


টালিগঞ্জের বিধায়ক হওয়ার পর জীবন কতটা বদলেছে?
অনেকটাই...। ভাবতে ভালো লাগছে, এত বড়ো বিধানসভা আমার দায়িত্বে। কিন্তু কাজটা খুবই কঠিন। আমি পড়াশোনা না করে কোনো কাজ করি না। প্রতিদিন রাতে সংবিধান পড়ছি। প্রত্যেকটা জায়গা ধরে রিসার্চ শুরু করেছি। সেটা না করলে মানুষের জন্য কাজ করা যায় না। কাজটা শক্ত ছিল। চারবারের বিধায়ক যিনি ছিলেন, তাঁকে পরাস্ত করা সহজ ছিল না। কিন্তু ঘরে ঘরে মানুষের কাছে গিয়েছি। তখন বুঝেছি, ব্যাপারটা বোধহয় অত কঠিন হবে না। সকতে তিতিবিরক্ত হয়েছিলেন। সে কারণেই পরিবর্তন চেয়েছিলেন মানুষ। পরিবর্তন হয়েছে।
বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে, এই আন্দাজ আগে ছিল?
জানেন, আগেরবারও এই আন্দাজ আমার ছিল। ২০২১-এ আমি উলুবেড়িয়া দক্ষিণে লড়াই করেছিলাম। এখনও ভিভিপ্যাডটা খুলুন, দেখবেন আমি জিতেছি। কারণ ১২টা পর্যন্ত তো জিতছিলাম। আমাকে ধাক্কা মেরে বের করে দেওয়া হয়েছিল। মহিলা হিসেবে আমার দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতা ছিল না। আমাকে কাউন্টিং সেন্টারে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। যিনি আমার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, তিনি লোকজন, মোবাইল নিয়ে ভিতরে ছিলেন।
এবারের নির্বাচনে এমন কিছু ঘটেনি?
একেবারেই ঘটেনি।
দর্শক স্ক্রিনে আপনাকে অনেকদিন দেখেননি। আবার অভিনয়ে ফিরবেন?
অবশ্যই ফিরব। অভিনয় তো আমার পেশা। নিশ্চয়ই কাজ করব। এটা তো আমার পেশা নয়। সেবা করার দায়িত্ব পেয়েছি। কাজ করতে শুরু করেছি।
টলিউড ইন্ডাস্ট্রির যে সব সমস্যা...
(প্রশ্ন থামিয়ে দিয়ে) ইন্ডাস্ট্রি এখনও তৈরি হয়নি। আমরা তৈরি করার চেষ্টা করছি। হয়তো হবে। বলুন...।
কোন সমস্যার সমাধান দিয়ে কাজ শুরু করলেন?
সবকটা জায়গায় ঘুঘুর বাসা। সিন্ডিকেট সংস্কৃতি চলেছে। সবার কাছ থেকেই কাটমানি নিত ওরা। ফেডারেশনে ২৪ জনের নাম দেখানো হয়। বাকি বোধহয় ৯২১১ জন সদস্য রয়েছেন। যত কাগজ দেখবেন, মনে হবে একি ছেলেখেলা হয়েছে! আমি ভাবি, আমাদের মধ্যে যাঁরা সত্যিই শিক্ষিত মানুষ তাঁরা ফেডারেশনের এই অবস্থাটা বুঝতে পারেননি? অথবা বুঝেও চুপ করে ছিলেন। যাতে কাজটা চলে। বিজেপি করে বলে বহু মানুষকে বছরের পর বছর বসিয়ে রাখা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট সংস্কৃতি চলছিল।
‘ব্যান কালচার’ আর থাকবে না বলছেন? অন্য মতাদর্শের শিল্পীও কাজ করতে পারবেন?
ব্যান বলে আর কিছু নেই। সকলে নিশ্চিন্তে কাজ করবেন। অপমানের সংস্কৃতি ছিল এতদিন। অপমানিত হয়ে অনেকে আত্মহত্যাও করতে গিয়েছেন...।
মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে বহু পুরনো ফাইল নতুন করে খোলা হচ্ছে। নতুন করে তদন্ত শুরু হচ্ছে। টলিউডের পুরনো কোনো ফাইলও কি খোলা হবে?
কোনো কিছুর ছাড় হবে না। অপরাধ ধরা পড়লে অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া হবে।
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর শ্যুটিংয়ে নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি উঠেছিল। তা কি সত্যিই হয়েছে?
এগুলো করতে হবেই। কে শ্যুটিং করতে পাহাড়ে যাচ্ছে, কে সমুদ্রে যাচ্ছে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে। রাহুলের সন্তান, পরিবার এখনও কিছু পায়নি। এটা কার দেওয়ার দায়িত্ব ছিল? মনে রাখতে হবে, প্রযোজনা সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।
আপনি কথা দিয়েছেন, মেসি কলকাতায় আসবেন...
(হা হা হা) এটা নিয়ে তো সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাকে ট্রোলও করেছে। আমি ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে বলেছি যে, আমি কথা দিয়েছি, মেসিকে আনব। নিশীথ বলেছেন, অবশ্যই আনবেন। আসলে আমার একটা সিমপ্লিসিটি রয়েছে। তাই সকলে ভালোবাসেন। কলকাতায় মেসি আসবেনই...। স্বরলিপি ভট্টাচার্য
ছবি: ভাস্কর মুখোপাধ্যায়