Bartaman Logo
২৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাংলার ৩৩ জন পর্যটক কী অবস্থায়, খবর নেই, চন্দননগরের বৃদ্ধা নিখোঁজ, হদিশ মেলেনি মুকুল রায়ের পুত্রবধূরও

স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই অবসরপ্রাপ্ত। দু’জনেই ভ্রমণপিপাসু। এতদিন তাঁরা যেখানেই বেড়াতে গিয়েছেন, একসঙ্গে গিয়েছেন।

বাংলার ৩৩ জন পর্যটক কী অবস্থায়, খবর নেই, চন্দননগরের বৃদ্ধা নিখোঁজ, হদিশ  মেলেনি মুকুল রায়ের পুত্রবধূরও
  • ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই অবসরপ্রাপ্ত। দু’জনেই ভ্রমণপিপাসু। এতদিন তাঁরা যেখানেই বেড়াতে গিয়েছেন, একসঙ্গে গিয়েছেন। তবে এবার বয়সজনিত কারণে শারীরিক অবস্থা উপযুক্ত না হওয়ায় মান সরোবর ভ্রমণের অনুমোদন পাননি প্রবীণ স্বামী। তাই একাই গিয়েছেন স্ত্রী। এই প্রথম স্বামীকে ছাড়া ঘুরতে গিয়ে নেপালে হড়পা বানের কবলে পড়ে নিখোঁজ চন্দননগরের বৃদ্ধা। নাম শিপ্রা রায় (৬১)। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকার খোঁজ না মেলায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সত্তরোর্ধ্ব স্বামী। নবান্ন সূত্রে পাওয়া শেষ খবর অনুযায়ী, বাংলার ৩৩ জনের খোঁজ এখনও মেলেনি। কলকাতার বাঁশদ্রোণী থেকে নেপাল ট্যুরে যাওয়া এক গৃহশিক্ষিকাও নিখোঁজ। গত পাঁচ বছর ধরে মান সরোবরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন রীনা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই স্বপ্ন এবার পূরণ করতে নেপালে গিয়েছেন তিনি। সেখানে তিনি যে ভয়ানক বিপর্যয়ের কবলে পড়বেন, তা কল্পনাও করতে পারছে না পরিবার।

Advertisement

বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক সরকারি অনুষ্ঠানে বলেন, স্বরাষ্ট্রদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলার ৩৩ জন নেপালে গিয়েছেন। তার মধ্যে একজনের সন্ধান মিলেছে। বাকি ৩২ জন এখনও নিখোঁজ। তাঁদের খোঁজ পেতে নেপালে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন নবান্নের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের আধিকারিকরা। একইসঙ্গে, নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে নবান্ন। তাঁদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে। 
বারাকপুর কমিশনারেট সূত্রে খবর, প্রয়াত রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ও গিয়েছিলেন নেপালে। ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে মান সরোবর যাত্রা করেন তিনি। নিখোঁজের স্বামী শুভ্রাংশু রায় বলেন, ‘আমার স্ত্রী একাই গিয়েছিলেন। প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’ 
দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে পাঁচ পর্যটক ক’দিন আগে নেপালে যান। সোনারপুরের মহিলা লোপামুদ্রা কুণ্ডুর বেড়ানোর নেশা। তাঁর স্বামী শুভ্রজিৎ সিনহা রায় বলেন, স্ত্রী কখনও একাই বেরিয়ে পড়তেন, কখনও পরিবারের সঙ্গে যেতেন। বিপর্যয়ের পর আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না তাঁর সঙ্গে। উৎকণ্ঠায় রয়েছে গোটা পরিবার। ডায়মন্ডহারবারের শিক্ষিকা কেয়া প্রামাণিকের মান সরোবর যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। সেখানে গিয়ে এভাবে বিপর্যয় নেমে আসবে, ভাবতে পারছে না পরিবার। নেপালে ভ্রমণে গিয়ে নিখোঁজ হুগলির এক দম্পতি সহ চারজন। তারমধ্যে দু’জন উত্তরপাড়া, দু’জন তারকেশ্বর ও একজন চন্দননগরের বাসিন্দা। তারকেশ্বরের চাউলপট্টির বাসিন্দা স্নেহাশিস দত্তর সঙ্গে পরিবার যোগাযোগ করতে পারেনি। তিনি নেপালে একটি সংস্থার সঙ্গে সফরে গিয়েছিলেন। ট্রেকিং করতে ভালোবাসেন স্নেহাশিস। সম্প্রতি তিনি দ্বাদশ জোর্তিলিঙ্গ ভ্রমণ সম্পন্ন করেছিলেন। তিনি নিখোঁজ হওয়ায় উদ্বেগে পরিবার।
নিউটাউনের প্রবীণ দম্পতি দেবব্রত রায়চৌধুরী ও লেখা রায়চৌধুরী নেপালে গিয়ে নিখোঁজ। দেবব্রতবাবু অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংককর্মী। তাঁদের ছেলে দিল্লিতে কর্মরত। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ফিরেছেন কলকাতায়। বুধবার সকালে হোয়াটসঅ্যাপে বেয়াই জয়জিৎ সিনহাকে সূর্যোদয়ের ছবি পাঠিয়েছিলেন তাঁরা। তারপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ নেই। কৈলাস-মান সরোবর যাওয়ার জন্য ২১ আগস্ট রওনা হয়েছিলেন তাঁরা। দেবব্রতবাবুর প্রতিবেশী দীপঙ্কর নন্দী বলেন, আমরা খুবই উদ্বেগে আছি। ১৯৮৫ সালে তাঁদের হানিমুন ট্রিপে আমরা সাক্ষী ছিলাম। ২০২৫ সালে মহাকুম্ভেও আমরা একসঙ্গে গিয়েছিলাম। জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি, বর্ধমান, দুর্গাপুর, খড়্গপুর থেকেও নেপালে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছে বেশ কয়েকটি পরিবার। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ