নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুঃস্থ ও মেধাবী পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষার স্বার্থে ‘বিবেকানন্দ মেরিট কাম মিনস স্কলারশিপ’ চালু করেছিল তৃণমূল সরকার। এবার বিজেপি সরকার চালু করছে ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’। এর মাধ্যমে দেশ ও বিদেশের প্রতিষ্ঠানে পড়ার জন্য যত টাকাই লাগুক না কেন, তা বৃত্তি হিসাবে দেওয়া হবে পড়ুয়াদের। আরও গুরুত্বপূর্ণ হল, এই বৃত্তি পাওয়ার জন্য পারিবারিক আয়ের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। প্রসঙ্গত, ‘বিবেকানন্দ মেরিট কাম মিনস স্কলারশিপ’ পেতে গেলে পারিবারিক আয় বার্ষিক আড়াই লক্ষ টাকার মধ্যে থাকা বাধ্যতামূলক। তবে নয়া প্রকল্পের সুযোগ পেতে কোন প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট পড়ুয়া ভরতি হচ্ছেন, তার মাপকাঠি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই এ সংক্রান্ত পোর্টাল চালুর কথা ঘোষণা হয়ে যাবে। বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, উচ্চশিক্ষার সব ধরনের স্কলারশিপকে এক ছাতার নীচে আনার প্রক্রিয়াও চলছে। ন্যাশনাল স্কলারশিপ পোর্টালের ধাঁচেই চালু হচ্ছে সেটি। এতে বিবেকানন্দের নামাঙ্কিত স্কলারশিপগুলি, কন্যারত্ন (আগে ছিল কন্যাশ্রী) এবং অন্যান্য স্কলারশিপগুলি থাকবে।
নয়া মেরিট স্কলারশিপের শর্তগুলি কী? বিদেশের প্রতিষ্ঠানে যে কোনো ডিসিপ্লিনে ভরতি হলেই স্কলারশিপ মিলবে। তবে ওই প্রতিষ্ঠানকে কিউএস গ্লোবাল র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম ১০০-এর মধ্যে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে সম্পূর্ণ টিউশন ফি এবং বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য বিমার টাকা দেবে সরকার। সূত্রের খবর, পোর্টাল চালু না হলেও ইতিমধ্যে বিভিন্নভাবে আবেদন আসতে শুরু করেছে। তার মধ্যে এমনও এক প্রার্থী আছেন, যিনি ৩৬০০০ ব্রিটিশ পাউন্ডের জন্য আবেদন করেছেন।
দেশের মধ্যে স্কলারশিপ পেতে গেলেও রয়েছে কিছু শর্ত। ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল ইম্পর্টেন্স বা সরকারের অধীন ইনস্টিটিউট অব এমিনেন্সে ভরতি হলে সম্পূর্ণ টিউশন ফি পাওয়া যাবে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের এনআইআরএফ র্যাঙ্কিংয়ে প্রথম ১০-এর মধ্যে থাকলেও ১০০ শতাংশ টিউশন ফি মিলবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের র্যাঙ্কিং যদি ১১ থেকে ২৫-এর মধ্যে হয়, তাহলে মোট টিউশন ফি’র ৯০ শতাংশ স্কলারশিপ আকারে দেওয়া হবে। আর ২৬ থেকে ৫০ র্যাঙ্কের মধ্যে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভরতি হলে টিউশন ফি’র ৭৫ শতাংশ টাকা পাবেন পড়ুয়া।
এই ধরনের বৃত্তির অনুমোদন দেওয়ার জন্য ন্যূনতম যুগ্মসচিব পর্যায়ের এক আধিকারিক দায়িত্বে থাকবেন। তাঁর অধীনে থাকবেন ডিপিআই এবং অন্যান্য আধিকারিক। তাঁদের নিয়ে তৈরি হবে একটি স্ক্রিনিং কমিটি। এই কমিটিই চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে। প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১০০ কোটি টাকা। তাই মনে করা হচ্ছে, কতজন এই স্কলারশিপ পাবেন, তার ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দিতে পারে সরকার। পরিস্থিতি দেখে সময়মতো বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তা জানাবে উচ্চশিক্ষা দপ্তর। সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান এবং ডিসিপ্লিন ভিত্তিক ঊর্ধ্বসামী ঠিক করা হতে পারে। বাজেট যদি নির্দিষ্ট থাকে এবং একই ধরনের কোর্স বা প্রতিষ্ঠানে যদি একাধিক দাবিদার থাকেন, তাহলে কাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, ঠিক করবে এই স্ক্রিনিং কমিটি। তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
স্কলারশিপ ব্যবস্থা সুচারুভাবে পরিচালনার স্বার্থে এ সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য পৃথক পৃথক হেল্প ডেস্ক থাকবে। বিদেশের পড়ুয়াদের সাহায্য করবে ইন্টারন্যাশনাল লেভেল সাপোর্ট। আর দেশের পড়ুয়াদের জন্য থাকবে ডোমেস্টিক লেভেল সাপোর্ট। তবে স্কলারশিপে হস্টেল ফি বা অন্যত্র থাকার খরচ, যাতায়াত, খাওয়াদাওয়া বাবদ খরচ দেওয়া হবে না।