Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঈদে বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতির ছাপ পড়ল না এপার বাংলার শাড়ির ব্যবসায়

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যাই হোক না কেন, ব্যবসা বাণিজ্যে তার প্রভাব পড়ল না।

ঈদে বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতির ছাপ পড়ল না এপার বাংলার শাড়ির ব্যবসায়
  • ৩০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যাই হোক না কেন, ব্যবসা বাণিজ্যে তার প্রভাব পড়ল না। হাতে গরম উদাহরণ নবদ্বীপের তাঁত কাপড় হাট। এবার ঈদে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে বাংলাদেশের হরেক রকমের শাড়ি। সব মিলিয়ে মোট ব্যবসার পরিমাণ কোটি টাকার কাছাকাছি। বাড়তি অর্থ লাভে মুখে হাসি তাঁত শিল্পের সঙ্গে যুক্ত পাইকারি ব্যবসায়ীদের।

Advertisement

নবদ্বীপের তাঁত হাট রাজ্যের মধ্যে অন্যতম। প্রতি বৃহস্পতি ও শুক্রবার হাট বসে। ভালো কেনাবেচা হয়। নবদ্বীপের তাঁতের  আলাদা সুনাম রয়েছে। রাজ্যে বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের ব্যবসায়ীদের কাছেও চৈতন্যভূমির শাড়ির কদর যথেষ্ট। 
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের পাশাপশি ঈদেও ভালো শাড়ির ব্যবসা করে নবদ্বীপের তাঁত হাট। মালদহ, মুর্শিদাবাদ, হুগলি সহ দূর দুরান্ত থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এই হাটে আসেন। কিন্তু এবারে ব্যবসার পরিমাণ প্রত্যাশাকে এতটা ছাপিয়ে যাবে তা ভাবতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। তাঁরা ভেবেছিলেন,প্রতিবছরযা বিক্রিবাট্টা হয়, বিশেষ করে বাংলাদেশের শাড়ি, সেটা এ বছরে ধাক্কা খাবে। কারণ বাংলাদেশেরপরিস্থিতিএখন অস্থির। ভারত বাংলাদেশের  সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। কিন্তু তাঁদের সেই আশঙ্কাকে দূর করে নবদ্বীপের হাটে বাংলাদেশি শাড়ি প্রচুর পরিমাণে ঢুকেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের এক রঙের পাড় দেওয়া এক রঙের জমিন, তাঁতের শাড়ি, হালকা রঙের ছোট ছোট ফুলের কাজ করা জামদানি প্রিন্টেড শাড়ির চাহিদা ছিল ক্রেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
বাংলাদেশ থেকে শাড়ি সহ অন্যান্য পণ্যের ট্রান্সপোর্ট হয় মূলত সীমান্ত দিয়ে। এবার ট্রান্সপোর্ট হবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন ব্যবসায়ী মহল। কিন্তু এবারও যথারীতি শাড়ি বোঝাই কন্টেনার ঢাকা থেকে এসেছে এপার বাংলায়। কোনও বাধার সম্মুখীন হয়নি। এমনটাই জানালেন ব্যবসায়ীরা। নবদ্বীপের পাশাপাশি শাড়ি ঢোকে পূর্ব বর্ধমানের সমুদ্রগড়েও। ওই সব বাজারেও পাইকারি ও খুচরো দামে ভালোই বিক্রি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।
হাটের সামনে উডবার্ন রোডে রেডিমেড ব্যবসায়ী বাবুলাল সাহা বলেন,বৃহস্পতি ও শুক্রবার  ছিল ঈদের শেষ হাট। প্রতিটি দোকানে ভালো কেনাকাটা হয়েছে।
কেতুগ্রাম থেকে নবদ্বীপের হাটে এসেছিলেন বুলবুল মণ্ডল। তিনি বলছিলেন, এখান থেকে বাংলাদেশের শাড়ি পাইকারি দরে কিনেছি। গ্রামে আমার দোকান আছে। সেখানে ভালোই বিক্রি হয়েছে। 
পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী পাঠান গ্রামের বাসিন্দা শিউলি বিবি বলেন, এই তাঁতের হাটের একটা আলাদা ঐতিহ্য আছে। প্রচণ্ড গরম পড়েছে, সেজন্য সকাল সকাল কেনাকাটা করে ফেলেছি।
নবদ্বীপ তাঁত কাপড় হাটের সম্পাদক গৌরগোপাল সাহা বলেন, এই হাটের ভেতর ও বাইরে সব মিলিয়ে সাতশোর বেশি দোকান রয়েছে। এবার ঈদে বেচাকেনা ভালো হয়েছে। 
রমজান মাসে গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার এই দু’ দিন ছিল শেষ হাট। সব মিলিয়ে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকারও বেশি বিক্রি হয়েছে। তবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল এবার বাংলাদেশের শাড়ির চাহিদা ছিল অনেক বেশি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ