গুয়াহাটি: সেনুরান মুথুস্বামী। নামটি নিশ্চয়ই অনেকের মনে আছে! ২০১৯ সালে প্রথমবার ভারত সফরে এসে বিশাখাপত্তনম টেস্টে বিরাট কোহলিকে আউট করেছিলেন এই অলরাউন্ডার। ছয় বছর পর আরও ক্ষুরধার তিনি। এবার অবশ্য বল নয়, ব্যাট হাতে বিঁধলেন ভারতকে। রবিবার গুয়াহাটিতে ৩১ বছর বয়সির দুরন্ত শতরানে ব্যাকফুটে টিম ইন্ডিয়া। প্রথম দিনের শেষবেলায় দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় দিন দায়িত্বশীল ইনিংসে চাকা ঘুরিয়ে দিলেন সেনুরান। ১০৯ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন প্রোটিয়া অলরাউন্ডার।
সেনুরানের জন্ম ডারবানে হলেও তাঁর বাবা-মা ভারতীয় বংশোদ্ভূত। তাঁদের শিকড় তামিলনাড়ুর নাগাপাট্টিনামে। সেখানে এখনও তাঁদের আত্মীয়স্বজন রয়েছেন। সেনুরানের বাবা ক্রিকেটপাগল মানুষ ছিলেন। তিন বছর বয়সেই ছেলেকে কিনে দিয়েছিলেন ক্রিকেটের সরঞ্জাম। স্থানীয় একটি অ্যাকাডেমিতে ক্রিকেট শেখাতে নিয়ে যেতেন ছেলেকে। কিন্তু মাত্র ১১ বছর বয়সেই পিতৃবিয়োগের জেরে সেনুরানের জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। তাঁর বাবার স্বপ্ন ছিল, ছেলে একদিন দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলের হয়ে খেলবে। সেই স্বপ্ন সত্যি করতে সেনুরান প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন। আর তা সফল করতে অনেক আত্মত্যাগ করেন মা। ২০১৯ সালে ছেলে যখন ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট খেলার সুযোগ পান রীতিমতো উচ্ছ্বাসে ভেসেছিলেন তিনি। এদিন গুয়াহাটিতে ছেলের কীর্তি নিশ্চয়ই তাঁকে আরও একবার আবেগতাড়িত করবে। সুনীল গাভাসকরের ভক্ত হিসেবে ছেলের ডাকনাম রেখেছিলেন ‘সানি’। সার্থক তাঁদের নামকরণ!
সেনুরান মুথুস্বামীর কেরিয়ারে কেশব মহারাজেরও বড় অবদান রয়েছে। দুই ভারতীয় বংশোদ্ভূত ছোট থেকেই বন্ধু। একই টিমের হয়ে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলতেন। আর এখন দু’জনে একসঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাই সবদিক থেকেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত সেনুরানের উত্থানের গল্প বেশ রোমাঞ্চকর। গতবার ভারতে এসে পূর্বপুরুষদের ভিটে তামিলনাড়ুর নাগাপাট্টিনামে যেতে পারেননি তিনি। তার জন্য আপশোস হয়েছিল। এবার নিশ্চয় সেই আক্ষেপ মিটিয়ে নাগাপাট্টিনামে ঘুরে আসবেন তিনি। খেলার পাশাপাশি পড়াশোনাতেও রীতিমতো মেধাবী সেনুরান। সমাজ বিজ্ঞানে স্নাতক তিনি। পাশাপাশি ‘মিডিয়া অ্যান্ড মার্কেটিং’ নিয়েও পড়েছেন। তবে তাঁর প্রথম প্রেম সর্বদাই ক্রিকেট।