সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: কাশীপুর ব্লকের কালিদহ পঞ্চায়েতের মনঝুপড়া গ্রামে তিনবছর ধরে ফাঁকা মাঠে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়াশোনা চলছে। বিদ্যালয়ের ভবন থেকে চাঙড় ভেঙে পড়ায় তিনবছর আগে ওই ভবন ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের তরফে নতুন স্কুলভবন তৈরির আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও একটা ইটও গাঁথা হয়নি। মনঝুপড়া গ্রামের উপরপাড়ায় যে মাঠে পড়াশোনা চলছে, তার পাশেই একটি ছোট জলাশয় থাকায় মশার উৎপাত রয়েছে। সেই মশার কামড় খেয়েই ছোট্ট পড়ুয়ারা লেখাপড়া করছে।
কাশীপুরের বিডিও সুপ্রিম দাস বলেন, পঞ্চায়েত সমিতির তরফে বিদ্যালয়ের ভবন তৈরির জন্য টেন্ডার করা হয়েছে। সেই টেন্ডার পাশ হলেই কাজ শুরু হবে।
১৯৩৩ সালে মনঝুপড়া গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু হয়। এখন সেখানে ৪৭জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। বাম আমলে বিদ্যালয় ভবন তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, ভবনটি তৈরির পর থেকে এখনও পর্যন্ত সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বিদ্যালয় ভবনটি বেহাল হয়ে পড়ে। কয়েকবছর ধরে প্রশাসনের সর্বস্তরে বিদ্যালয় ভবন সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু, তাতে লাভ হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মানস ঘোষাল, দীপক বাউরি, সুভাষ মণ্ডল বলেন, ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের গাছের তলায় পড়তে হচ্ছে। তিনবছর ধরে শুনে আসছি, নতুন বিদ্যালয় ভবন হবে। কিন্তু, এখনও তা হয়নি। প্রশাসনের তরফে নতুন বিদ্যালয় ভবনের প্রতিশ্রুতি পাওয়া মাত্র গ্রামের দিবাকর মণ্ডল ছয় ডেসিমল জমি দান করেছেন। কিন্তু, সরকার পদক্ষেপ করছে না।
এখন ফাঁকা মাঠে গাছের তলায় ক্লাস চলছে। তবে মিড-ডে মিল খাওয়ার জন্য ছাত্রছাত্রীদের ৫০০মিটার দূরে স্কুলভবনের কাছে যেতে হয়। কারণ পানীয় জলের ব্যবস্থা ও রান্নাঘর সেখানেই রয়েছে। ওই স্কুলের পড়ুয়া কিরণ বাউরি, রুদ্র বড়াল, ঋজু মণ্ডল বলে, বৃষ্টি হলে গাছতলায় পড়াশোনা করা যায় না। অন্য সময় মশা কামড়ায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবনীন্দ্রনাথ মাজি বলেন, ছেলেমেয়েদের গাছের তলায় পড়াতে হয়। শৌচাগার নেই। অফিসের কাগজপত্র, আলমারি, খেলাধুলোর সরঞ্জাম ত্রিপল দিয়ে ঢেকে বেহাল স্কুলভবনে রাখতে হয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে, মনে হচ্ছে বিদ্যালয় বন্ধ করে দিতে হবে। কাশীপুরের বিজেপি বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদা বলেন, তৃণমূলের রাজত্বে শিক্ষাব্যবস্থা শেষ। এখন তো দেখছি, স্কুলের ভবন গড়ার মতো টাকা সরকারের কাছে নেই। পুরুলিয়া প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান তথা জেলা তৃণমূল সভাপতি রাজীবলোচন সোরেন বলেন, বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। নিজস্ব চিত্র