সংবাদদাতা, সাঁইথিয়া: রাস্তায় পিচের আস্তরণ উঠে পাথর বেরিয়ে পড়েছে। কয়েকদিন বৃষ্টি না হওয়ায় বড় গাড়ি যাতায়াত করলেই পথ ধুলোয় ঢাকছে। রাস্তায় গর্তের কারণে সাইকেল-বাইক দুর্ঘটনাও ঘটছে। সিউড়ির রবীন্দ্রপল্লি বাইপাস থেকে হাটজনবাজারের মাদ্রাসাপল্লি অবধি রাস্তার এমনই দশা। স্থানীয়রা জানান, কয়েকমাস আগে এই আড়াই কিমি রাস্তায় এত গর্ত হয়ে গিয়েছিল যে, প্রশাসনের তরফে পাথরের গুঁড়ো দিয়ে তা বোজানো হয়। কিন্তু এতে সমস্যা আরও বেড়েছে। বড় গাড়ি গেলেই সেই গুঁড়ো পাথরের কারণে রাস্তা ধুলোয় ঢাকছে।
এবিষয়ে সিউড়ির ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার পিঙ্কি দাস বলেন, রাস্তাটি জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা বিষয়টি জেলা পরিষদকে জানিয়েছি। এই এলাকায় দু’তিনটি বড় দুর্গাপুজো হয়। তাই পুজোর আগেই রাস্তাটি সংস্কার শুরু হবে বলে আশা করছি।
হাটজনবাজারের রেল ওভারব্রিজের কাজের জন্য সিউড়ি-বোলপুর বাইপাস হিসেবে এই সড়কটি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েকবছর যেতে না যেতেই রাস্তার কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে পড়েছে। পুরসভা ও প্রশাসনের নানা মহলে জানানো হলেও রাস্তাটি সংস্কার হয়নি। স্থানীয় ছাত্রছাত্রীদেরও এই ভাঙা রাস্তা পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এক স্কুলছাত্রী বলে, এই রাস্তা দিয়ে রোজ আমাদের স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। বর্ষায় রাস্তার খানাখন্দে জল জমে থাকায় গর্ত কত গভীর-তা বোঝা যায় না। এর জন্য সাইকেল থেকে পড়ে জামাকাপড় নোংরা হয়েছে। আমার কিছু সহপাঠী পড়ে গিয়ে আঘাতও পেয়েছে। বৃষ্টি না থাকলে ট্রাক বা অন্য বড় গাড়ি যাতায়াতের সময় আমাদের দূরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। নয়তো ধুলোয় নাজেহাল হওয়ার পাশাপাশি রাস্তা থেকে পাথর ছিটকে আঘাত লাগার সম্ভাবনা থাকে।
সিউড়ি শহরের ১৮নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে দিয়ে এই রাস্তা গিয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরখানেক আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরন্দরপুরের সভায় যাতায়াতের জন্য রাস্তাটি অস্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু জোড়াতাপ্পি দেওয়ায় বৃষ্টির জলে তা ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে।
বাইক চালক জিৎ দাস বলেন, কয়েকবছর ধরেই রাস্তাটি বেহাল হয়ে রয়েছে। বড় গাড়ি পেরনোর সময় আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে পড়তে হয়। না হলে যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রাস্তাটি সংস্কারে তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।