Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফ্লাইওভার রয়েছে, রেলগেট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষের

ফ্লাইওভার রয়েছে, রেলগেট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষের
  • ৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ফ্লাইওভার রয়েছে। তাই আর প্রয়োজন নেই রেলওয়ে ক্রসিংয়ের। এই যুক্তিতেই রানাঘাটের ৫৫নম্বর রেলগেট অর্থাৎ ‘মিশন গেট’ তুলে দিতে তৎপর পূর্ব রেল। কিন্তু, জাতীয় সড়কের ফ্লাইওভার দিয়ে কীভাবে সাইকেল, পথচারী, টোটো অথবা রিকশ চলাচল সম্ভব? বিকল্প পথ না দিয়ে রেলগেট কোনওভাবেই তোলা যাবে না। রেল ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথ পরিদর্শনে সাফ জানালেন রাজ্য প্রশাসনের কর্তারা। মঙ্গলবার রাজ্য প্রশাসনের তরফে তোলা এই যুক্তিতে একপ্রকার সম্মতি জানিয়ে ‘মিনিটস’ সই করেছে রেল ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

৫৫নম্বর রেলগেট বা মিশন গেট তুলে দিতে চেয়ে আগেই নদীয়ার জেলাশাসক, রানাঘাটের মহকুমা শাসক সহ রাজ্য প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছিল রেল কর্তৃপক্ষ। যুক্তি হিসেবে খাড়া করা হয়েছিল, ১২নম্বর জাতীয় সড়কের উড়ালপুল গিয়েছে ওই রেলগেটের উপর দিয়ে। ফলে নীচে এই অতিরিক্ত ক্রসিংয়ের যৌক্তিকতা নেই। কিন্তু, দেখা গিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই গেট বন্ধ করে দিলে সমস্যায় পড়তে পারে কয়েক হাজার মানুষ। বিশেষত ওই চত্বরেই রয়েছে একাধিক স্কুল। রেলগেট বন্ধ করে দেওয়া হলে, মানুষকে উড়ালপুলে উঠতে হবে কলেজের সামনে থেকে, যা নামছে বেগোপাড়ায়। প্রতিদিন এক-দেড় কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ বাড়তি ঘুরতে হবে সকলকে। তাছাড়া, জাতীয় সড়কের উড়ালপুলে ফুটপাত নেই। নেই সাইকেল নিয়ে যাওয়ার অনুমতিও। নিত্যদিন স্কুলগুলি সহ আশপাশের এলাকায় হেঁটে, সাইকেল, টোটো অথবা রিকশায় যাঁরা যাতায়াত করেন, তাঁরা চলাচল করবেন কোথা দিয়ে? সেই প্রশ্নই তুলছেন স্থানীয়রা। 
জাতীয় সড়কে সাইকেল অথবা টোটো উঠলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকবেই। এমতাবস্থায় মঙ্গলবার কেন্দ্র ও রাজ্যের একাধিক কর্তা পরিদর্শন করেন। উপস্থিত ছিলেন রানাঘাটের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, রানাঘাট-২ বিডিও, পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার, ওসি রানাঘাট ট্রাফিক, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ইঞ্জিনিয়ার এবং রেলের সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার। মূলত পাঁচটি সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। সেগুলি হল, রেলগেট তুলে দেওয়ার ফলে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে সমস্যা হবে। রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে যাতায়াতেরও অসুবিধা হবে। একাধিক ধর্মীয়স্থানে প্রতিদিনের প্রার্থনার সময় যাতায়াতে সমস্যা হবে। পথচারী এবং ছোট গাড়ির চলাচল ব্যাহত হবে রেলগেট বন্ধ করে দিলে। স্বল্প উচ্চতা সম্পন্ন সাবওয়ে অথবা বিকল্প পথ তৈরি করে তবেই রেলগেট বন্ধের ব্যবস্থা করতে হবে। এরপর বর্তমান পরিস্থিতিতে এই গেট যে বন্ধ করা সম্ভব নয়, তা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে দু’পক্ষের সই করা ‘মিনিটস’-এর কাগজে।
রানাঘাট পুরসভার সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায় বলেন, উড়ালপুল হলেও এই অবস্থায় রেলগেট কোনওভাবেই বন্ধ করা সম্ভব নয়। অন্তত আধ ডজন স্কুল রয়েছে রেললাইনের পূর্ব এবং পশ্চিমপাড়ে। তাই বিকল্প হিসেবে আমরা একটি স্বল্প উচ্চতা সম্পন্ন সাবওয়ের দাবি জানিয়েছি। সাবওয়ে হলেই সমস্যা মিটবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ