সংবাদদাতা, মেখলিগঞ্জ: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে তৈরি হতে চলেছে ব্লাড ব্যাংক। মঙ্গলবার এ খবর প্রকাশ্যে আসতেই খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়ে গোটা মেখলিগঞ্জ মহকুমাজুড়ে। দীর্ঘদিনের দাবিপূরণ হওয়ায় এলাকার বাসিন্দারা রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর, স্থানীয় বিধায়ক দধিরাম রায় এবং জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ডাঃ জয়ন্তকুমার রায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মেখলিগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংক তৈরির জন্য রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের তরফে ৭৯ লক্ষ টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এই অর্থ ব্যয় করে ব্লাড ব্যাংকের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। বর্তমানে মেখলিগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংক না থাকায় রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। মুমূর্ষু রোগীদের জন্য রক্ত সংগ্রহ করতে বহু ক্ষেত্রেই ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে কোচবিহার, মাথাভাঙা বা অন্যান্য ব্লাড ব্যাংকে ছুটতে হয়। সেখানেও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অনেক সময় রোগী ভর্তি করার পরও রক্তের অভাবে এক থেকে দু’দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বহু মানুষ। ফলে সময় ও অর্থ দুইয়েরই অপচয় হচ্ছিল।
এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরেই মেখলিগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংক চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। অবশেষে সেই দাবিতে সিলমোহর পড়ায় স্বস্তি ফিরেছে এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক, রতন বর্মন ও মালতি সরকারের বক্তব্য, এই মহকুমা হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংক না থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে বারবার সমস্যায় পড়তে হত। অনেক সময় জরুরি মুহূর্তে রক্ত না পেয়ে রোগীর পরিবারকে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকতে হয়েছে। ব্লাড ব্যাংক চালু হলে বহু মানুষ উপকৃত হবেন।
মেখলিগঞ্জের বিধায়ক দধিরাম রায় বলেন, এই মহকুমা হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংক চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। অবশেষে রাজ্য সরকার সেই দাবিকে গুরুত্ব দিয়েছে। ব্লাড ব্যাংক চালু হয়ে গেলে শুধু মেখলিগঞ্জ নয়, পার্শ্ববর্তী এলাকার বহু মানুষও উপকৃত হবেন। জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা আরও উন্নত হবে।