Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কং প্রার্থীর সমর্থনে বামেদের নিচুতলা সক্রিয় হবে তো, প্রশ্ন

খাতায় কলমে সমর্থন বাস্তবে দেখা যাবে কিনা, সেই দিকে নজর রাজনৈতিক মহলের।

কং প্রার্থীর সমর্থনে বামেদের নিচুতলা সক্রিয় হবে তো, প্রশ্ন
  • ৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সিপিএম নিচুতলাবেঁকে বসবে না তো? কালীগঞ্জ উপ নির্বাচনে সিপিএম আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার পর এমন প্রশ্ন উঠছে। খাতায় কলমে সমর্থন বাস্তবে দেখা যাবে কিনা, সেই দিকে নজর রাজনৈতিক মহলের। যদিও কালীগঞ্জের সিপিএম নেতৃত্বের মানভঞ্জনের জন্য দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। এমনকী দুই দলকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী কমিটি তৈরির সিদ্ধান্তও হয়েছে। যাতে ভোট প্রক্রিয়ায় সকলকে অংশগ্রহণ করানো যায়। যদিও রাজ্য থেকে জেলা নেতৃত্ব, কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের অবস্থান নিশ্চিত করেছে। কিন্তু নিচুতলায় তার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজ্য নেতাদের ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ কালীগঞ্জ বিধানসভার বাম কর্মী-সমর্থকদের রাজনৈতিক অবস্থানের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Advertisement

নদীয়া জেলা কংগ্রেসের সভাপতি অসীম সাহা বলেন, বিমানবাবু ইতিমধ্যেই সবাইকে বার্তা দিয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করার।‌ আমি সিপিএমের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বসেছিলাম। উনিও খুব শিগগিরই সিপিএমের স্থানীয় নেতৃত্বদের সঙ্গে বসবেন। ব্যাপারটা মিটে গিয়েছে। 
কংগ্রেস প্রার্থী কাবিলউদ্দিন শেখ বলেন, আমরা সবাই মিলে জেলা নেতৃত্বর সঙ্গে বসেছিলাম। বিগত দিনের মতো এবারও বাম-কংগ্রেস কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভোটে লড়বে। আমিও কালীগঞ্জ ব্লকের বাম নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা যে লিফলেট বানিয়েছি তাতে কংগ্রেসের পাশাপাশি সিপিএম নেতৃত্বের নামও রয়েছে। সিপিএমের নদীয়া জেলার সম্পাদক মেঘলাল শেখ বলেন, আমরা কংগ্রেসের সঙ্গে কথা বলেছি। স্থানীয় বাম নেতৃত্বর সঙ্গে কথা বলে সকলকেই নির্বাচনী ময়দানে নামানো হবে।‌ লড়াই হবে, এটুকু বলতে পারি।
কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের মধ্যে প্রার্থী নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। বাম-কংগ্রেস জোট থাকলেও, কোন দল এই কেন্দ্রে প্রার্থী দেবে তা নিয়ে শুরু থেকেই জলঘোলা চলছিল। অতীতে এই আসনটিতে আরএসপি প্রার্থী দিত। সেই সূত্র ধরেই বামফ্রন্টের শরিক দল হিসেবে আরএসপি এই আসনের দাবিদার হিসেবে উঠে আসে। অন্যদিকে, সিপিএম চাইছিল, পুরনো ধারা থেকে সরে এসে এবার তাদের দলের কাউকেই প্রার্থী করা হোক।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সিপিএম-এর এই দাবি অযৌক্তিক ছিল না। কারণ, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কালীগঞ্জ বিধানসভায় সিপিএম প্রার্থী প্রায় ৩৫ হাজার ভোট পান। সেই ফলাফলের পর থেকেই এই কেন্দ্রে বাম শিবিরে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। 
প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়টি বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি করে। আলোচনা ও দর কষাকষির পর শেষপর্যন্ত কংগ্রেসই এই আসনে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করে। বামফ্রন্ট ‹খাতায়-কলমে› কংগ্রেসের প্রার্থীকে সমর্থন জানালেও, বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্বের অভিযোগ, রবিবার রাত পর্যন্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট বার্তা দেওয়া হয়নি। যার জন্য সোমবার যখন কংগ্রেসের প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন, সেই সময় বামফ্রন্টের কোনও প্রতিনিধিকে সেখানে দেখা যায়নি। যার ফলে শুরুতেই সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ