নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: জগদ্ধাত্রী পুজো ঘিরে মেদিনীপুর শহরে উন্মাদনা তুঙ্গে। থিমের লড়াইয়ে একে অপরকে টেক্কা দিচ্ছে বিভিন্ন ক্লাব। মেদিনীপুর শহরে কারও পুজোর থিম ‘বিদ্যাসাগর’ আবার কারও থিম ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’। জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলে বিভিন্ন পুজোর মণ্ডপে মানুষের ঢল নামে। একইসঙ্গে বহু পুজোর উদ্বোধন হয়। বিভিন্ন ক্লাবের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া সহ বিশিষ্টরা। পুজো উপলক্ষ্যে বিভিন্ন মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। বিক্রি ভালো হওয়ায় খুশি ছোট ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর শহরের এলাকার স্টার অ্যাথলেটিক ক্লাবের পুজোর থিম-বাংলা ও বাঙালির শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের পথিকৃৎ পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাঁর বিভিন্ন অবদান মণ্ডপসজ্জায় তুলে ধরা হয়েছে। এবছর তাদের পুজোর ২৬তম বর্ষে পড়ল। বুধবার বিকেলে এই পুজোয় মানুষের ঢল নামে। পুজো কমিটির সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, এবছর রেকর্ড ভিড় হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসছেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসারের অবদান যুগের পর যুগ ধরে মানুষ মনে রাখবেন। তাই এই থিম বেছে নেওয়া হয়েছে।
মেদিনীপুর শহরের তাঁতিগেড়িয়া এলাকার আমরা সবাই ক্লাবের পুজোর থিম ‘ব্যাং’। বিভিন্ন ধরনের ব্যাং ও ব্যাঙের ছাতা দিয়ে মণ্ডপসজ্জা করা হয়েছে। মূলত প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার বার্তা দিতেই এই থিম বেছে নেওয়া হয়েছে। এদিন সন্ধ্যায় মণ্ডপে ভিড় জমায় কচিকাঁচারা। পুজো কমিটির সভাপতি সত্যসুন্দর পড়িয়া বলেন, প্রতি বছরই দর্শনার্থীরা ভিড় জমান। এবারও সকলে আসবেন। এই এলাকায় দু’টি বড় পুজো হচ্ছে।
মেদিনীপুর শহরের ধর্মা এলাকার উত্তরণ ক্লাবের পুজোর থিম ‘মহাকুম্ভ’। চতুর্থ বর্ষের এই পুজো ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে। আবির্ভাব ক্লাবের এবছরের থিম ‘যুদ্ধ নয় শান্তি চাই’। এবছর তাদের পুজোর ১৬তম বর্ষ। ক্ষুদিরাম নগর এলাকায় এই পুজো ঘিরেও উন্মাদনা তুঙ্গে। এই ক্লাবের পুজো মণ্ডপে বিভিন্ন যুদ্ধ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া বলেন, এখানকার পুজোয় উপস্থিত থাকতে পেরে আপ্লুত। মানুষের পাশে সর্বদা আছি। মেদিনীপুরের কর্নেলগোলার একটি প্রতিমা।-নিজস্ব চিত্র