রাজদীপ গোস্বামী মেদিনীপুর
রাজদীপ গোস্বামী মেদিনীপুর
মেদিনীপুর শহরের জগন্নাথ মন্দির এলাকার সুজাগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির এবারের থিম ‘আবার আসিব ফিরে, এই বাংলায়, ডোকরা শিল্প’। মহাবীর ক্লাবের পরিচালনায় এই পুজোর এবছর ৭৫বছর পূর্তি। তাই উন্মাদনায় মেতেছেন এলাকার মানুষজন। জানা গিয়েছে, আজ, চতুর্থীতে পুজোর উদ্বোধন হবে। শহরের বিশিষ্টজনেরা এই পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। পুজোর উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন, পুজোর জন্য সাবেকি প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে। মূলত গ্রাম-বাংলার ডোকরা শিল্পকে মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্যই এই থিম বেছে নেওয়া হয়েছে। আবৃত্তি, অঙ্কন, নৃত্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ক্লাবের উদ্যোগে পুজোর পর বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করা হচ্ছে। সম্মেলনের মঞ্চ থেকে প্রতিযোগিতায় জয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। নবমীতে এলাকার মানুষের জন্য প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে। মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, এই ক্লাব নিষ্ঠা সহকারে পুজোর আয়োজন করে। এবছর জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই পুজো দেখতে উপস্থিত থাকবেন। পুজো কমিটির সভাপতি সুশান্ত মাইতি বলেন, একতাই আমাদের মূল মন্ত্র। সকলের সহযোগিতা ছাড়া এই পুজো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। পুলিশ, প্রশাসন ও পুরসভা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে।
১৯৫০ সালে মেদিনীপুর শহরের জগন্নাথ মন্দির সংলগ্ন এলাকার কয়েকজন যুবক প্রথমবার পুজো শুরু করেন। সেইসময় তাদের কোনও ক্লাবঘর ছিল না। মন্দির সংলগ্ন এলাকায় আড্ডার আসর বসত। সামাজিক কাজ করা নিয়ে আলোচনা হতো। জানা গিয়েছে, ১৯৭৮সালে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল। যার প্রভাব পড়ে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও। সেবছর ক্লাবের সদস্যরা দুর্গাপুজোর আয়োজন করতে পারেননি। সদস্যরা জানান, গত কয়েক বছর ধরেই থিমের পুজো করা হচ্ছে। তবে শুধু পুজো নয়, এলাকার কেউ সমস্যায় পড়লে ক্লাবের তরফে সহযোগিতা করা হয়। পুজো কমিটির উপদেষ্টা তনুশ্রী সামন্ত বলেন, মানুষের পাশে থাকাই মূল কর্তব্য। কেউ সমস্যায় পড়লে ক্লাবের সদস্যরা এগিয়ে যান। একইসঙ্গে বাংলার ঐতিহ্যবাহী ডোকরা শিল্প তুলে ধরার জন্যই এই থিম বেছে নেওয়া হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র