এয়ার ইন্ডিয়া কর্তা ক্যাম্পবেল উইলসন বলেছেন, ইঞ্জিনেও কোনও যান্ত্রিক ত্রুটির কথা কিন্তু রিপোর্টে বলা হয়নি। আমরাও জানতে পেরেছি, ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণ, পাইলটদের প্রাক-ফ্লাইট শারীরিক ও মানসিক  ফিটনেস পরীক্ষায় কোনও সমস্যা হয়নি। প্রতিটি মানদন্ডে সকলেই উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। যাবতীয় যান্ত্রিক উপকরণও নির্ধারিত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের মধ্যে দিয়েই গিয়েছে। দিল্লি থেকে আসা এই এয়ারক্র্যাফটের লগ বুক থেকে স্পষ্ট, যান্ত্রিক গোলমালের কোনও তথ্যই নেই।  তিনি  বলেছেন, এখনই কোনও আগাম উপসংহারের পথে কেউ হাঁটবেন না। তদন্ত রিপোর্ট প্রাথমিকভাবে বলেছে যে, দুই ইঞ্জিনের ফুয়েল সুইচ বন্ধ ছিল। রিপোর্টের এই অংশ নিয়ে কোনও মন্তব্যই করতে চাননি তিনি। বলেছেন, চুড়ান্ত রিপোর্ট আসতে দিন। তারপর অনেক কিছু স্পষ্ট হবে। এয়ার ইন্ডিয়া মনে করছে, প্রাথমিক রিপোর্ট যেমন বেশ কিছু মন্তব্য করেছে বিবরণীতে, তেমন আবার কোনও সুপারিশ করেনি। বরং বেশ কিছু নতুন প্রশ্নের দিকে অঙ্গুলিহেলন করছে। আমরা সম্পূর্ণভাবে এএআইবির তদন্তের সঙ্গে সহযোগিতা করছি। সম্পূর্ণ নিখুঁত তদন্ত করতে যা যা লাগবে, আমরা সবরকমভাবে সেটা দেব। এয়ারলাইন্স পাইলট অ্যাসোসিয়েশন শনিবারই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছিল যে, সরকারি তদন্ত রিপোর্টের গতিপ্রকৃতি প্রত্যক্ষভাবে দুর্ঘটনার কারণ জানায়নি। কিন্তু প্রাথমিক রিপোর্টের অভিমুখ এমন যেন পাইলটদের গাফিলতির দিকেই অঙ্গুলিহেলন করার প্রয়াস। অ্যাসোসিয়েশন এবার আবেদন করেছে, তাদেরও তদন্ত প্রক্রিয়ায় সামিল করা হোক। পাইলট সংগঠনের পাশাপাশি এবার এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষও নিজেদের বোয়িং ড্রিমলাইনারে কোনও  সমস্যাই ছিল না বলে দাবি করেছে। এমনকী তাদের বক্তব্য, তদন্ত রিপোর্ট গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ স্পষ্টীকরণ যেমন দিয়েছে, তেমনই নতুন একঝাঁক প্রশ্নও উত্থাপন করে দিয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ