Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জীবন সংগ্রামের অদ্ভুত বৈপরীত্য নবদ্বীপে ভাগীরথীর জল বাড়লে ভয়, মুখে চওড়া হাসিও

কথায় বলে ‘কারও পৌষমাস, কারও সর্বনাশ।’ ভাগীরথীতে জল বাড়লেই বন্যার আতঙ্কে ভোগেন নদী তীরবর্তী মানুষজন

জীবন সংগ্রামের অদ্ভুত বৈপরীত্য নবদ্বীপে  ভাগীরথীর জল বাড়লে ভয়, মুখে চওড়া হাসিও
  • ২৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: কথায় বলে ‘কারও পৌষমাস, কারও সর্বনাশ।’ ভাগীরথীতে জল বাড়লেই বন্যার আতঙ্কে ভোগেন নদী তীরবর্তী মানুষজন। তবে, মুখে হাসি ফোটে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের। এই বর্ষার মরশুমে তাঁদের বাড়তি উপার্জন হয়। প্রতিদিন নৌকাভর্তি মাছ ওঠে। এইরকম অদ্ভুত বৈপরীত্যের ছবিটা নবদ্বীপের প্রাচীন মায়াপুরের।

Advertisement

কয়েকদিনের অতিবর্ষণের ফলে ভাগীরথী নদীর জল বেড়ে প্রায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বন্যার আতঙ্কে সিঁটিয়ে ছিলেন নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ। ঠিক এইসময় নদীতে জল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুখে চওড়া হাসি মৎস্যজীবীদের। এখন ভোর হলেই নৌকাভর্তি মাছের আশায় জাল নিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন মৎস্যজীবীরা। মঙ্গলবার ভোরে এমনই ছবি ধরা পড়ল নবদ্বীপের প্রাচীন মায়াপুরের চৈতন্য কলোনি রাজবংশী পাড়া, অরবিন্দ পল্লি, মণ্ডলপাড়া, মালোপাড়া সহ বিভিন্ন মৎস্যজীবী পাড়াগুলিতে। জানা গিয়েছে, নবদ্বীপ পুরসভার নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রায় ২৫০টি পরিবার রয়েছে। এইসব এলাকার বেশিরভাগ পরিবারের কাছে মাছ ধরাটাই মূল পেশা। তাঁদের কেউ ফাঁস জাল, ভেসাল, পাস জাল, কেউবা দড়ি জাল দিয়ে মাছ ধরেন। অরবিন্দ পল্লির বছর ছিয়াত্তরের প্রবীণ মৎস্যজীবী রামপ্রসাদ রাজবংশী বলেন, বর্ষায় জল বাড়ায় ভালোই মাছ উঠছে। পুঁটি, ট্যাংরা, চিংড়ি, রুইয়ের পোনা, কালবাউশ, মাগুর সহ বিভিন্ন রকমের মাছ মিলছে নদীতে। বহুদিন পর এমন অনেক মাছ পাওয়া যাচ্ছে, যেগুলির নাম আমরা প্রায় ভুলতে বসেছিলাম। এই মাছের একটা আলাদা চাহিদা রয়েছে। এই ছাড়িগঙ্গাতে একটা সময় খুব ভালো মাছ উঠত। পরবর্তী সময়ে কচুরিপানা গজিয়ে যাওয়ায় জাল ফেলা যায় না। এখানে একটা সময় গঙ্গা ছিল। তারপর নদী দিক পরিবর্তন করায় এটি ছাড়িগঙ্গা হয়ে গিয়েছে।
নবদ্বীপ শচীমাতা বাঁধ সংলগ্ন চিনির মিলের বাসিন্দা স্থানীয় মৎস্যজীবী বাবু রাজবংশী বলেন, বাড়ির সামনে ছাড়িগঙ্গায় জল বেড়েছে। অনেকদিন পর নদী থেকে চিংড়ি, রিঠে, কই, আর, ট্যাংরা, বেলে, জিওল মাছ ধরতে পারছি। প্রতিদিন দুপুর ২টোর সময় জাল পেতে আসি। পরদিন সকালে গিয়ে সেই জাল থেকে সমস্ত মাছ তুলে আনি। ওইসব মাছ আমরা বিভিন্ন বাজারের আড়তে বিক্রি করি। এখন জল বাড়ার পর থেকে রোজই গড়ে ৪০০-৫০০ টাকা আয় হচ্ছে। পাশাপাশি, সরকার আমাদের দিকে আর একটু নজর দিলে ভালো হয়। আমাদের, মৎস্যজীবীদের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, এখনও সবাই সেই কার্ড পায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্চিত রাজবংশী বলেন, ছাড়িগঙ্গায় পানার কারণে নদীর জল দূষিত ছিল। নদীতে মাছ ছিল না বললেই চলে। এবার কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টিতে নদীর জল বেড়েছে। ফলে মৎস্যজীবীদের জালে মাছ ধরা পড়ছে।
ভাগীরথী তীরবর্তী বাসিন্দা তথা কাউন্সিলার সুকুমার রাজবংশী বলেন, মৎস্যজীবীদের সরকারিভাবে পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের সরকারি ভাবে মাছ রাখার হাঁড়ি, জাল সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম দেওয়া হয়। এছাড়া, মৎস্যজীবী পরিবারগুলিকে বিভিন্ন সরকারি ভাতাও দেওয়া হয়। ওই পরিচয়পত্র রয়েছে এমন কোনও মৎস্যজীবীর অকালমৃত্যু হলে, তাঁর পরিবারকে দু’লক্ষ টাকা সরকারি সাহায্য দেওয়া হয়। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ