সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাঠফাটা গরমে অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে। অফিস বা বাজারে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে মানুষকে হাঁসফাঁস করতে হচ্ছে। প্লাস্টিকের বোতলে রাখা জল গরম হয়ে যাচ্ছে। ফলে পিপাসা পেলে সেই জল খেয়ে তৃপ্তি আসে না। তাই এবার ভরসা ‘মাটির ফ্রিজ’! কাটোয়া শহরে মাত্র ১০০টাকায় মাটির কুঁজো, বোতল বিক্রি হচ্ছে। গুজরাট, রাজস্থানে তৈরি একটু বেশি দামের কারুকার্য করা মাটির বোতলও ভালো বিক্রি হচ্ছে। চাহিদামতো এই বোতলের জোগান দিতে ব্যবসায়ীরা হিমসিম খাচ্ছেন।
এই জেলা তো বটেই, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম জেলা থেকেও অনেকেই মাটির বোতল কিনতে কাটোয়ায় আসছেন। রঙবেরঙের কারুকার্য করা মাটির বোতল ও কুঁজো কিনতে মানুষের উৎসাহ দেখার মতো। বিশেষত মাটির এক লিটারের বোতল, বড় কুঁজো ভালো বিক্রি হচ্ছে।
কলকাতা থেকে এই মাটির বোতল নিয়ে আসেন কাটোয়ার দশকর্মা ব্যবসায়ীরা। তারপর নিজেরা বোতলের ছিপি তৈরি করে বাজারে বিক্রি করেন। পোড়ামাটির বোতলের গায়ে রং-তুলি দিয়ে নানা নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আবার কিছু বোতলে লেপা মাটির রং দিয়ে নকশা আঁকা হলেও তা ক্রেতাদের নজর কাড়ছে। এবার মাটির তৈরি ঢাকনা সহ কুঁজো ভালো বিক্রি হচ্ছে। দামও নাগালের মধ্যে। এক-একটি ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। মাটির কলসির চাহিদাও অনেকটাই বেড়েছে। মাটির জিনিসে জল রাখলে তা অনেক ঠাণ্ডা থাকে। সেজন্য চাহিদা এত বেশি।
কাটোয়ার দশকর্মা ব্যবসায়ী সঞ্জীব পাল বলেন, বছরখানেক আগে থেকে মাটির বোতল বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রথমে একটি বোতল এনে দোকানে রেখেছিলাম। এখন তো মাটির বোতলের খুব চাহিদা। গুজরাত, রাজস্থান থেকে খুব সুন্দর মাটির বোতল আসছে। সেগুলির দাম অবশ্য একটু বেশি।
বিশেষজ্ঞরা জানান, পোড়ামাটির বোতলে রাখা জল খাওয়া শরীরের পক্ষেও উপকারি। পোড়ামাটির বোতলে জল রাখলে তার সঙ্গে এমন কিছু উপাদান যোগ হয়, যাতে শরীরে উপকার হয়। হজমের সমস্যা কমে যায়। কাটোয়া শহরের বাসিন্দারা জানান, মাটির বোতলে জল খাওয়া একটা আলাদা অনুভূতি। এই গরমে বাইরে যাতায়াতের সময় মাটির বোতলেই জল নেওয়া ভালো। কারণ প্লাস্টিকের বোতলে রাখা জল তাড়াতাড়ি গরম হয়ে যাচ্ছে।