অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: ডিজিটাল সম্পর্কে ক্রমশ ‘আত্মীয়’ হয়ে উঠছে মোবাইল। হাতে হাতে স্মার্টফোন। টাচ স্ক্রিন স্ক্রল করে কাটছে দিন। সেই নেশায় আসক্ত শিশুরাও। কিন্তু নিউটাউনের সানরাইজ সিম্ফনিতে অন্যরকম ছবি। সেখানে মণ্ডপ সাজানোর কাজ করছে শিশুরাই। তাদের কেউ ছবি আঁকছে। কেউ বানাচ্ছে হস্তশিল্প। সৃজনশীল সেই কর্মকাণ্ডে সামিল তাদের দাদু-দিদা, ঠাকুরদা-ঠাকুমা, বাবা-মা, প্রতিবেশীরাও। তাদের পুজোর ভাবনা ‘মোবাইল স্ক্রিন অসুর’। থিমের নাম ‘সৃজনের অঙ্গন-পর্দার ওপারে’। আবাসিকরা চান, দুর্গা ‘মোবাইল স্ক্রিন অসুর’কে পরাজিত করুন।
নিউটাউন অ্যাকশন এরিয়া টু-বিতে রয়েছে সানরাইজ সিম্ফনি আবাসন। তাদের পুজো কমিটির নাম, সান সিম্ফনি উৎসব সমিতি। এবার ১৩ বছরে পা দিচ্ছে তাদের পুজো। প্রতিবারই নতুন ভাবনা ফুটিয়ে তোলেন উদ্যোক্তারা। এবারের ভাবনা একেবারে অন্যরকম। যাদের নিয়ে উদ্বেগ, সেই শিশুদের অংশগ্রহণই সবচেয়ে বেশি। আবাসনের ভিতর তারা এখন শিল্প তৈরির কজে ব্যস্ত। তাদের তৈরি শিল্পকর্ম দিয়ে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। আবাসিকদের কথায়, আমাদের সন্তানরা কি ধীরে ধীরে আমাদের সংস্কৃতির অংশগ্রহণকারী হয়ে উঠছে? নাকি শুধুই দর্শক? অতিরিক্ত মোবাইল স্ক্রল শিশুর কল্পনা থমকে দিতে পারে। তাই এবার মোবাইল দূরে সরিয়ে সৃজনশীলতায় ফেরা। স্ক্রলিংয়ের বদলে সৃষ্টি। স্ক্রিনের বদলে নিজের সংস্কৃতি চর্চা। আপন উৎসবকে ভালোবেসে আত্মীয় করে নেওয়ার উদ্যোগ। আবাসনের শিশুরা তো আছেই, সেই সঙ্গে বিভিন্ন স্কুল ও শিল্প প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে এসেছে। অভিনব থিমে শামিল হতে আবাসনের বাইরের শিশুরাও তাদের শিল্পকর্ম তৈরি করার সুযোগ পাচ্ছে। যা পরবর্তীতে সৃজনের অঙ্গনের অংশ হয়ে উঠবে। তবে শুধু শিশুরা নয়, জেন জি এবং জেন আলফাও যেন এই উৎসবের নেপথ্যে থাকা সংস্কৃতিকেও বুঝতে পারে, সেই উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তারা হয়ত মা দুর্গাকে চেনে, কিন্তু, তারা কি জানে দেবীর হাতে থাকা বিভিন্ন অস্ত্রের তাৎপর্য কী? সেগুলির প্রতীকী অর্থ কী? মহিষাসুর কে? মহালয়া কী? আমরা কেন পুষ্পাঞ্জলি দিই? ধুনুচি নাচ বা শঙ্খধ্বনির গুরুত্বই বা কী? এসব জানানোর এক অভিনব প্রয়াস নেওয়া হয়েছে এবার। সান সিম্ফনি উৎসব সমিতির সম্পাদক অশোক পাল এবং সভাপতি ওয়াই সুধাকর জানিয়েছেন, প্রযুক্তি ভবিষ্যতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই প্রযুক্তির বিরুদ্ধে নয়, উদ্বেগ হল, অতিরিক্ত স্ক্রিন-নির্ভরতা। যাতে শিশুদের সৃজনশীলতা, শারীরিক কার্যকলাপ, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং নিজেদের সাংস্কৃতিক শিকড় সম্পর্কে জানার অনাগ্রহ। তাই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৃজনের অঙ্গনে ফুটে উঠবে সবই। আমরা চাই, সৃজনশীলতার মাধ্যমে দৃঢ় হোক সামাজিক বন্ধন।