Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পোকার লাগাতার হানায় শেষ কচিপাতা, চা গাছ যেন কাঠি

খামখেয়ালি আবহাওয়ায় কখনও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, আবার অস্বাভাবিক গরম। এতেই পোকার লাগামহীন দাপটে জেরবার তরাইয়ের চা বাগান

পোকার লাগাতার হানায় শেষ কচিপাতা, চা গাছ যেন কাঠি
  • ১৬ জুন, ২০২৫ ১৬:০৬
Prefer us on Google

সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: খামখেয়ালি আবহাওয়ায় কখনও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, আবার অস্বাভাবিক গরম। এতেই পোকার লাগামহীন দাপটে জেরবার তরাইয়ের চা বাগান। ইতিমধ্যে প্রচুর বাগানের কচিপাতা ধ্বংস করেছে পোকা। গাছগুলি কার্যত ঝাঁটার কাঠিতে পরিণত হয়েছে। এতে চলতি মাসে চায়ের উৎপাদন মার খাবে বলেই আশঙ্কা। এনিয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকরা উদ্বিগ্ন। ইতিমধ্যে তারা বিষয়টি টি বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছে। এখন জোর বৃষ্টি ছাড়া কিছু করার নেই বলে জানিয়েছেন চা গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরা। 

Advertisement

দু’সপ্তাহ অতিক্রম করলেও জুন মাসে তেমন বৃষ্টি হয়নি। দিনভর রোদের অস্বাভাবিক তেজ। মাঝেমধ্যে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হলেও গরমের তীব্রতা কমছে না। এর জেরেই শিলিগুড়ি অর্থাৎ তরাই অঞ্চলের চা বাগানে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন ধরনের পোকার উপদ্রব। সেগুলির মধ্যে লুপার ও রেড স্পাইডার পোকার দাপট সবচেয়ে বেশি। স্থানীয় কয়েকটি চা বাগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পোকাগুলি গাছের কচিপাতা খেয়ে তছনছ করছে। কোনও ওষুধ দিয়ে সেগুলি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ফলে অধিকাংশ বাগানের চা গাছ কার্যত ঝাঁটার কাঠির মতো রূপ নিয়েছে। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয় চক্রবর্তী বলেন, দিনে গরম ও রাতে জোর বৃষ্টি চা বাগানের পক্ষে অনুকূল। কিন্তু এবার তা হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে হালকা বৃষ্টি হলেও অধিকাংশ সময় থাকছে অস্বাভাবিক গরম। এমন খামখেয়ালি আবহাওয়ার জেরে বাগানে পোকার উপদ্রব বেড়েছে। শুধু তরাই নয়, গোটা উত্তরবঙ্গেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর জেরে জুন মাসে চায়ের উৎপাদন কমবে বলেই মনে হচ্ছে। 
তরাইয়ের অর্থনীতির অন্যতম চা বাগান। শিলিগুড়ির চারটি ব্লকে চা বাগানের সংখ্যা প্রায় ৪২টি। এতে শ্রমিকের সংখ্যা লক্ষাধিক। পোকার উপদ্রব নিয়ে শ্রমিকরাও চিন্তিত। 
আইএনটিটিইউসি’র দার্জিলিং জেলা সভাপতি নির্জল দে বলেন, টি বোর্ডের নির্ধারিত ওষুধ বাগানে স্প্রে করেও পোকা দমন করা সম্ভব হচ্ছে না। পোকার দাপটে অধিকাংশ বাগানের কচিপাতা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। যার ফলে চলতি মাসে চায়ের উৎপাদন মার খাবে বলে মনে হচ্ছে। এতে প্রচুর টাকার লোকসান হতে পারে। এই অবস্থায় অস্থায়ী শ্রমিকদের কাজ দিচ্ছে না অনেক বাগান। তাই একাংশ ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। 
তরাই চা গবেষণা কেন্দ্রের উপদেষ্টা তৃণা মণ্ডল বলেন, অস্বাভাবিক গরম, বাতাতে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি বলে বাগানে পোকার উপদ্রব বেড়েছে। গাছের বৃদ্ধিও কম হচ্ছে। এখন বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করতে হবে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ