পার্থসারথি গুহ: অনেক ভাবনা চিন্তা করেই সিদ্ধান্তটা নিলাম। যদিও তাতে অনুঘটক হয়েছে এক দৈব সংযোগ। একে ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। কিন্তু ওদের উত্তর কিছুতেই মনঃপুত হয়নি। আসলে ওরা চায় না আমার জীবনটা একটু পাল্টে যাক। একঘেয়ে গতানুগতিকতা থেকে বেরিয়ে আসি। হিংসে, হিংসে। হিংসেতে জ্বলে পুড়ে খাঁক হচ্ছে সব। আরে বাবা, এত কিছু না বলে নিজেরাও বাহাদুরি দেখালেই পারিস! তা না। খালি আমার চুলের থুড়ি পরচুলার পিছনে পড়ে আছে। আমি কি জানি না? বুঝি না কিছু? আরে বাবা দেওয়ালেরও কান আছে! তাছাড়া আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়টা প্রবল। এই মুহূর্তে আমার সেই ইন্দ্রিয় নামক সিসি টিভি জুম করছে পাড়ার মোড়ের ঝন্টুদার চায়ের দোকানে।
ওই তো সিনিয়র মোস্ট পুলকেশ চাটুজ্জ্যে মুখ খুলেছেন। যিনি সরব না হলে এই রতনপুরে একটা পাতাও নড়ে না বলেই প্রবাদ। তা কী বলছেন সেই পুলকেশবাবু? নাকি পুলকেশ দাদু বলব? সামনে বলা যায় না অবশ্য। রেগেমেগে বলে উঠবেন, ‘হতচ্ছাড়া! দাদা বলতে পারিস না। এখনও তোদের চেয়ে অনেক ইয়ং আমি। আরে হাঁ করে কী দেখছিস? আমার মনের বয়স এখনও যৌবন-পুকুরে সাঁতার কাটছে।’
‘খুড়ো বয়স তো তোমার বায়ো কি তেয়ো।’ পাশ থেকে টিপ্পনি কাটে পাড়ার এক চ্যাংড়া ছোড়া। ব্যস তা নিয়ে কাইকিচির চলতে থাকে। এ তো রতনপুরের রোজনামচা।
আজ অবশ্য সাবজেক্টটাই আলাদা। ওই যে এতক্ষণ ভণিতা করছিলাম।
আমার পরচুলা নিয়ে সবাই আদাজল খেয়ে পড়েছে। উৎসাহ দেওয়া দূরের কথা, রীতিমতো ব্যঙ্গবিদ্রূপ করায় ব্যস্ত।
পুলকেশ চাটুজ্জ্যে, রমনী ধর, বিজয় পাল, শঙ্কর সাহা সবাই ছিঃ ছিঃ করছে।
বিজয় পাল তো আবার এককাঠি ওপরে। সবার মাঝে নাম কিনবে বলে বসেছে, ‘টাকলাটা পুরো বিয়ে পাগল হয়ে উঠেছে। ভেবেছে পরচুলা পরে ছাদনাতলায় যাবে। শেষে না পাগলাগারদে যেতে হয়। এই আমি বলে দিলুম।’
সমবেত পাবলিকের অট্টহাসিতে তখন কানপাতা দায়।
চায়ের দোকানের মালিক ঝন্টুদাও কম যায় না।
বলে উঠল, ‘বিজয়দা যা বলেছ। দাঁড়াও তোমায় একটা ইস্পেশ্যাল চা খাওয়াই আগে।’ বাদবাকিরাও পিছিয়ে থাকে কী করে!
ওরাও কপচে উঠেছে, ‘ঝন্টু আমরা বাদ? একযাত্রায় পৃথক ফল হয় কী করে?’
চুল পরে আমি যেন সাংঘাতিক অপরাধ করে বসেছি।
দেখুন তো! এতক্ষণ ধরে আপনাদের কানের মাথা খেয়ে যাচ্ছি সমানে। আসল কথাটাই বলা হচ্ছে না। আজকের দিনে কাঁহাতক কারও ধৈর্য থাকে। আমার নামটাও তো জানেন না আপনারা! অবশ্য কেউকেটা নই। যে জানতেই হবে। তাও যখন নিজের জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেয়ার করছি আপনাদের সঙ্গে তখন নাম জানাটা জরুরি বইকি।
আমি সঞ্জয় শীল। রতনপুরের আদি বাসিন্দা। মানে ছোট থেকেই এই ধ্যাড়ধ্যাড়ে গোবিন্দপুর মার্কা রতনপুর আমার নিবাস। ধ্যাড়ধ্যাড়ে বলছি এজন্যই কারণ রতনপুর কলকাতার কাছাকাছি একটা মফস্সল এলাকা হলেও শহুরে সভ্যতা এখানে কেমন যেন থমকে গিয়েছে। অনেকের বেশ লাগে। কিন্তু আমাদের মতো পাবলিকের এখানে মন টেকে না। অবসাদের আঁচলে ঢেকে থাকা রতনপুর অসহ্য হয়ে ওঠে। তাও কিছু করার নেই। মুখ বুজে থেকে যেতে হয়। আরও একটা কারণ আছে অবশ্য থেকে যাওয়ার। সেটা পরে বলছি। এহেন রতনপুরের মতো এক গ্রাম্য শহরে আমি সত্যি বিপ্লব ঘটিয়ে দিলাম। হ্যাঁ, দিনের পর দিন টেকো সঞ্জু বা টাকলা সঞ্জয় শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গিয়েছিল। বয়স চল্লিশের কাছেপিঠে। কিন্তু রোজ রাতে নিয়ম করে স্বপ্ন দেখি কোনও মিষ্টি মেয়ের হাত ধরে আদারে-বাদারে প্রেম করে বেড়াচ্ছি। কলকাতাও আমার স্বপ্নে খুব আসে। ওই যে বললাম, রতনপুরে শুধু আমার শরীরটুকুই পড়ে আছে। মন-আত্মা সব কলকাতার অলিগলিতে ঠেক মারছে।
টেকো বদনাম ঘোচাতেও কলকাতাই আমায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার লেক তো প্রেমিক-প্রেমিকাদের চারণভূমি। প্রেম না করলেও আমিও বেশ কয়েকবার চক্কর কেটেছি লেকের পাশ দিয়ে। হাত ধরাধরি করে যুগলে কী সুন্দর প্রেম করে! ওদের প্রেম দেখে কল্পবিলাসে আমিও পৌঁছে গিয়েছি ওদের মননে। এই তো মাসখানেক আগে এমনই একটা জুটিকে দেখে থমকে দাঁড়িয়েছি। এক মনে ওদের দিকে চেয়ে আছি। মিথ্যে বলব না, মেয়েটির দিকেই আমার নজর ঘুরঘুর করছিল। ছেলেটির জায়গায় নিজেকে বসিয়ে ভার্চুয়াল প্রেম পর্যন্ত শুরু করেছিলাম।
অমনি মেয়েটির কী চিৎকার, ‘অসভ্য আধদামড়া লোক। দাদু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু শখ যায়নি। কেমন ড্যাবড্যাব করে দেখছে!’ মেয়েটির চিৎকারে আশপাশের অনেকেই এদিকে মনোনিবেশ করেছে। প্রেমিক ছেলেটা তো ছুটে এসে আমার কলার পর্যন্ত ধরেছিল। এই মারে কি সেই মারে! আসলে উচ্চিংড়ে ছেলেটা মেয়েটার কাছে হিরো হতেই এসব করেছে।
কলার ধরার চেয়েও মেয়েটির মুখে দাদু,আধদামড়া লোক শুনে বড্ড কষ্ট হচ্ছিল। বুকের ভিতরটা দুমরে মুচড়ে যাচ্ছিল। আমি এতটাই বয়স্ক! আরে বাবা চল্লিশের দরজায় সবে পা রেখেছি কী রাখিনি। নেহাত চুলগুলো সব পেটের রোগে উঠে গেল। না হলে চেহারাপত্তর, লুকসে আমি এখনও খুব একটা খারাপ নই। এই মেয়েটা যে ঢ্যাঙা ছেলেটার সঙ্গে পিরিত করছে তার চেয়ে ঢের সুন্দর আমি। খালি ছেলেটার মাথা ভর্তি চুল। আর আমি টেকো। যদিও ছেলেটার চুল দেখলে মনে হবে কাক গুছিয়ে বাসা বেঁধেছে। কিন্তু তাও চুলই তো।
আমার বয়সে প্রচুর লোক হাঁটুর বয়সি মেয়ের সঙ্গে প্রেম করছে। সে বেলা তো কেউ কিছু বলছে না? খালি আমার মস্তকের মরুভূমি নিয়ে সকলে ব্যস্ত!
নাহ, এর একটা হিল্লে করতেই হবে। অনেক সময় অন্তর্যামী আমাদের ধারেকাছেই থাকেন। তেমনই এক ভদ্রলোক হঠাৎ করে মাটি ফুঁড়ে হাজির হলেন আমার সামনে।
ভদ্রলোক বয়সে আমার চেয়ে একটু বড়ই হবেন। বেশ সুঠাম চেহারা। মনে হয় রেগুলার জিমে যাওয়ার অভ্যেস আছে। চোখ দুটো বেশ নজরকাড়া। যেন মনের জানলা ভেদ করে আমার ভিতরটা নিমেষে পড়ে নিচ্ছেন। চুলটাও বেশ অদ্ভুত ধরনের। মাঝেমধ্যেই ভদ্রলোক চুলে হাত দিচ্ছেন। সাধের বাগান যেন আরও পরিপাটি করে তুলছেন। আমার সেই দৃষ্টিকে অনুসরণ করে ভরাট কণ্ঠে বলে উঠলেন, ‘বুঝতে পারছি আপনার দুঃখটা?’ আমাকে বিস্মিত হতে দেখে ফের তিনি শুরু করলেন, ‘আরে বাবা! আমার এই মাথার বাগানটা মোটেই আসল নয়। ধরুন কোনও বাঞ্চারামের বাগান। এখানে বসে আমাকে জাস্ট ধন্য করেছে।’
বাঞ্চারামের বাগান! সে তো সিনেমা দেখেছিলাম। নাটকও দেখেছিলাম। কিন্তু মাথায় বাগান। না, ঠিক বুঝলাম না। হতভম্ব বললে ভুল হবে, কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লাম। কোনও তাৎক্ষণিক জবাবও মাথায় এল না। ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকা ছাড়া। ভদ্রলোক আমার অপ্রস্তুত অবস্থা বুঝে এবার আসরে নামলেন। কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ থেকে একটা লিফলেট বের করলেন। লিফলেট জুড়ে পুরুষ, মহিলা নির্বিশেষে ছবি। এক ধরনের ছবিতে চুলবিহীন বা অত্যন্ত কম কেশের পাবলিক। আর একরকম ছবি পুরোপুরি চুল বসানোর পর পাল্টে যাওয়া অভিব্যক্তি।
সত্যি বলতে কি লিফলেট হাতে ধরে মনে মনে নিজেকে কল্পনা করতে আরম্ভ করলাম। ভদ্রলোক আমার মনের ভাব বুঝে লিফলেটটা হাতে গুঁজে দিয়েই দ্রুত তাঁর অন্তর্ধান হল। আমার তখন সেদিকে তাকানোর জো নেই। একটা কথাই ভাবছি, কী করে সুপুরুষ হয়ে উঠব। বলা ভালো, সুকেশ হব কী করে? লিফলেটে পরিষ্কার ঠিকানা দেওয়া আছে। গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনটা ছাড়িয়েই উল্টো দিকে সিটি কলেজের রাস্তার একপাশে। বাহ! মনে মনে ঈশ্বররূপী ওই ভদ্রলোককে প্রণাম জানিয়ে গন্তব্যের দিকে পা বাড়ালাম।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসে বসে আছি। প্রথমে অবশ্যে রিসেপশনে গিয়েছিলাম। সুন্দরী, সুবেশা রিসেপশনিস্টকে দেখে যথারীতি আমার প্রেমের কোকিল ডাকতেও শুরু করেছিল। কোনওরকমে তাকে থামিয়ে কাজের কথায় এলাম। যদিও ভদ্রমহিলার দিকে আড়চোখে এতবার তাকাচ্ছিলাম যে, নিজেই লজ্জায় পড়ে যাচ্ছিলাম। উনি বোধহয় এসবে অভ্যস্ত। তাই বিগলিত সুরে আমাকে পরচুলার মাহাত্ম্য বোঝাচ্ছিলেন। শুনে আমি যথারীতি গদগদ। আসলে চুল পরার পর আমি কীভাবে পাল্টে যাচ্ছি তা অঞ্জন দত্তর গানের মতো বেজে উঠল আমার অন্তরে-বাহিরে।
অবশ্য এই চুল পরে পাড়ায় ঢুকলে ঠ্যাং খোঁড়া করে দেওয়ার ভয়টাও বেশ চেগে উঠল। বিশেষ করে পাড়ার চেকপোস্ট ঝন্টুদার দোকান তো বড় ফাঁড়া।
যাক যাবতীয় বিপত্তি সামলে হাজার পাঁচেক টাকা গচ্চা দিয়ে আমার মাথাতেও সাধের বাঞ্চারামের বাগান বসিয়ে দিল পার্লারের অত্যন্ত দক্ষ ছেলেটি। যেমন হাত, তেমনই তার ব্যবহার। নিমেষে আমাকে দাদা বানিয়ে নিল। শ্যাম্পু ট্যাম্পু করে মাথার অবশিষ্ট চুলটুল কেটে সাইজ করে পরচুলার সঙ্গে মানানসই করে তুলতে প্রায় মিনিট চল্লিশ লাগল। শেষপর্যন্ত আয়নায় নিজেকে দেখে হতবাক হয়ে গেলাম। ছেলেটি বলে উঠল, ‘কি একঘর লাগছে তো?’ আমি কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকালাম। মনে হল যেন নরক থেকে স্বর্গে উত্তরণ হল ওর হাত ধরে। ততোধিক উৎসাহে রিসেপশনে গিয়ে ম্যাডামের দিকে একটা স্মাইলি লুক দিলাম। এবার কিন্তু তিনি অতটা পাত্তা দিলেন না। প্রত্যুত্তরে শুষ্ক একটা হাসি দিয়ে অন্য ক্লায়েন্টের মনোরঞ্জনে ব্যস্ত হলেন।
যাক গে, অত গায়ে মাখলাম না। বুঝলাম, ওরা প্রফেশনাল। ওদের তো কাজই এটা। আমার এখন একটাই টার্গেট। হ্যাঁ, রতনপুরের একজনকে অনেকদিন ধরে মন, প্রাণ, আত্মা সঁপেছি। যেকোনও মূল্যে তার মন জয় করতেই হবে এবার।
ম্যাজিক বোধহয় একেই বলে। এতদিন সুতপা আমার দিকে দেখত বটে। কিন্তু কেমন যেন তাচ্ছিল্য ছিল সেই দৃষ্টিতে। বেশ বুঝেছিলাম আশা কম। সেই সুতপাই আমার নতুন রূপে ফিদা। খিলখিলিয়ে বলেও ফেলল, ‘পুরো সঞ্জয় দত্ত হয়ে গেছেন তো।’ আমি অবশ্য লুকোছাপা করলাম না। এটা যে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট নয়, পরচুলা ব্যাপারটা খোলসা করেই দিলাম।
সুতপা সপ্রতিভ ভঙ্গিতে বলল, ‘বেশ করেছেন। জীবন আপনার। নিজের মতো করে উপভোগ করুন।’
মাস কয়েকের মধ্যে ‘ইয়ে তো হোনাই থা’র মতো সুতপার সঙ্গে বন্ধুত্বটা প্রেমে ইউটার্ন করল। ও একটি সরকারি স্কুলে পড়ায়। আমার ছোট প্রাইভেট ফার্মে চাকরি। ওর কাছে নগণ্য। কিন্তু প্রেমের কাছে সবই তো বন্য। যখনই দেখা হয় সুতপার পয়সাতেই চপ-কাটলেট, চা, কফি, কোল্ড ড্রিংক সাঁটাই। আমাকে মানিব্যাগ বের করতেই দেয় না ও। সবসময় বলে, ‘আমাদের মধ্যে আবার আলাদা বিল দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠছে কেন?’
জবাবে মিনমিন করি, ‘তাবলে তোমার পয়সায় রোজ রোজ...।’
সুতপা রেগে যায়। মুখ ঘুরিয়ে থাকে। অনেক কষ্টে ওকে শান্ত করি। ও প্রমিস করায় আর কোনওদিন আমাদের মধ্যে টাকাপয়সা নিয়ে যেন কথা না ওঠে।
তাও আফটার অল পুরুষমানুষ। ইচ্ছে তো করে প্রিয় বান্ধবীর জন্য হাত খুলে খরচ করতে। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ওকে রাজি করাই। সুতপাকে নিয়ে কলকাতার একটি ঝাঁ চকচকে মলে গেলাম একদিন। জমিয়ে লাঞ্চ করলাম। তারপর সিনেমা দেখালাম। কাছেই লেক অনেকদিনের স্বপ্ন প্রেমিকার হাত ধরে লেকে বসব। সুতপা রাজিও হল।
লেকের এক কোণে দু’জনে বসে আছি আর সুতপার হাত নিজের হাতে নিয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্নে ভেসে যাচ্ছি। সুতপাও আমার চুলে মানে পরচুলায় বিলি কাটছে। আনন্দে চোখ বুজে এসেছে আমার।
হঠাৎ করে চুলে সজোরে টান পড়ায় আবেশ কাটল। ততক্ষণে ক্লিপ টিপ খুলে আমার পরচুলা সুতপার হাতে।
ব্যর্থ প্রচেষ্টায় টাক ঢাকার চেষ্টা করতে করতে আমি বললাম, ‘এটা কী করলে তুমি? তোমাকে তো সবই বলেছি।’
আমাকে জাস্ট ডোন্ট কেয়ার করে লেকের জলে সাধের পরচুলা ভাসিয়ে আমার টাকে একটা চুমু খেল সুতপা। স্বগতোক্তি করে উঠল, ‘পরচুলা চুলোয় যাক। এই আসল মানুষটাকেই আমি চাই।’