নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: উদ্বোধনের পর এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও হাওড়া জেলা আদালতের বিচার ভবনের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজ শুরু নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। অথচ প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার পর ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই সাততলা ভবনের উদ্বোধন হয়েছিল। সেখানে একাধিক আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলেও এখনও পানীয় জল, শৌচালয়, মহিলাদের পৃথক বসার জায়গা ইত্যাদি পরিকাঠামো তৈরি হয়নি বলে অভিযোগ আইনজীবীদের। কথা ছিল, প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধনের ছ’মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হবে। কিন্তু এখনও এ বিষয়ে সবুজ সংকেত না মেলায় ক্ষোভ বাড়ছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ দ্রুত শুরু করে বিচার ভবনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি তুলেছেন আইনজীবীরা।
বর্তমানে হাওড়া আদালতের বিচার ভবনে চারটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, পকসো কোর্ট এবং থার্ড ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট চলছে। আইনজীবীদের দাবি, নতুন ভবনে আদালত চালু হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়ায় কিছুটা গতি এলেও সেখানে আইনজীবী, ল’ ক্লার্ক এবং সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। প্রতিটি আদালতে মহিলা আইনজীবীদের জন্য চেঞ্জিং রুম থাকার নিয়ম থাকলেও এখানে সেই ব্যবস্থা নেই। নেই সাধারণ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শৌচালয় ও পানীয় জলের ব্যবস্থা। মহিলাদের পৃথক বসার জায়গাও নেই। পাশাপাশি বিচার ভবনে একটি সেমিনার হলের প্রয়োজন রয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজে এই সমস্ত পরিকাঠামোকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
আইনজীবীদের আরও অভিযোগ, দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের জন্য প্রথমে প্রায় ১০০ জন আইনজীবী এবং ল’ ক্লার্কের সেরেস্তা অন্যত্র সরিয়ে তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার কথা ছিল এগজিকিউটিভ কমিটির। সেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। ফলে নির্মাণকাজ কবে থেকে শুরু হবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তাঁদের দাবি, প্রশাসনিক জট কাটিয়ে দ্রুত কাজ শুরুর উদ্যোগ নিতে হবে। হাওড়া ক্রিমিনাল কোর্ট বার লাইব্রেরির সভাপতি সমীর বসু রায়চৌধুরী বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে ১০ তলা ভবন তৈরির কথা থাকলেও এখনও সাত তলা অবধি নির্মাণ হয়েছে।’ তাঁর অভিযোগ, ‘শুধু প্রশাসনিক তৎপরতার অভাবেই সেই কাজ আটকে রয়েছে। প্রথম পর্যায়ের ভবন চালু হলেও সেখানে অধিকাংশ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নেই। সেগুলি দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।’
সমীরবাবুর দাবি, বর্তমানে হাওড়া জেলা আদালতে পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, পঞ্চম অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জজ কোর্ট এবং ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে। একইসঙ্গে ওইসব আদালতের জন্য জায়গাও অপর্যাপ্ত। বিচার ভবনের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হলে এই সমস্যা অনেকটাই মিটবে। আইনজীবীদের হুঁশিয়ারি, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু না হলে তাঁরা আন্দোলনে নামবেন। নিজস্ব চিত্র