সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: বারাণসীর বাঙালি টোলায় এবার রাজ্যবাসীর জন্য বঙ্গভবন গড়তে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কাশীতে বাবা বিশ্বনাথ মন্দিরের কাছেই রয়েছে কোচবিহার কালীবাড়ি। বহু পুরনো। বি-১৩/৯৭ সোনারপুরা রোডের সেই ঠিকানাতেই এবার রাজ্য সরকারের অতিথিশালার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ১৮৩৬ সালে কোচবিহারের মহারাজা হরেন্দ্রনারায়ণ ভূপ বাহাদুর এই কালীবাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেন। পরে ১৮৪৬ সালে তা সমাপ্ত করেন তাঁর পুত্র মহারাজা শিবেন্দ্র। দেবোত্র সম্পত্তি ওই কালীবাড়ির ফাঁকা জমিতেই বঙ্গভবন এবং কালচারাল সেন্টার গড়ার উদ্যোগ নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন দপ্তর। আজ রবিবার ২.০৫৭ একর জমির এই কালীবাড়ি চত্বর পরিদর্শনে যাচ্ছেন রাজ্যের আধিকারিকরা। বিশেষ সূত্র জানা গিয়েছে, বারাণসীর বাঙালি টোলায় কোচবিহার কালীবাড়ির জমিতে বঙ্গভবন এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ার মূল পরিকল্পনা বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যর। তাঁকে বিষয়টির সন্ধান দেন দেবাশিস বটব্যাল নামে এক পরিচিত। সেই শুরু। গত কয়েকমাস কোচবিহার কালীবাড়ি, কোচবিহারের জেলাশাসকের সঙ্গে আলাপ আলোচনা চালিয়ে এখন উদ্যোগ কার্যকর হতে চলেছে। প্রকল্পটি যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীতে, তাই নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে বিষয়টি অবগত করান শমীক। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই প্রধানমন্ত্রীও এ ব্যাপারে উদ্যোগী হতে সায় দিয়েছেন। ঠিক হয়েছে, কালীবাড়ির ওই জমিতে বঙ্গভবন তথা কালচারাল সেন্টার গড়তে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেডের (সিএসআর ফান্ড) আর্থিক সহায়তা মিলবে। ফলে রাজ্য সরকারের অর্থ ভাঁড়ারে তেমন চাপও পড়বে না। প্রকল্প বাস্তবায়নে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদেরও পরামর্শ নেওয়া হবে। সেই মতো প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করতে রবিবার বাঙালি টোলার ওই কোচবিহার কালীবাড়ি পরিদর্শনে যাচ্ছেন শমীক ভট্টাচার্য, কোচবিহার জেলা পর্যটন বোর্ডের সচিব লেনডুপ ভুটিয়া সহ সরকারি আধিকারিকরা। দয়াময়ী কালীমন্দির, মহাদেব মন্দির, করুণাময়ী মন্দির, নহবত খানা, হাওয়া খানা সহ বারাণসীতে কোচবিহার কালীবাড়িতে বর্তমানে যা রয়েছে, তার কোনোটিই নষ্ট বা ভেঙে ফেলা হবে না। পুরানো দিনের ফটক সহ যা রয়েছে, সেগুলি থাকবে এখনকার মতোই। তারই সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি হবে বঙ্গভবন, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। বারাণসীতে বাঙালিদের হবে সরকারি অতিথিশালা। আর ফিরতে হবে না হোটেল, লজের সন্ধানে।



