Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গো-সম্পদ বিকাশে ‘এআই’ তৈরি করে বাজিমাত করল রাজ্যের প্রাণিসম্পদ দপ্তর

গো-সম্পদ বিকাশে কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র বা ‘এআই’ তৈরি করে বাজিমাত করল রাজ্যের প্রাণিসম্পদ দপ্তর

গো-সম্পদ বিকাশে ‘এআই’ তৈরি করে বাজিমাত করল রাজ্যের প্রাণিসম্পদ দপ্তর
  • ২৩ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: গো-সম্পদ বিকাশে কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র বা ‘এআই’ তৈরি করে বাজিমাত করল রাজ্যের প্রাণিসম্পদ দপ্তর। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ৮৭০৭টি এআই কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। তাতে গবাদি প্রাণীর জিনগত উন্নতি হয়েছে। বকনা বাছুর জন্মের হার বেড়ে যাওয়ায় রাজ্যে দুধ উৎপাদন বেড়েছে। চলতি আর্থিকবর্ষে দুধ উৎপাদনে বার্ষিক বৃদ্ধির হারে বাংলা প্রথম স্থান দখল করেছে। বছরে ৭৬.৪৯ লক্ষ মেট্রিক টন দুধ উৎপাদন হচ্ছে। 

Advertisement

প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩-’২৪ আর্থিকবর্ষে ৫১ লক্ষ ৩৯হাজার কৃত্রিম প্রজনন করা হয়েছে। হরিণঘাটায় অত্যাধুনিক ল্যাবরেটারি তৈরি করা হয়েছে। সেখানে আধুনিক পদ্ধতিতে ২৩৩টি বাছুর জন্ম হয়েছে। এধরনের ল্যাবরেটরি আরও তৈরির পরিকল্পনা দপ্তরের রয়েছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে বকনা বাছুর জন্মানোর হার বহু বেড়ে গিয়েছে। গ্রামের বহু পরিবার গোপালন করেই স্বনির্ভর হচ্ছে। পূর্ব বধর্মান জেলাতেও  দুধ উৎপাদন অনেক বেড়ে গিয়েছে। অতিরিক্ত দুধ যাতে নষ্ট না হয় তারজন্যও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 
প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ, নদীয়াতেও দুধ উৎপাদন বেড়েছে। এছাড়া হাঁস এবং মুরগি পালন করেও অনেকেই স্বনির্ভর হয়ে উঠছেন। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মন্ত্রী বলেন, বিনামূল্যে হাঁস, মুরগির বাচ্চা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ছাগলের বাচ্চাও দেওয়া হচ্ছে। বহু মহিলাও পশু পালন করে স্বনির্ভর হচ্ছেন।  ডিম উৎপাদনে রাজ্য স্বনির্ভরতার পথে এগচ্ছে। দুধ উৎপাদনেও সরকারের একই লক্ষ্য রয়েছে। কয়েক হাজার কৃত্রিম প্রজনন কর্মী রাজ্যে কাজ করছে। কর্মদক্ষতার বিচারে সেরা কৃত্রিম প্রজনন কর্মীদের বর্ধমানের সংস্কৃতি লোকমঞ্চে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে দপ্তরের মন্ত্রী ছাড়াও সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার, জেলাশাসক আয়েশা রানি এ সহ অন্যানরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতি জেলায় সেরা কৃত্রিম প্রজনন কর্মীদের সংবর্ধিত করা হবে। তাঁদের উৎসাহিত করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৩হাজার স্বনিযুক্ত কৃত্রিম প্রজনন কর্মী রয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে কাজ করছেন। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে। ৮১টি প্রত্যন্ত ব্লকে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্র ঘুরছে। গবাদি পশু অসুস্থ হলে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্র নিয়ে কর্মীরা বাড়ির দরজায় হাজির হয়ে যাচ্ছে। 
প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আগে প্রচুর পরিমাণ দুধ নষ্ট হয়ে যেত। তা সংরক্ষণের ঠিকমতো ব্যবস্থা ছিল না। এখন বিভিন্ন জায়গায় প্রাণিসম্পদ দপ্তর প্ল্যান্ট করেছে। সেখানে দুধ ঠান্ডা করে বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, কয়েক বছরে দুধের উৎপাদন আরও বেড়ে যাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ