সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: রাস্তাজুড়ে ছোট-বড় গর্ত। ঘটেই চলেছে দুর্ঘটনা। কিন্তু রাস্তার মেরামতে হুঁশ নেই প্রশাসনের। ফলে এই রাস্তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে পথচারীদের। বৃষ্টির সময়ে গর্তগুলিতে জল, কাদা জমে রাস্তাটা যেন হয়ে ওঠে নরকপথ। নবদ্বীপ-স্বরূপগঞ্জঘাট বাস স্ট্যান্ডে ঢোকার মুখে রাস্তার এমন করুণ দশা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় পাঁচ বছর আগে কৃষ্ণনগর জল প্রকল্পের জন্য পাইপ লাইন বসানোর কাজ হয়েছিল। সেইসময় এই রাস্তা খোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু পাইপ লাইনের কাজ শেষের পরে রাস্তার গর্তগুলি ঠিকমতো ঢালাই না করে সেখানে দায়সারা ভাবে কেবল মাটি ফেলা হয়েছিল। ফলে রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তাপস ঘোষ বলেন, সাধারণ মানুষের কথা ভেবে যে কোনও পঞ্চায়েতের কাজ করে দেওয়া উচিত ছিল। পিএইচই ওই রাস্তা সারাই না করলে এই কাজ পঞ্চয়েত সমিতি থেকে করে দেওয়া হবে।
নবদ্বীপের স্বরূপগঞ্জ ঘাট-কৃষ্ণনগর স্টেশন রুটের অটোচালক দিলীপ দেবনাথ বলেন, এই রাস্তায় যে কোনও সময় গাড়ি উল্টে যাবে। আমরা পঞ্চায়েত সমিতি, চরমাজদিয়া-চরব্রহ্মনগর পঞ্চায়েত সবাইকে বলেছি। রাস্তা মেরামত হয়নি।
আর এক অটোচালক সুভাষ বিশ্বাস বলেন, ওই রাস্তায় গর্তের পাশ দিয়ে গাড়ি চালাতে গেলে জল ছিটকে লোকের গায়ে লাগছে। এতে বাড়ছে উটকো অশান্তি। রাস্তার ভাঙা গর্তের জন্য আমাদের গাড়ির যন্ত্রাংশেরও ক্ষতি হচ্ছে।
নবদ্বীপ-স্বরূপগঞ্জ ঘাট বাসস্ট্যান্ডের এক প্রবীণ কর্মী বলেন, গর্তের জন্য বাসস্ট্যান্ডে বাস ধরতে যেতে যাত্রীদের অসুবিধা হচ্ছে। এই স্ট্যান্ড থেকে সকাল-সন্ধ্যে মোট ১৮টি গাড়ি চলে। স্থানীয় পঞ্চায়েত বলেছে, যারা পাইপ লাইনের কাজ করেছে তাঁরাই রাস্তা ঠিক করবে। আসলে জল প্রকল্পটি কৃষ্ণনগর পুরসভার। ওঁদের বক্তব্য, যে ঠিকাদার সংস্থা কাজ করছে তাঁদের সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি আছে। ওঁরাই রাস্তা সারাবে।
বিজেপি পরিচালিত স্বরূপগঞ্জ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান কানাই দাস বলেন, পিএইচই এখানে রাস্তা কেটেছে। কৃষ্ণনগর পুরসভা জলপ্রকল্পের পাইপ লাইন নিয়ে গিয়েছে। রাস্তার খারাপ অবস্থা নিয়ে পূর্ত বিভাগের কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। ওই জায়গা চরমাজদিয়া-চরব্রহ্মনগর পঞ্চায়েতের মৌজার মধ্যে পড়ে। কিন্তু তাঁরাও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তবে এই বাস স্ট্যান্ড স্বরূপগঞ্জ পঞ্চায়েতের অধীনে। কিন্তু আমাদের পঞ্চায়েতের একাজ করার মতো নিজস্ব কোনও তহবিল নেই। চরমাজদিয়া-চরব্রহ্মনগর পঞ্চায়েতের প্রধান স্বপন দেবনাথ বলেন, বাসস্ট্যান্ড স্বরূপগঞ্জ পঞ্চায়েতের অধীনে। তাঁরাই দেখভাল করে। এটা ঠিক বাসস্ট্যান্ডে ঢোকার মুখে যে জায়গাটা গর্ত হয়ে রয়েছে, সেই জায়গা চরমাজদিয়া- চরব্রহ্মনগর পঞ্চায়েতের মৌজা। কিন্তু ওইখানে যেসব দোকান আছে সেই দোকানগুলিকে স্বরূপগঞ্জ পঞ্চায়েত ট্রেড লাইসেন্স দিচ্ছে। অথচ ওই জায়গা সারানোর ব্যাপারে কোনও ভূমিকা নিচ্ছে না।
নবদ্বীপ-স্বরূপগঞ্জঘাট বাসস্ট্যান্ডে ঢোকার রাস্তায় গর্ত। -নিজস্ব চিত্র