সংবাদদাতা, রামপুরহাট: দেবীর চরণে ঠাঁই না পেলেও কাশফুল বয়ে আনে আগমনীর বার্তা। তাই তো উৎসবের আবহে রামপুরহাট শহরের অদূরে শ্যুটিং স্পট হয়ে উঠেছে এই এক টুকরো কাশবন। সামনেই মহালয়া। তাই দুর্গার সাজে নানা শ্যুটিং থেকে মোবাইলে রিল বানানোর অন্যতম জায়গা হয়ে উঠেছে এই কাশবন।
এমনিতেই শহরের প্রকৃতিতে শারদীয় শোভা দুর্লভ। প্রকৃতি ধ্বংস করেই গড়ে উঠছে সব বহুতল। একটু যে স্বস্তির নিঃশ্বাস নেওয়া যাবে সেই জায়গাই নেই। তবে রামপুরহাট শহরের শেষপ্রান্ত মনসুবা মোড় কিন্তু ব্যতিক্রম। এখানে একপাশে রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক। আরেক পাশে তীর্থভূমি তারাপীঠ যাওয়ার রাস্তা। মাঝে বিশাল খোলা প্রান্তর জুড়ে শরতের আগমনী বার্তা নিয়ে আসা এক নিবিড় কাশবন। বিঘার পর বিঘা জায়গা জুড়ে শুধুই কাশফুল দেখা যাবে এখানে। যা ফি-বছর শরৎকালে অপরূপ শোভা বাড়িয়ে তোলে এলাকার। এখন রোজই সকাল থেকে বিকেল বিভিন্ন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর মহালয়ার শ্যুটিংয়ের অন্যতম জায়গা হয়ে উঠেছে এই কাশবন।
জানা গিয়েছে, প্রায় বছর দশেক আগে জাতীয় সড়ক সংস্কারের কাজের জন্য বরাত পাওয়া এক নামী ঠিকাদার সংস্থা এই জায়গায় তাঁদের প্ল্যান্ট বসিয়েছিল। বছর পাঁচেক ধরে সেই জায়গায় গজিয়ে উঠেছে কাশবন। একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে যাঁরা খোলামেলা জায়গা খোঁজেন, তাঁদের ঠিকানা হয়ে উঠেছে এই এলাকা। ছুটির দিনগুলিতে গাড়ি-বাইক হাঁকিয়ে আবার কেউ বা টোটো চড়ে হাজির হচ্ছেন মনসুবা মোড়ের কাছে।
এখানেই ছাত্রীকে দুর্গা সাজিয়ে মহালয়ার শ্যুটিং করছিলেন রামপুরহাটের নৃত্যশিক্ষক বর্ণালী রায় মণ্ডল। তিনি বলেন, একেবারে নিরিবিলি পরিবেশ। কাশবন রয়েছে। তাই এক ছাত্রীকে দুর্গা সাজিয়ে এনে কাশবনকে ব্যাকগ্রাউণ্ডে রেখে একটি ভিডিও শ্যুট করলাম।
এদিন মনসুবা মোড়ের কাশবনে ছবি তুলছিলেন কয়েকজন ছাত্রী। তাঁদের মধ্যে ইশিকা গুপ্ত বলেন, কংক্রিটের শহরে এক টুকরো সবুজের দেখা মেলাই ভার। সেখানে এই কাশবনের প্রান্তরে হারিয়ে যেতে নেই মানা। এখানে আসলেই বিভূতিভূষণ ও সত্যজিতের অপু-দুর্গার কথা মনে পড়ে যায়।
শুধু ছবি তোলাই নয়, অনেক ইউটিউবার এখানে মহালয়ার শ্যুটিংও করেন। তাঁরা বলেন, শুভ্র কাশফুলের মনোমুগ্ধকর রূপের ছবি ও ভিডিও করার উপযুক্ত জায়গাই শুধু নয়, এখানে একটু বসলেই ফুরফুরে বাতাসে জুড়িয়ে যায় প্রাণ। কাশফুলের ফাঁক গলে চুঁয়ে পড়া সূর্যের আলো ও সূর্যাস্তের শোভা এককথায় অপূর্ব।