• ‘আসলে আবেগ কখনো বদলায় না। শব্দ যাইহোক না কেন, আবেগের যে ভাষার উপর আমি খুব জোর দিই, সেটা হল স্নেহ ও ভালোবাসা’। ছোটোদের নিয়ে রিয়্যালিটি শো ‘ছানাগিরি’র ফ্লোরে দাঁড়িয়ে কথাগুলি বলছিলেন অপরাজিতা ঘোষ। শিশুর উচ্ছ্বাসে। এই প্রথম নয়, অভিনয় কেরিয়ার শুরুই করেছিলেন লাইভ অ্যাঙ্কারিং করে। মাঝে দীর্ঘ সময় ছোটো ও বড়োপর্দায় অসংখ্য চরিত্রে অভিনয়ের পর শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনায় সান বাংলার নতুন রিয়ালিটি শো ‘ছানাগিরি’র সঞ্চালকের পোডিয়ামে অপরাজিতা। পাঁচ থেকে পনেরো বছরের শিশু, কিশোরদের এই সব পেয়েছির আসরে দাঁড়িয়ে শৈশবের আবেগ ঝরে পড়ে অপরাজিতার গলায়। অভিনেত্রী বললেন, ‘আমি আমার ছানাগিরির বয়সে ফিরে গিয়েছি। শো-এর স্লোগান খেলব-শিখব-জিতব। সত্যিই আমি তো ওদের সঙ্গে খেলছি তো বটেই, প্রতিদিন প্রতি মূহর্তে আমি শিখছিও। জিতছি সকলের ভালোবাসা।’ অপরাজিতার উপলব্ধিতে, ‘এ যেন এক অন্য পৃথিবী। বহু শিশু ও তাদের বাবা-মায়েদের সঙ্গে পরিচয় হচ্ছে। উপলব্ধি করলাম, বাবা-মায়েরাই কেবল বাচ্চাদের জন্য ভাবেন না। বাচ্চারাও তাদের অভিভাবকদের জন্য ভাবে। রোজ স্কুলের টিফিনের জন্য সকালে মাকে উঠে কষ্ট করে রুটি করতে হয়। সেই জন্য এক পাঁচ বছরের বাচ্চা নানারকম উপহারের মধ্যে একটি রুটি মেকার তুলে মাকে দিয়েছে।’ অপরাজিতার ব্যাখ্যা, ‘প্রত্যেক প্রজন্মেই শৈশবের প্রকৃতি বদলায়। আমাদের বাবা-মায়েদের শৈশব, আমাদের শৈশব, আর এখনকার শৈশব কখনোই একরকম হতে পারে না। এই বদলে যাওয়া শৈশবের একটাই যোগসূত্র, সেটা হল সারল্য। বাচ্চাদের এই সরলতার কোনো বিকল্প হয় না।’ পরিচালক শুভঙ্কর বললেন, ‘এখানে কেউ কারোর প্রতিপক্ষ নয়। প্রতিযোগিতা নেই। সবাই উপহার পাবে দু’হাত ভরে। মাসের শেষে প্রথম তিন ছানা বা শো-এর শেষ লগ্নে সেরা তিন ছানার জন্য আর্থিক পুরস্কার থাকলেও অংশগ্রহণকারী প্রতিটি শিশুরই প্রাপ্তির ভাণ্ডার পরিপূর্ণ থাকবে।’ চার রাউন্ডে খেলায় বাচ্চাদের সঙ্গে তাদের মায়েরাও অংশগ্রহণ করছেন। মায়েদের প্রতি অপরাজিতার কাতর আবেদন, ‘মোবাইল নয় শৈশব থেকেই বাচ্চাদের হাতে বই তুলে দিন। ওরা পড়তে পারবে কি না জানি না, বইয়ের পাতাগুলো অন্তত ওলটাক। ছবি দেখুক। কল্পনার পৃথিবীতে ওদের স্বপ্ন দেখতে সাহায্য করুন।’



