নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: শালতোড়ায় পাথর খাদান নিলামে তুলে ১৪৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করল বাঁকুড়া জেলা ভূমি দপ্তর। বুধবার থেকে নিলাম প্রক্রিয়া শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ১৭টি পাথর খাদানের নিলাম চলে। দ্রুত খাদান থেকে পাথর উত্তোলনের কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। খাদান চালুর সঙ্গে সঙ্গে পুরোদমে শালতোড়ার পাথরকলগুলিও খুলে যাবে। এর ফলে শালতোড়ায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক কাজ পাবেন। পাথরশিল্প চালুর ফলে সরকারের ঘরে রাজস্ব জমার পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। জানুয়ারি মাসে শালতোড়ার জনসভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৩১ মার্চের মধ্যে পাথরশিল্প চালুর ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর ঘোষিত সময়ের আগেই খাদান নিলামের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাওয়ায় তৃণমূল ভোটে ‘ডিভিডেন্ড’ পাবে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, পরিবেশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ছাড়পত্র(এনওসি) নিয়ে খাদান থেকে মালিকরা পাথর উত্তোলন শুরু করবেন। শুধু খাদানগুলি নিলামে তুলেই আমরা ১৪৫ কোটি টাকা আয় করেছি। আগামী দিনে পাথর উত্তোলনের সময় ভূমিদপ্তর চালানের মাধ্যমে বাড়তি রাজস্ব আদায় করবে।বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সাধারণ সম্পাদক স্বপন মুখোপাধ্যায় বলেন, শালতোড়ার পাথরশিল্প দীর্ঘদিন ধরেই চালু ছিল। তৃণমূলের আমলে তা বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের দলের তরফে তা চালুর জন্য বারবার আন্দোলন করা হয়েছে। আন্দোলনের চাপেই সরকার পাথর খাদান নিলামে তুলতে বাধ্য হয়েছে। খাদান চালুর পিছনে কাদের ভূমিকা রয়েছে, তা শালতোড়াবাসী জানে।বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, জেলা পরিষদের মেন্টর থাকাকালীন আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাথর শিল্প চালুর জন্য প্রথম অনুরোধ করি। দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণামতো পাথর খাদান নিলামের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিজেপি এখন দই খাওয়ার জন্য ‘নেপো’ সেজেছে। স্থানীয়রা তা ভালভাবেই জানেন।



