Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বারাসত পঞ্চায়েতের সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট পরিদর্শনে রাষ্ট্রসংঘও!

জেলার অধিকাংশ পঞ্চায়েত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা তৈরি করতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছে।

বারাসত পঞ্চায়েতের সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট পরিদর্শনে রাষ্ট্রসংঘও!
  • ২৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: জেলার অধিকাংশ পঞ্চায়েত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা তৈরি করতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছে। অথচ পথ দেখাচ্ছে বারাসত পঞ্চায়েতের ‹হলুদ কার্ড› ব্যবস্থা। নির্মল গ্রাম গড়ে তুলতে এই মাস্টার স্ট্রোক মাত্র চারমাসে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় বাধ্যতামূলকভাবে আনতে সক্ষম হয়েছে ৮০ শতাংশ বাসিন্দাকে! যার সুখ্যাতির টানে প্রকল্প খতিয়ে দেখতে ছুটে আসতে হয়েছে রাষ্ট্রসংঘের প্রজেক্ট সার্ভিসেসের আধিকারিকদেরও। ৫ লক্ষ টাকার বিশেষ পুরস্কার বরাদ্দ করেছেন জেলাশাসকও। 

Advertisement

রানাঘাট ১ ব্লকের আওতাধীন বারাসত গ্রাম পঞ্চায়েত। যেখানে কমবেশি প্রায় ১১ হাজার পরিবারের বসবাস। জেলার বাকি পঞ্চায়েতগুলির মত বারাসতেও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বছরের পর বছর পেরিয়েও যখন অন্যান্য পঞ্চায়েত পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ব্যর্থ, তখন বারাসত পঞ্চায়েত শুধু পরিকাঠামো করে তোলাই নয়, নির্মল গ্রাম তৈরির দুয়ারে অপেক্ষারত। ১১ হাজার পরিবারের মধ্যে সাড়ে সাত হাজারকে বাধ্যতামূলকভাবে প্রকল্পের আওতায় আনা গিয়েছে স্রেফ একটি পদক্ষেপের মাধ্যমেই। সেটি হল, ‹হলুদ কার্ড›। ব্যাপারটা কী? পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, আবর্জনা মুক্ত গ্রাম গড়তে পচনশীল এবং অপচনশীল কঠিন বর্জ্য পঞ্চায়েতের গাড়িতে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ঘোষণা করা হয়। এক্ষেত্রে মাত্র ১ টাকা মাস প্রতি দিলেই পঞ্চায়েতের গাড়ি বাড়ি বাড়ি আবর্জনা সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তাতে খুব বেশি সাড়া মেলেনি। প্রায় ছয়মাসে মাত্র সাতশোর কাছাকাছি মানুষ সেই রেজিস্ট্রেশন করান। এদিকে গ্রামজুড়ে ইতিউতি পচনশীল এবং প্লাস্টিক বর্জ্যর আধিক্য ক্রমশ বেড়েই চলেছে দেখে নিয়ে আসা হয় ‹হলুদ কার্ড› ব্যবস্থা। যেখানে রেজিস্ট্রেশন করা পরিবারগুলিকে তুলে দেওয়া হবে মাস ও বারের নাম লেখা হলুদ রংয়ের বিশেষ কার্ডটি। পঞ্চায়েতের ৩০টি সংসদের প্রতিটিতে ১১টি গাড়ি সপ্তাহে তিনদিন করে বাড়ি বাড়ি যাবে। প্লাস্টিক এবং পচনশীল বর্জ্য পঞ্চায়েতের গাড়িতে জমা দিলে তা এন্ট্রি করা হবে সেই কার্ডে। নিয়মিত সেই কার্ডে এন্ট্রি থাকলে তবেই মিলবে পঞ্চায়েতের বাকি পরিষেবা। অর্থাৎ যদি কারও কাছে সেই কার্ড না থাকে অথবা নিয়মিত আবর্জনা দেওয়ার নথিভুক্তি না থাকে তাহলে তিনি বঞ্চিত হবেন পঞ্চায়েতী পরিষেবা থেকে। স্বাভাবিকভাবেই সামান্য আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গায় না ফেলার কারণে পঞ্চায়েতের বাকি পরিষেবা মিলবে না, এই সিদ্ধান্ত জানার পর হুড়মুড়িয়ে শুরু হয় রেজিস্ট্রেশন। যে সংখ্যাটা বছর পার করেও সাতশোর আশেপাশে ঘোরাফেরা করছিল, এক ধাক্কায় শেষ চারমাসে তা থেকেছে সাড়ে সাত হাজারের কোটায়। এরফলে একদিকে যেমন পঞ্চায়েত এলাকার আবর্জনা ঘেরা ছবির অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে তেমনই জৈব সার এবং ভার্মি কম্পোস্ট তৈরিতে জোয়ার এসেছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে চার হাজার বাড়ি থেকে পচনশীল  আবর্জনা সংগ্রহ হয় ২ টন এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ২০০ কেজি। প্রচুর উৎপাদনের কারণে মাত্র ছ’ টাকা থেকে দশ টাকায় কৃষিপ্রধান বারাসত অঞ্চলে বিক্রি হচ্ছে জৈব সার। 
‘সফল’ এই প্রকল্পের সুখ্যাতি পৌঁছে জেলাশাসকের কাছেও। প্রকল্প রূপায়ণকে ‘মডেল’ ব্যাখ্যা করে পাঁচ লক্ষ টাকা পুরস্কার দিয়েছেন জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ। একইসঙ্গে ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসের (ইউএনওপিএস) কর্তাব্যক্তিরাও পরিদর্শন করে গিয়েছেন নির্মল গ্রাম গড়তে পঞ্চায়েতের প্রকল্প এবং ব্যতিক্রমী পদক্ষেপকে। বিষয়টি নিয়ে পঞ্চায়েতের এগজিকিউটিভ অফিসার অমিতাভ সোম বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন পঞ্চায়েত থেকে লোকজন আসছেন আমাদের প্রকল্প এবং ব্যবস্থাপনা দেখতে। জেলাশাসকের কাছ থেকেও আমরা পুরস্কার পেয়েছি। রাষ্ট্রসংঘের কর্তাব্যক্তিরা এসেও প্রশংসা করে গিয়েছেন। আমরা স্রেফ ‹হলুদ কার্ড› এনে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার প্রবণতাকে পঞ্চায়েতের নির্দিষ্ট গাড়িতে ফেলার ভালো অভ্যাসে পরিণত করার চেষ্টা করেছি। কার্ড না থাকলে পঞ্চায়েতের পরিষেবা মিলবে না এই ভয়েই মানুষ রেজিস্ট্রেশন করেছেন। তাতে আখেরে পরিবেশের ভালো হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ