Bartaman Logo
২১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লাভ নেই, দেবীর অলংকার তৈরি বন্ধ করলেন জেলার একমাত্র শোলাশিল্পী গোলাপ সরকার, অস্বাভাবিক বেড়েছে কাঁচামালের দাম

জীবন তো পাকস্থলিতে বাঁধা। শিল্পকে আঁকড়ে জীবন না চললে শিল্পীর কী হবে? একথায় হয়তো ক্ষতবিক্ষত করেছে শোলাশিল্পী গোলাপ সরকারকে। লাভ তো দূরের কথা, মজুরিটুকুও না ওঠায় শোলা দিয়ে দেবী দুর্গার অলংকার তৈরির কাজ বন্ধ করে দিলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার একমাত্র প্রবীণ শিল্পী গোলাপ।

লাভ নেই, দেবীর অলংকার তৈরি বন্ধ করলেন জেলার একমাত্র শোলাশিল্পী গোলাপ সরকার, অস্বাভাবিক বেড়েছে কাঁচামালের দাম
  • ২২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: জীবন তো পাকস্থলিতে বাঁধা। শিল্পকে আঁকড়ে জীবন না চললে শিল্পীর কী হবে? একথায় হয়তো ক্ষতবিক্ষত করেছে শোলাশিল্পী গোলাপ সরকারকে। লাভ তো দূরের কথা, মজুরিটুকুও না ওঠায় শোলা দিয়ে দেবী দুর্গার অলংকার তৈরির কাজ বন্ধ করে দিলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার একমাত্র প্রবীণ শিল্পী গোলাপ। কয়েক দশক তিনি দুর্গাপ্রতিমার নানা অলংকার তৈরি করছেন। নেশার টানে দেবীর অলংকার তৈরির কাজ আঁকড়ে ধরে থাকলেও এখন তিনি কার্যত কর্মহীন। দেবী দুর্গার আগমনের আগে শোলা শিল্পীর মন তাই ভারাক্রান্ত। তবে দেবীর অলংকার তৈরির কাজ বন্ধ করে দিলেও বিয়ের জন্য বর-কনের টোপর, মুকুট, কদমফুল তৈরি করবেন তিনি। তবে, সেটাও কতদিন করতে পারবেন, জানেন না শিল্পী।   

Advertisement

বুনিয়াদপুর শহরের গোলাপের আক্ষেপ, কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। শোলা বাজারে পাওয়া যায় না। এই প্রতিকূলতার মাঝে কাজ করেও লাভ না হওয়ায় হতাশ তিনি।
বছর ষাটেকের গোলাপের কথায়, আগে সহজেই বাজার থেকে শোলা পাওয়া যেত। দামও ছিল কম। এখন খরচ অনেক বেড়েছে। জিনিস বিক্রি করে মজুরিটুকুও ওঠে না। কীভাবে পেট চালাব? এই শিল্প ধরে রাখা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। জেলা শিল্পদপ্তর অবশ্য এই প্রবীণ শিল্পীর পাশে রয়েছে। দপ্তরের আধিকারিক স্বপন প্রামাণিক বলেন, শিল্পীর কী কী প্রয়োজন,  আমাদের জানালে সাহায্য করা হবে।
গোলাপের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, দেবী দুর্গার সাজসজ্জার শোলার অলংকার পাইকারি বিক্রি করে মেলে মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এতে মজুরিটুকুও থাকছে না। তার পরিবর্তে কদমফুল, শোলার মুখোশ তৈরি করছি। এসব বিক্রি করে কিছুটা লাভ হয়। তবে কতদিন থাকবে, সন্দিহান এই শোলা শিল্পী। 
সাংস্কৃতিক মহল মনে করছে, প্রবীণ গোলাপ দেবীর অলংকার তৈরির কাজ বন্ধ করে দিলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এক সময়ে কুশমণ্ডির আমিনপুরের ঊষা মালাকার দেবী দুর্গার সাজসজ্জা, অলংকার তৈরি করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর জেলায় একমাত্র শিল্পী শিল্পকে ধরে রেখেছেন। 
শোলা শিল্প শুধু অলংকারের কাজ নয়, বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। অনেকেই মনে করছেন, এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকার ও প্রশাসনের সদর্থক ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন। জেলা শিল্পদপ্তর  পাশে দাঁড়ালে দেবীর শোলার অলংকার তৈরি করবেন? উত্তর দিতে পারছেন না গোলাপ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ