Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দণ্ডপাণিতলা ঘাট দুর্গোৎসব কমিটির থিম প্রাচীন পটশিল্প

প্রতিবছর নিত্য নতুন পরিকল্পনা করে দর্শনার্থীদের মন জয় করে নবদ্বীপ দণ্ডপাণিতলা ঘাট দুর্গোৎসব কমিটি।

দণ্ডপাণিতলা ঘাট দুর্গোৎসব কমিটির থিম প্রাচীন পটশিল্প
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: প্রতিবছর নিত্য নতুন পরিকল্পনা করে দর্শনার্থীদের মন জয় করে নবদ্বীপ দণ্ডপাণিতলা ঘাট দুর্গোৎসব কমিটি। পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের দণ্ডপাণিতলা ঘাট মোড়ে এই পুজোর আয়োজন করা হয়। এবার পুজো ১৮ বছরে পড়েছে। প্রথম দিকে সাবেকিয়ানায় একচালা প্রতিমার পুজো হলেও বেশ কয়েক বছর ধরে থিম পুজোর উপর জোর দিয়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা। এবার তাঁদের থিম ‘পটের পটভূমিতে উমা’। এই থিমের মাধ্যমে গ্রাম বাংলার প্রাচীন পট শিল্পকলাকেই তুলে ধরা হচ্ছে। ওড়িশার রঘুরাজপুর গ্রাম, কালীঘাট পটচিত্র এবং মেদিনীপুরের পিংলার নয়া গ্রাম এখনও বাঁচিয়ে রেখেছে পট শিল্পকে। সেইসব পটচিত্র শিল্পীদের গ্রামগুলিকে তুলে ধরা হবে ‘পটের পটভূমিতে উমা’ থিমের মাধ্যমে। বাংলার পট শিল্পকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে পরিচিতি করাতেই এই উদ্যোগ বলে পুজো উদ্যোক্তাদের তরফে  জানিয়েছেন শিল্পী অপূর্ব রায়।

Advertisement

তাঁর কথায়, বাংলার এই সূক্ষ্ম শিল্পকলার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রাচীন গ্রন্থের পৌরাণিক কাহিনি তুলে ধরা হচ্ছে। সেইসঙ্গে পটশিল্প কারা আঁকেন, শিল্পীরা কেমন আছেন, কীভাবে তাঁদের জীবনযাপন চলছে, তা সবকিছুই জানা যাবে। বর্তমান প্রজন্মের অনেকের কাছে এই পটশিল্প সেভাবে পরিচিত নয়। এখন এমন পরিস্থিতি হয়েছে যে পটশিল্পীদের পেটের তাগিদে অন্য পেশা বেছে নিতে হচ্ছে।  দণ্ডপাণিতলা ঘাট দুর্গোৎসব কমিটির কোষাধ্যক্ষ রানা সাহা বলেন, আগে পটচিত্রের মাধ্যমেই পূজিত হতেন বিভিন্ন দেবদেবী। এখনও অনেক বাড়িতে পটের লক্ষ্মী পুজো হয়। দুর্গার উপাখ্যান, শিব পুরাণ, কৃষ্ণের বাল্যলীলা লক্ষ্মী-নারায়ণ ও পৌরাণিক কাহিনি পটচিত্রের থিমের মাধ্যমে এ বছর মণ্ডপে তুলে ধরা হবে। সম্পূর্ণ একটা গ্রাম্য পরিবেশ তুলে ধরা হবে। এখন তো উপার্জনের আশায় অনেক পটশিল্পী ঘট, মাটির কলসিতে তাঁদের শিল্পকলা আঁকছেন। সেগুলিও এই মণ্ডপে শোভা পাবে। প্রতিমা তৈরি হবে পটচিত্রের আদলে। পুজোমণ্ডপে থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাবেকিয়ানার  আলোকসজ্জার মাধ্যমে পুরনো দিন ফিরিয়ে আনা হবে।
দণ্ডপাণিতলা ঘাট বারোয়ারি যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বপতি দাস ও দিলীপ বড়াল বলেন, বিভিন্ন থিমের মাধ্যমে আমরা সমাজকে কিছু বার্তা দিতে চাই। গতবছর ‘নারীর টান’, তার আগের বছর ‘বৃদ্ধাশ্রম’ এবছর আমরা বাংলার হারিয়ে যেতে বসা পটচিত্র তুলে ধরছি। আমাদের থিমের  পুজো দেখতে শুধু নবদ্বীপ, নদীয়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষজন নন, পার্শ্ববর্তী পূর্ব বর্ধমান জেলার দর্শনার্থীরাও মণ্ডপে ভিড় করেন। সহ-সভাপতি বিমান দত্ত বলেন, দেবীকে ভোগ হিসেবে সপ্তমী ও নবমীতে অন্ন, কচুশাক, তেতো ডাল, মোচা, পুষ্পান্ন, পনির, পরমান্ন নিবেদন করা হয়। অষ্টমীতে খিচুড়ি, আলুর দম, পঞ্চব্যঞ্জন, পুষ্পান্ন ভোগ দেওয়ার পর সেই প্রসাদ পুজো মণ্ডপে সকলকেই খাওয়ানো হয়। দশমীতে চিড়ে দই মুড়কি এবং মিষ্টি ভোগ নিবেদন করা হয়। এছাড়া পুজোর প্রতিদিন আবৃত্তি, অঙ্কন, নৃত্যানুষ্ঠানের হয়। স্থানীয় মহিলাদের নিয়ে বিনোদনমূলক প্রতিযোগিতারও  আয়োজন করা হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ