Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দীর্ঘদিন ধরে বেহাল জেলুর মোড় থেকে রঞ্জিতপাড়া রাস্তা, ক্ষোভ

গত তিন বছর ধরে বেহাল অবস্থায় প্রসাদপুর পঞ্চায়েতের জেলুর মোড় থেকে রঞ্জিতপাড়া পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা।

দীর্ঘদিন ধরে বেহাল জেলুর মোড় থেকে রঞ্জিতপাড়া রাস্তা, ক্ষোভ
  • ২১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: গত তিন বছর ধরে বেহাল অবস্থায় প্রসাদপুর পঞ্চায়েতের জেলুর মোড় থেকে রঞ্জিতপাড়া পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা। পিচের আস্তরণ ও পাথর উঠে গিয়ে রাস্তাজুড়ে খানাখন্দ ও একাধিক বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তায় জল দাঁড়িয়ে যায়। তখন আর রাস্তায় থাকা গর্তগুলি বোঝার উপায় থাকে না। ফলে সেগুলি কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষ প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই ওই রাস্তায় চলাচল করতে বাধ্য হন। প্রায়শই পথচলতি মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হয়। 

Advertisement

গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে রাস্তায় এক হাঁটু জল জমেছে। নাজেহাল অবস্থা বাসিন্দাদের। স্বাভাবিকভাবেই রাস্তা সংস্কারের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী থেকে পথচলতি মানুষজন। তাঁদের অভিযোগ, রাস্তার দাবিতে একাধিকবার স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে ব্লক অফিসে দরবার করেও সুরাহা হয়নি।
মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ আবু তালেব বলেন, রাস্তাটি প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার অধীন। চার বছর আগে সংস্কার হয়েছিল। তারপর আর কাজ হয়নি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রাস্তাটির চরম বেহাল অবস্থা। চলাচল করা যায় না। রাস্তা সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার জানিয়েছি। আশ্বাস মিললেও কাজ হয়নি।
মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ ব্লকের প্রসাদপুর পঞ্চায়েতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক জেলুর মোড় থেকে রঞ্জিতপাড়া পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা। নজরদারির অভাব ও অবহেলায় গ্রামীণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি চরম বেহাল হয়ে পড়েছে। মুর্শিদাবাদের গুধিয়া, তেঁতুলিয়া, হাঁড়িভাঙা, প্রসাদপুর, বরফখানার পাশাপাশি ভগবানগোলা, রানিতলা থানার একটা অংশের বাসিন্দারা বিভিন্ন প্রয়োজনে মহকুমা শহর লালবাগে আসতে এই রাস্তাটি ব্যবহার করেন। ইসলামপুর ও দৌলতাবাদ থানার বাসিন্দারা লালবাগ হয়ে বহরমপুর যাওয়ার জন্য শর্টকাট হিসেবে এই রাস্তাটি ব্যবহার করেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন ওই রাস্তা দিয়ে ২৫-৩০ হাজার মানুষ যাতাযাত করে। গুধিয়ার বাসিন্দা আশাদুল শেখ বলেন, তিন বছরের বেশি সময় ধরে রাস্তাটি যাতাযাতের অযোগ্য হয়ে রয়েছে। সাইকেল, বাইক কোনওভাবে চলাচল করলেও টোটো ও ছোট গাড়ি যেতে চায় না। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা প্রসূতিকে লালবাগ হাসপাতালে নিয়ে যেতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মাহফুজ রহমান বলেন, এই রাস্তার পাশেই বরফখানা হাইস্কুল রয়েছে। স্কুলে ঢোকার মুখে রাস্তাজুড়ে বড় বড় গর্ত রয়েছে। গর্তে পড়ে পড়ুয়ারা মাঝেমধ্যে জখম হচ্ছে। তাছাড়া, এই রাস্তা দিয়ে পড়ুয়ারা লালবাগ কলেজ, নবাব বাহাদুর ইন্সটিটিউশন, সিঙ্ঘি স্কুল ও গভর্নমেন্ট স্পনসর্ড গালর্স স্কুলে যায়। রাস্তা খারাপের কারণে পড়াশোনা শিকেয় উঠছে। অপর বাসিন্দা মতিউর রহমান বলেন, প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে। অথচ স্থানীয় প্রশাসন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদাসীন। কিছুদিন আগেই টোটো উল্টে চারজন পড়ুয়া জখম হয়। সিঙ্ঘি স্কুলের দশম শ্রেণির এক পড়ুয়া বলে, গত বছর বর্ষায় স্কুলে যেতে গিয়ে গর্তে পড়ে মারাত্মকভাবে জখম হই। সেই কারণে রাস্তায় জল জমে থাকলে স্কুলে যাই না। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ