নিজস্ব প্রতিনিধি, কাঁকসা: কাঁকসা ব্লকের অন্যতম প্রাচীন গ্রাম ভগবানপুর। তিন শতাব্দী আগে, চোর ডাকাতদের উৎপাতে সেই গ্রাম ছেড়ে বাসিন্দারা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন আকন্দরা, মলানদিঘি, লবণাপাড়া, ধবনীতে। কালের নিয়মে ধ্বংস হয়ে যায় ঘরবাড়িগুলি। বসতভিটেগুলি ধ্বংস হয়ে গেলেও থেকে গিয়েছিল দুর্গা মন্দিরটি। বাসিন্দারা ঘর ছাড়লেও গ্রাম আগলে থেকে গিয়েছেন মা। বহু বছর পর জঙ্গল ঘেরা প্রাচীন দুর্গা মন্দিরে নজর পড়েছিল ভগবানপুরের বাসিন্দাদের বংশধররা। মায়ের মহিমা উপলব্ধি করে সেই প্রাচীন দুর্গা দালানেই ঘটা করে পুজো শুরু হয়।। পুজোর চারদিন দিনের বেলায় ভগবানপুরে ফেরেন বাসিন্দরা। ভোর থেকে সন্ধে পর্যন্ত পুজোয় মেতে, রাত হলে নিজের নিজের বাড়ি ফিরে যান বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভগবানপুর ছিল ব্রাহ্মণদের গ্রাম। প্রায় ৫০টি পরিবার এখানে বসবাস করত। সেই আমলে ভগবানপুর ছিল প্রত্যন্ত গ্রাম। দীর্ঘ জঙ্গল পেরিয়ে গ্রামে যেতে হতো। ডাকাত, লুটেরাদের উৎপাত লেগেই থাকত। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠায় বাসিন্দারা ধীরে ধীরে গ্রাম ছাড়তে থাকেন। একটা সময় জনমানব শূন্য হয়ে পড়ে ভগবানপুর। কালের নিয়মে পুরনো বাড়িগুলি মাটিতে মিশে যায়। কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকে গ্রামের দুর্গা মন্দিরটি। ভেঙে চৌচির হয়ে গেলেও দুর্গা মন্দিরের দেওয়াল আজও মাথা তুলে রয়েছে।
স্থানটিকে ঘিরে রয়েছে এক অদ্ভুত প্রাকৃতিক শোভা। মন্দির চত্বরে এখন গভীর জঙ্গল। সামনে কিছুটা ফাঁকা অংশ রয়েছে। সপ্তমী থেকে দশমী সেই অংশেই পুজোতে মেতে ওঠেন বাসিন্দারা। এক নির্জন স্থানে দুর্গা আরাধনা যেন নতুন প্রজন্মকে অভিনব পিকনিকের স্বাদ দেয়। মন্দিরের পাশাপাশি রয়েছে বিশাল ভগবানপুর বাঁধ। সেখানেই মায়ের ঘট বিসর্জন হয়। এই মন্দিরে মূর্তিপূজা হয় না। মন্দিরে মূর্তিপূজার চেষ্টা করেও তা বিফল হয়েছে বারবার। তাই বাসিন্দারা এখানে ঘটেই পূজা করেন। প্রতিদিনই বহু মানুষের খাওয়া দাওয়ার আয়োজন থাকে। এক কথায় প্রকৃতির কোলে নিখাদ আনন্দ উপভোগ করেন বাসিন্দারা। এলাকার অদূরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রকল্প শুরু হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা মিথেন গ্যাস উত্তোলনের প্রজেক্ট করেছে। প্রকৃতিকে ঘিরে কাঁকসা ব্লকে গড়ে উঠছে নানা রিসর্ট। চোর ডাকাতের আতঙ্কও কমেছে। প্রবীণ বাসিন্দা শ্যামাশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন, পুরনো এই দুর্গা মন্দিরটির সংস্কারের আর্জি জানিয়ে আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের দ্বারস্থ হয়েছি। আকদারা গ্রামের বাসিন্দা বামাচরণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, মায়ের ইচ্ছেতেই গভীর জঙ্গলে দুর্গা মন্দিরে পুজো সম্ভব হয়েছে। নিজস্ব চিত্র