সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: এবার সরাসরি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বচসা বেঁধে গেল নির্বাচন কমিশনের। বিহারের স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) ইস্যুতে বৃহস্পতিবারও উত্তাল ছিল সংসদ। তারই মধ্যে বিরোধিতার ঝাঁঝ বাড়াতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা কর্ণাটকের প্রসঙ্গ টেনে তোপ দাগলেন কমিশনের বিরুদ্ধে। বললেন, ‘কর্ণাটকে ভোট জালিয়াতি করেছে নির্বাচন কমিশন। ১০০ শতাংশ নিশ্চিত প্রমাণ রয়েছে আমাদের হাতে। কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না। ভোটার তালিকায় কারচুপি করছে। একদিন সব ফাঁস করে দেব।’ এটা যে ফাঁকা আওয়াজ নয়, তা বোঝাতে রীতিমতো উদাহরণও টানেন তিনি। সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে আরও বলেন, হাজার হাজার নতুন ভোটারের নাম নথিভুক্ত হচ্ছে। তাদের কারও বয়স ৪৫ বছর, তো কারও ৫০, এমনকী ৬৫ বছর বয়সিরাও রয়েছে। উল্টোদিকে আর নাম বাদ যাচ্ছে হাজার হাজার। কমিশনের এই কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আনব। কেন ওরা নিরপেক্ষ কাজ করছে না, জবাব দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন পালিয়ে বাঁচবে মনে করলে, ভুল ভাবছে!
এরপরেই সরাসরি বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে পাল্টা সাফাই গাইতে নামে কমিশনও। ভারতের নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র আশিস গোয়েল বলেন, ‘কর্ণাটক ইস্যুতে রাহুল গান্ধীর হুমকি মোটেই গ্রাহ্য নয়। ২০২৪ সালের ভোটার তালিকা নিয়ে সেরাজ্যে একটিও অভিযোগ জমা পড়েনি কমিশনের কাছে। কোনও আইনি পদপেক্ষও কেউ নেয়নি। কর্ণাটক হাইকোর্টে নির্বাচন সংক্রান্ত যে ১০টি মামলা বিচারাধীন, তার মধ্যে কংগ্রেসের কোনও পরাজিত প্রার্থী নেই। তাহলে কীসের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক সংস্থাকে এভাবে ভিত্তিহীন হুমকি দেওয়া হচ্ছে? তাও এখন, এতদিন পর?’
যদিও তাতে থামছেন না রাহুল গান্ধী। শুধু তিনি নন, মোদিবিরোধী মহাজোট ইন্ডিয়াও এসআইআর ইস্যুতে প্রতিবাদের পথ থেকে সরবে না বলেই ঠিক করেছে। বিরোধীদের চাপে কমিশন অবশ্য জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোটার তালিকা শুধরে নেওয়ার সময় রয়েছে। প্রকৃত ভোটারদের বাদ দেওয়া কমিশনের উদ্দেশ্য নয়।
বিহারে ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধনের বিরুদ্ধে এদিন লোকসভায় ওয়েলে নেমে চলে বিক্ষোভ। দফায় দফায় সভা মুলতুবি হয়ে যায় অধিবেশন। সংসদের মধ্যে তো বটেই, চত্বরে পর্যন্ত চলেছে বিক্ষোভ। আর সেই কর্মসূচির নেতৃত্ব দিলেন সোনিয়া গান্ধী স্বয়ং। কংগ্রেস, তৃণমূল, আরজেডি, ডিএমকে, জেএমএম সহ ইন্ডিয়ার প্রায় সব দলের সদস্যই প্রতিবাদে স্লোগান দেন। বিরোধীদের হাতে ছিল ‘এসআইআর: গণতন্ত্রের উপর আঘাত’ লেখা বিশাল ফেস্টুন। রাজ্যসভায় অভিনব কায়দায় স্লোগান তুলে সভা উত্তাল করেন তৃণমূলের দোলা সেন, সাগরিকা ঘোষরা। মন্ত্রী যে মাইক ব্যবহার করে বক্তব্য রাখেন, সেখানে গিয়ে চিৎকার করেন ‘এসআইআর ওয়াপস লো!’ শুক্রবারও এই প্রতিবাদ চলবে।