Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আর্থিক দুর্নীতির জাল ছড়িয়ে যাদবপুর, হাওড়া, দিল্লিতেও! ১২টি অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয় টাকা, বাজেয়াপ্ত মাত্র ৩৩ হাজার

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কেলেঙ্কারির জাল কলকাতা, কল্যাণী, হাওড়া, আরামবাগ ও পূর্ব বর্ধমান হয়ে দিল্লি পর্যন্ত ছড়ানো!

আর্থিক দুর্নীতির জাল ছড়িয়ে যাদবপুর, হাওড়া, দিল্লিতেও! ১২টি অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয় টাকা, বাজেয়াপ্ত মাত্র ৩৩ হাজার
  • ২৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কেলেঙ্কারির জাল কলকাতা, কল্যাণী, হাওড়া, আরামবাগ ও পূর্ব বর্ধমান হয়ে দিল্লি পর্যন্ত ছড়ানো! তদন্তের বাঁকে বাঁকে উঠে এসেছে এমনই সব চাঞ্চল্যকর তথ্য। যা দেখেশুনে তাজ্জব সিআইডির দুঁদে গোয়েন্দারা। আদালতের কাছে সবিস্তার রিপোর্টও পেশ করেছেন তাঁরা। সেই সূত্রে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল তোলপাড় চলছে গোটা বর্ধমানেই। বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে, এতকিছুর পরও কেন গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্তদের?  

Advertisement

আদালতে পেশ করা ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় দু’কোটি টাকা তছরূপ কাণ্ডে  মোট ১২ জনের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেগুলিতে টাকা  হস্তান্তর করা হয়েছে। সিআইডি ওই অ্যাকাউন্টগুলি বাজেয়াপ্ত করে মাত্র ৩৩ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে। কিন্তু যাদের অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে, তাঁরা এখনও অধরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা যাদবপুর, হাওড়া, নদীয়া এবং পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকে তোলা হয়েছে। দিল্লিরও একটি অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়। 
রিপোর্টে সিআইডি উল্লেখ করেছে, তিনটি ফিক্সড ডিপোজিট থেকে টাকা তোলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বিভাগের কর্মী ভক্ত মণ্ডলই অন্যতম অভিযুক্ত। তিনি কয়েকজনের সহযোগিতা নিয়ে দুর্নীতির চক্র চালাচ্ছিলেন। ভক্ত দীর্ঘদিন ধরেই ফেরার। তাঁর খোঁজে রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে। কিন্তু নাগালের বাইরে। ভক্ত সম্ভবত নেপালে গিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। 
সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে, সুব্রত দাস নামে এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে চার লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছে। কলকাতার যাদবপুরের একটি ব্যাঙ্কে তাঁর অ্যাকাউন্ট রয়েছে। নদীয়ার কল্যাণীর এক বাসিন্দার দু’টি অ্যাকাউন্টও ব্যবহার করেছেন ভক্ত। তাঁর একটি অ্যাকাউন্টে ৭৫ হাজার এবং অন্য অ্যাকাউন্টে এক লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা টাকা পাঠানো হয়। এই দু’টি অ্যাকাউন্ট থেকে একটি টাকাও তদন্তকারীরা বাজেয়াপ্ত করতে পারেননি। কল্যাণীরই আর এক বাসিন্দারা অ্যাকাউন্টে চার লক্ষ ৩০ হাজার টাকা হস্তান্তর করা হয়। কলকাতার চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ এলাকার একটি অ্যাকাউন্টে  বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়। পূর্ব বর্ধমানের আলমগঞ্জের একটি অ্যাকাউন্টে ন’লক্ষ ৫০ হাজার টাকা গিয়েছে। বর্ধমানের পারবীহাটার অ্যাকাউন্টে ১৯ লক্ষ ২৯ হাজার ৭৯০ টাকা হস্তান্তর করা হয়েছিল। আরামবাগের একটি অ্যাকাউন্টে ১৪ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা পাঠানো হয়। হাওড়ার শিবপুরে চার লক্ষ ৬২ হাজার ৭৫০ টাকা ঢোকানো হয়। এখানেই শেষ নয়, নজিরবিহীনভাবে দিল্লির একটি অ্যাকাউন্টেও তিন লক্ষ টাকা পাঠানো হয় গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। 
কেলেঙ্কারির মাস্টামাইন্ডরা নিখুঁত পরিকল্পনা করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা হাতিয়েছেন। এক আধিকারিক ঘরোয় আলোচনায় বলছিলেন, এতবড় পকিল্পনা কোনও চুনোপুঁটির পক্ষে করা সম্ভব নয়। এর পিছনে বড় রাঘব বোয়ালরা জড়িত। তাঁরা এখনও জালে  ওঠেননি। তবে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এই মামালর তদন্তে সক্রিয় হচ্ছে। তাতে অনেক রাঘব বোয়ালের রাতের ঘুম চলে গিয়েছে। কেলেঙ্কারি শিকড় ছুঁতে কয়েক দিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভিসি নিমাইচন্দ্র সাহাকে জেরা করে সিআইডি। প্রায় চার ঘন্টা ধরে তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা চাইছেন, পুরো ঘটনার রহস্য দ্রুত উন্মোচন করে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ