Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জগদ্ধাত্রীর শহর কৃষ্ণনগরে গদি ও রাজা গণেশের কদর

কৃষ্ণনগর শহরের নামের সঙ্গে জগদ্ধাত্রী পুজো অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত

জগদ্ধাত্রীর শহর কৃষ্ণনগরে গদি ও রাজা গণেশের কদর
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর শহরের নামের সঙ্গে জগদ্ধাত্রী পুজো অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ঐতিহ্যের এই শহরে শুরু হয়েছে গণপতির আরধনা। আগে যা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু পরিবার ও ক্লাবের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তাই রূপ নিয়েছে সর্বজনীন উৎসবের। কৃষ্ণনগর শহরে বাড়ছে গণেশ পুজোর জাঁকজমক। বর্তমানে ক্লাব, পাড়া ও এমনকি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও সিদ্ধিদাতার আরাধনায় মাতোয়ারা। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গেলে চোখে পড়বে বড় মণ্ডপ ও হোর্ডিং। থাকছে  আলোকসজ্জার কারিকুরি। 

Advertisement

ভাদ্র মাসের আগমনের সঙ্গে কৃষ্ণনগর শহর জুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। গণেশ পুজো নিয়ে মহাগণপতি, নবজাগরণ, সানসাইন, বৈদিক, নবোদয়, দেবপুত্র ইত্যাদি ক্লাবের প্রস্তুতি তুঙ্গে। বাজারে ছেয়ে গিয়েছে সাজসজ্জার নানা সামগ্রী, আলো ও গণেশ পুজোর হরেক উপকরণ। এসবের বিক্রিবাটা বাড়ায় বিক্রেতাদের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষ্ণনগরবাসীর মতে, জগদ্ধাত্রী পুজোর পাশাপাশি গণেশ পুজোর এই উত্থান কৃষ্ণনগরের উৎসবের ক্যালেন্ডারে এক নয়া মাত্রা যোগ করেছে। শহরের তরুণ প্রজন্ম এই পুজো নিয়ে উচ্ছ্বসিত।  পুজো ঘিরে রয়েছে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাচ-গান, নাটক, শিশুদের জন্য নানা প্রতিযোগিতা এবং  রক্তদান শিবির।
মৃৎশিল্পীরা বলছেন, আগামী বুধবার গণেশ পুজো। এ বছর কৃষ্ণনগর ও আশপাশের এলাকায় গণেশ মূর্তির চাহিদা বেড়েছে। বিভিন্ন উচ্চতার ও বৈচিত্র্যময় থিমে তৈরি গণপতির মূর্তিগুলি মন কাড়ছে ক্রেতাদের। অনেকে আবার পরিবেশবান্ধব মাটি দিয়ে মূর্তি তৈরির দিকে ঝুঁকছেন। গণেশ মূর্তির দাম ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০-৭০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ছোট মুম্বই ঘরানার গণেশের চাহিদাও বেড়েছে।
কৃষ্ণনগর পালপাড়ার এক মৃৎশিল্পী জয়ন্ত পালের কথায়,  এবার গণেশ ঠাকুরের অর্ডার ভালো হয়েছে। অনেক ঠাকুর চলে গিয়েছে প্যান্ডেলে। এবার ছোট গণেশের চাহিদা বেশি।  বিশেষ করে গদি গণেশ, রাজা গণেশ, তাণ্ডব গণেশের মূর্তি পছন্দ করছেন সবাই। 
মহাগণপতি ক্লাবের এক সদস্য সৌরভ দে বলেন, এবার গণেশ পুজোর বাজেট প্রায় ৬ লাখ টাকা। কাল্পনিক রাজপ্রাসাদের আদলে মণ্ডপ হবে। থাকছে রক্তদান শিবির, বাচ্চাদের বসে আঁকো প্রতিযোগিতা। এছাড়া গাছের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে দর্শনার্থীদের একটি করে চারা গাছ তুলে দেওয়া হবে। 
নবোদয় ক্লাবের সদস্য সপ্তর্ষি চৌধুরী বলেন, আমরা এবছর ১৩ বছরে পদার্পণ করলাম। এবছর আমাদের ভাবনা বন্ধন। আমাদের প্রাচীন গণেশ কখনও মা দুর্গার সঙ্গে কখনও আবার  শিবের সঙ্গে হাজির হন। সবেমিলে, জগদ্ধাত্রীর শহর কৃষ্ণনগর এখন গণপতির রঙেও  রঙিন।  কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণি তে তৈরি হচ্ছে গণেশ মূর্তি। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ