নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: স্বপ্নাদেশে প্রায় পাঁচশো বছর আগে শুরু হয়েছিল মায়ের পুজো। কিন্তু বর্তমান সময়েও মা কালীর নূপুরের শব্দ শুনেছেন অনেকেই। এখানেই শেষ নয়। একইসঙ্গে বিসর্জনের সময় জ্বালানো হয় মশাল। এই গল্প মেদিনীপুর শহরের লচি পোদ্দারের পুজোর। পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, এবছরও ধুমধাম করে পুজোর আয়োজন হয়েছে। পুজো উপলক্ষ্যে নতুন রঙে রঙিন হচ্ছে মণ্ডপ। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই, বিদেশ থেকেও এই পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হয়েছেন বাড়িতে। মেদিনীপুর শহর ও জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই পুজো দেখতে আসেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, আগে বিসর্জনের জন্য মা কালীকে গোরুর গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হতো। বর্তমানেও ঠেলা গাড়ি ব্যবহার করেই প্রতিমার বির্সজন হয়।
পরিবারের সদস্য অরবিন্দ দে, দিলীপ দে-রা বলেন, পুরনো ঝাড়বাতি দিয়ে পুজোর জায়গা সাজানো হয়। পুজো ঘিরে রয়েছে বহু স্মৃতি। মা এখানে খুবই জাগ্রত। অনেকেই মায়ের নূপুরের শব্দ শুনেছেন। তান্ত্রিক মতেই পুজো হয়।
প্রসঙ্গত, মেদিনীপুর শহরের হবিবপুরের লচি পোদ্দার বাড়ির কালীপুজো অন্যতম বিখ্যাত। এটি জেলার অন্যতম প্রাচীন পুজো। প্রায় পাঁচশো বছর ধরে পুরনো এই পুজো হয়ে আসছে। তৎকালীন সময়ে কোনও এক ব্যক্তি স্বপ্নাদেশে কালীপুজো শুরু করেন। কালী ঠাকুরের রূপ ও গয়নার ডিজাইনে ওড়িশা রাজ্যের সংস্কৃতির ছোঁয়া লক্ষ্য দেখা যায়। যা আজও বর্তমান। শোনা যায়, এই কালীপুজো শুরু হয়েছিল লক্ষ্মীনারায়ণ দে’র হাত ধরে। তাঁর আমল থেকেই এই কালীপুজো জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে। লক্ষ্মীনারায়ণবাবু ধানের আড়ত দেখাশোনা করতেন। তাঁকে পোদ্দার বলে ডাকা হতো। লক্ষ্মী নারায়ণ নামের অপভ্রংশ হয়ে লচি পোদ্দার নামটি এসেছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই পুজো দেখতে আসতেন। জানা গিয়েছে, তৎকালীন সময়ে পুজো উপলক্ষ্যে সুবিশাল কবি গানের আসর বসত। যা আজও বর্তমান। পরিবারের সদস্যরা জানালেন, পুজোর সময় প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরিবারের সদস্যরা নির্জলা উপবাস করেন। একেবারে সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত পুজো হয়। বিসর্জনের সময় মশালগুলি জ্বালানো হয়। পুজো শুরুর দিকে বলির প্রথা ছিল। কিন্তু ১৯৩৫ সাল নাগাদ বলি উঠে যায়। তার বদলে আখ, কুমড়োর বলি হয়। পরিবারের সদস্য অভিজিৎ দে, জিৎ নারায়ণ দে-রা বলেন, এবছরও প্রচুর মানুষ আসবেন আমাদের কালীপুজোয়।