Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পলসন্ডা বালিকা বিদ্যালয়ে ছাত্রীর সংখ্যা ৬১৮, শিক্ষিকা মাত্র দু’জন

পলাশীপাড়া থানার পলসন্ডা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ আছে, বহু ছাত্রীও আছে। অথচ স্থায়ী শিক্ষিকা আছেন মাত্র দু’জন।  তাঁদের একজন ইংরাজি ও অন্যজন বিজ্ঞান পড়ান।

পলসন্ডা বালিকা বিদ্যালয়ে ছাত্রীর সংখ্যা ৬১৮, শিক্ষিকা মাত্র দু’জন
  • ১০ জুলাই, ২০২৫ ১৫:০৭
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তেহট্ট: পলাশীপাড়া থানার পলসন্ডা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ আছে, বহু ছাত্রীও আছে। অথচ স্থায়ী শিক্ষিকা আছেন মাত্র দু’জন।  তাঁদের একজন ইংরাজি ও অন্যজন বিজ্ঞান পড়ান। স্কুলে কোনও পার্শ্ব শিক্ষক বা শিক্ষিকা নেই। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত এই স্কুলে গ্রামের উচ্চ শিক্ষিত মেধাবি ছেলেমেয়েরাই ছাত্রীদের নামমাত্র পারিশ্রমিকে পড়াচ্ছেন। গ্রামবাসীরা  স্কুলে স্থায়ী শিক্ষকের জন্য আবেদন জানালেও এখনও পর্যন্ত মাত্র দুজনই শিক্ষিকা পেয়েছে। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পলসন্ডা সহ আশেপাশের এলাকায় উচ্চ বিদ্যালয় থাকলেও ছিল না কোনও বালিকা বিদ্যালয়। তাই চাহিদা ছিল একটি বালিকা বিদ্যালয়ের।  দীর্ঘদিন সেই দাবি এলাকার বাসিন্দারা জানালেও তা পুরণ হয় তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর। ২০১৫ সালে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের হাত ধরে এখানে একটি জুনিয়র গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়। সেই সময় এই স্কুল শুরু হয়েছিল ৩৪ জন ছাত্রীকে নিয়ে। তখন স্কুলে ছয়টি শিক্ষক পদ তৈরি হয়েছিল। তবে, তখন কোনও স্থায়ী শিক্ষক ছিল না। 
ধীরে ধীরে স্কুলে ছাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ২০১৯ সালে এই স্কুলকে মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত করে শিক্ষা দপ্তর। তখনও কোনও স্থায়ী শিক্ষক-শিক্ষিকা ছিল না। এরপর ২০২২ সালে এই স্কুল উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর জন্য মাত্র দু’জন স্থায়ী শিক্ষিকা এসেছেন। স্কুলে কোনও পার্শ্ব শিক্ষক ও শিক্ষিকা নেই। মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য বাসিন্দারা গ্রামের উচ্চ শিক্ষিত মেধাবি যুবক ও যুবতীদের স্কুলে পড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন। এখন এলাকার ছ’জন যুবক-যুবতী ছাত্রীদের পড়াচ্ছেন। বর্তমানে একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক স্কুলের অতিথি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। 
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই স্কুলে বর্তমান ছাত্রীর সংখ্যা ৬১৮।  স্কুলে পড়ান গ্রামের মোকাদ্দেস হোসেন, সারজিনা খাতুন, শেলি বিশ্বাস, শ্রাবণী খাতুন, সেলিনা খাতুন ও হাসিবুল শেখ।  তাঁরা কেউ ইংরাজি, কেউ ভূগোল, কেউ দর্শন কেউ বা বাংলায় অনার্স পাশ করেছেন। নিজেদের গ্রামের স্কুলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তাঁরা পড়ান। এঁদের কাউকে ১৫০০ আবার কাউকে ২০০০ টাকা সাম্মানিক দেওয়া হয়। ওই টাকা ছাত্রীদের ভরতির টাকা থেকে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা বলেন, আমরা না পড়ালে শিক্ষকের অভাবে মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যেত। তাই এলাকার ছাত্রীদের কথা ভেবে আমরা এই স্কুলে পড়াই। 
এলাকার বাসিন্দা চইনুদ্দিন শেখ বলেন, স্কুলে মোট আটজন শিক্ষকের পদ অনুমোদিত হলেও আমরা মাত্র দু’জন শিক্ষিকা পেয়েছি। নেই কোনও অঙ্কের  শিক্ষক। এই পরিস্থিতিতে আমরা গ্রামের মেধাবি ছেলেমেয়েদের অনুরোধ করেছিলাম। তাঁরাই পড়াচ্ছেন। আশেপাশের অনেক স্কুলে বেশি শিক্ষক আছেন। তাঁদের যদি ডেপুটেশনে এই স্কুলে দেওয়া হয় তবে ছাত্রীদের উপকার হতো। শিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ