Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আর মাটির প্রদীপের চাহিদা নেই, কাজে ভাটা পালপাড়ায়

আগে দীপাবলিতে বাড়িঘর আলোয় সাজিয়ে তুলতে মাটির প্রদীপের উপরই ভরসা করতেন মানুষ।

আর মাটির প্রদীপের চাহিদা নেই, কাজে ভাটা পালপাড়ায়
  • ১৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: আগে দীপাবলিতে বাড়িঘর আলোয় সাজিয়ে তুলতে মাটির প্রদীপের উপরই ভরসা করতেন মানুষ। তাই কালীপুজোর আগে করিমপুরের শিকারপুরে মৃৎশিল্পীরা প্রদীপ তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে হাজারো ধরনের বৈদ্যুতিক আলোকমালা। তার জেরে শিকারপুরের পালপাড়ায় কাজে ভাটা পড়েছে।

Advertisement

শিকারপুরের মৃৎশিল্পী সুভাষ পাল বলেন, আগে দুর্গাপুজো শেষ হতেই আমরা মাটির প্রদীপ তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়তাম। কারও কাছে ১০হাজার, কারও কাছে পাঁচহাজার প্রদীপের বায়না আসত। সকাল থেকেই কাজে লেগে পড়তে হতো। প্রদীপ তৈরির পর বাড়ির মহিলা ও শিশুরা তা উঠোনে রোদে শুকাতে দিত। প্রদীপ শুকানোর পর তা পুড়িয়ে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হতো। এখন মাটির প্রদীপের চাহিদা অনেকটাই কমে গিয়েছে। তাই আমরা এসময় মাটির অন্য সামগ্রীও তৈরি করছি। আমি আগে কালীপুজোর আগে ১০হাজার প্রদীপ তৈরি করতাম। এবছর মাত্র তিনহাজার প্রদীপ গড়েছি।
অপর মৃৎশিল্পী সুকুমার পাল বলেন, আগে মাটি ও জ্বালানি প্রায় বিনামূল্যে পাওয়া যেত। কিন্তু এখন সবই টাকা দিয়ে কিনতে হয়। কিন্তু প্রদীপের দাম বাড়ানো যাচ্ছে না। তার উপর বৈদ্যুতিক আলোকমালাও খুব সস্তা হওয়ায় ক্রেতারা ওইদিকে ঝুঁকছেন। ফলে আমরা সমস্যায় পড়ছি।
শিকারপুরের এক স্কুল শিক্ষক বলেন, ছোটবেলায় প্রদীপ তৈরি দেখার জন্য মৃৎশিল্পীদের বাড়িতে যেতাম। দীপাবলিতে বাড়ি সাজাতে প্রদীপ ও মোমবাতিই ভরসা ছিল। এখন মোমবাতি ও প্রদীপের আদলে তৈরি বৈদ্যুতিক আলোকমালা পাওয়া যাচ্ছে। এই আলোকমালা একবার কিনলে বেশ কয়েকবছর ব্যবহার করা যায়। এছাড়া, আগে অনেক গ্রামেই বিদ্যুৎ-সংযোগ ছিল না। এখন খুব প্রত্যন্ত গ্রামেও বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ-সংযোগ রয়েছে। তাই প্রদীপের বদলে বৈদ্যুতিক আলোকমালার দিকেই বেশিরভাগ মানুষ ঝুঁকছেন। করিমপুরের এক বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম  বিক্রেতা প্রবীণ রায় বলেন, বাজারে কম দামে নানারকমের আলোকমালা পাওয়া যাচ্ছে। দীপাবলির আগে তা ভালোই বিক্রি হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ