গাছ আবার হাঁটতে পারে নাকি! কী, বিশ্বাস হচ্ছে না তো? আজ সেই বিশেষ হাঁটতে পারা গাছের কথাই আমরা জানব।
গাছ আবার হাঁটতে পারে নাকি! কী, বিশ্বাস হচ্ছে না তো? আজ সেই বিশেষ হাঁটতে পারা গাছের কথাই আমরা জানব।
দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটো থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সুমাকো বায়োস্ফিয়ারে বাস ক্যাশাপোনা পাম গাছ। এর বোটানিক্যাল নাম সক্রেটিয়া এক্সোরহিজা।
১৯৮০ সাল নাগাদ ইকুয়েডরের এই আমাজনিয়ান অরণ্যে একটি অভিযান চালান জীববিজ্ঞানী জন এইচ বোদলে এবং তাঁর দলবল। তিনি দীর্ঘদিন এই অরণ্যে অবস্থান করে পর্যবেক্ষণ করেন এই বিশেষ গাছের গতিবিধি এবং তাদের জীবনপদ্ধতি। এই জীববিজ্ঞানীর কথাতেই এই বিশেষ উদ্ভিদটিকে ঘিরে প্রথম বিশ্ব বিজ্ঞান মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
এই গাছ সাধারণত ১৮-২০ মিটার লম্বা। দেখতে অনেকটা আমাদের দেশের সুন্দরী গাছের মতো। সুন্দরী ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ হওয়ায় যেমন শ্বাসমূল দেখা যায়, ঠিক তেমনই ওয়াকিং পামে দেখা যায় ঠেসমূলের উপস্থিতি।
ইকুয়েডরের এই বিশেষ অঞ্চলের মাটি আলগা হওয়ায় সেখানে মাটির জলধারণ ক্ষমতা অত্যন্ত কম। গভীর অরণ্যের সব জায়গায় সূর্যালোক প্রবেশ করতে না পারায় এই উদ্ভিদ অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। ‘ওয়াকিং পাম’-এর শিকড়ের দৈর্ঘ্য অন্যান্য গাছের থেকে অনেকটাই বড়, আয়তনও যথেষ্ট মোটা, দেখতে অনেকটা হাতির শুঁড়ের মতো। ‘ওয়াকিং পাম’ অত্যন্ত দ্রুত নতুন নতুন ঠেসমূল তৈরি করতে সক্ষম। একদিকে যেমন এই উদ্ভিদ নতুন উদ্ভিদ তৈরি করে, তেমনই পুরনো ঠেসমূল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় গাছের দেহ থেকে। অন্যদিকে গাছের মূল কাণ্ড ধীরে ধীরে সরে যায় তার মূল অবস্থান থেকে। প্রতিদিন দেড় থেকে দুই এমনকী তিন সেন্টিমিটার অর্থাৎ প্রতিবছর কমপক্ষে প্রায় নিজের অবস্থান থেকে ২০ মিটার পর্যন্ত সরে যায় এই গাছ।
অবাক বিস্ময় যে গাছও হাঁটতে পারে, তাই তো এই বিশেষ গাছটি ‘ওয়াকিং পাম’ নামে পরিচিত। আজ গাছটি যে অবস্থানে আছে তিন-চার বছর পরে দেখা যাবে গাছটি আর সেখানে নেই, অন্য একটি জায়গায় চলে গিয়েছে! কী আশ্চর্য সৃষ্টি প্রকৃতির তাই না!