Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অচেনা, অজানা নজরুল এবার বড় পর্দায়

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিখুঁতভাবে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে কোমর বেঁধে নামছে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়।

অচেনা, অজানা নজরুল এবার বড় পর্দায়
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিখুঁতভাবে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে কোমর বেঁধে নামছে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়। কবির শৈশব থেকে বার্ধক্য—প্রতিটি পর্যায়কে তুলে ধরে পূর্ণ দৈর্ঘ্যের একটি ছবি বানাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই ছবি হবে অকাট্য প্রমাণের উপর দাঁড়িয়ে। কবিকে নিয়ে যে সব ভ্রান্ত তথ্য লোকমুখে প্রচারিত, সেগুলিকে যুতসই তথ্য-প্রমাণ দিয়েই খণ্ডন করার চেষ্টা থাকবে ওই সিনেমায়। নজরুল বিদ্রোহী কবি। এ নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। কিন্তু, তিনি বিদ্রোহী কবি হলেন কীভাবে? কেমন করে তিনি গ্রাম চুরুলিয়া থেকে আসানসোলে যাতায়াত করতেন? কারা ছিল তাঁর সহযাত্রী? সব উত্তর থাকবে সিনেমার পর্দায়।  

Advertisement

এই মুহূর্তে সিনেমা তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে। প্রাথমিক পর্যায়ে কবিকে নিয়ে যে সব বিভ্রান্তি ও ভুল তথ্য প্রচার হয়েছে, সেগুলিকে খুঁজে বের করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রমাণ সংগ্রহেরও কাজ চলছে। দীর্ঘ গবেষণার পর কবিকে নিয়ে প্রচুর নতুন তথ্য সামনে এসেছে। বিশেষ করে কবির ‘খেরোর খাতা’ সহ নানা চিঠি ডিজিটালাইজ করার পর উঠে  এসেছে এক অজানা, অচেনা নজরুলের কাহিনি। সেই সব তথ্যগুলিকেও হাতে গরম প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হবে সিনেমায়। 
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কবির জন্মভিটেকে বিশেষভাবে চুরুলিয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এতদিন যে বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল। কবির সৃষ্টির পাশাপাশি তাঁর জীবন যাত্রাকেও তথ্য নির্ভর ও বাস্তবিক চিত্র তুলে ধরা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল গবেষক গৌরব চৌধুরী বলেন, ‘তিনি রূপকথার স্রষ্টা হলেও তাঁর জীবন মোটেও রূপকথার মতো ছিল না। সাংসার চালাতে গিয়ে তাঁর মতো বিশ্ববরেণ্য‌ ক঩বিকে দরিদ্রের সঙ্গে প্রতি মুহুর্তে লড়াই চালাতে হয়েছে। আমরা যে সিনেমা করতে চাইছি, তা কবির প্রকৃত জীবন কাহিনি।’ সেই সঙ্গে গৌরববাবুর সংযোজন, কবির সৃষ্টিও বর্তমান সময়ে বিশেষ ভাবে আলোচিত হওয়া প্রয়োজন। তিনি যে ভাবে সম্প্রীতি ও সাম্যের জয়গান গেয়েছেন, তা বাংলা সাহিত্যে আর ক’জন করেছে! সেই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরার ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে বিদ্রোহী কবির যে কোন বৈরিতা ছিল না। একে অপরের প্রতি ভীষণ সম্মান ও ভালোবাসা ছিল, তাও তুলে ধরার ভাবনা রয়েছে। 
শুধু ছবি তৈরি নয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আসন্ন বছরের প্রথমেই কবিকে নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার করতে চলেছে। কবির যে সব অধ্যায় এখনও চর্চাতেই আসেনি বা কম চর্চা হয়েছে,  তা নিয়েই হবে সেমিনার। সেখানে হাজির থাকবেন দেশ-বিদেশের বহু বিশিষ্টজন। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে মধ্যমণি হিসেবে রয়েছে নজরুল সেন্টার ফর সোশ্যাল অ্যাণ্ড কালচারাল স্টাডিজ। যাঁর বিল্ডিং এখনও অসমাপ্ত। এখানে বৃহৎ অডিটোরিয়াম, গ্যালারি, প্রদর্শনীক্ষেত্র, গবেষনাক্ষেত্র গড়ে তোলার কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের জেরে বছরের পর বছর তা অসমাপ্ত হয়েই পড়ে রয়েছে। সেই নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করতে উদ্যোগে হয়েছেন নতুন স্থায়ী উপাচার্য উদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই তিনি রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারির সঙ্গে মিটিং করে অর্থ দেওয়ার জন্য তদ্বির করেছেন। উচ্চ শিক্ষাদপ্তর থেকে কিছু প্রশ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তাঁর নির্দিষ্ট ফর্মাটে উত্তর পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। যাতে দ্রুত অর্থ আসে। উপাচার্য বলেন, ‘রামকৃষ্ণদেবের যত মত তত পথের সবচেয়ে বড় সাধক তো নজরুল ইসলামই। সিনেমার মাধ্যমে তা তুলে ধরার চেষ্টা হবে। প্রয়োজনে দক্ষ পরিচালকদের সাহায্য নেওয়া হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ