অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: থিমের সাজে সেজে উঠছে মণ্ডপ। খবরের কাগজে মুখ ঢেকে কৃষ্ণনগর থেকে এসে গিয়েছেন উমা। নিউটাউন মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে এখন উৎসবের ছবি। বসেছে মেলা। তবে উৎসবের এই দৃশ্য আগে দেখেনি নিউটাউন। কারণ বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীর হাত দিয়ে শুরু হয়েছিল যে পুজোর তা রাজনৈতিক আক্রোশে নাকি অনুমতি দেওয়া নিয়ে বিগত সরকারের সঙ্গে দড়ি টানাটানি হয়। বিরোধী দলনেতার প্রতি আক্রোশের কারণে অসহযোগিতা করেছিল সরকার। ফলে গত দু’বছর পুজো করতে পারেনি উদ্যোক্তারা। তবে রাখে হরি তো মারে কে? সেই বিরোধী দলনেতা এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাই এবার উৎসব হচ্ছে আড়ম্বর সহকারে। দু’বছর বন্ধ থাকার পর ফের সাজছে নিউটাউন সনাতনী দুর্গাপুজো।
পুজোর উদ্বোধনেও বসতে চলেছে চাঁদের হাট। আমন্ত্রণ করা হয়েছে দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, শুভেন্দু অধিকারী সহ ২১ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে। পুজোর চেয়ারম্যান মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত। প্রধান পৃষ্ঠপোষক কার্তিক মহারাজ। সভাপতি জর্জ বেকার। এবার পুজো যে হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভিড় টানবে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই উদ্যোক্তাদের। বিশ্ববাংলা গেটের সামনে নিউটাউন মেলাপ্রাঙ্গণ। সেখানে চলছে জোরকদমে প্রস্তুতি। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে বসেছে প্রাক পুজো মেলা। সোমবার এসেছে ‘ইসরো অন হুইলস’। পুজোর উদ্যোক্তা অর্ণব দাস বলেন, ‘সনাতন থেকে বিজ্ঞান, এই থিমেই সাজছে মণ্ডপ।’
পুজোর কর্ণধার বরুণ বিশ্বাস শোনালেন পুজোর ইতিহাস। তিনি বলেন, ‘২০২২ সালে আমরা পুজো শুরু করি। তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন উদ্বোধক। তাঁর হাত দিয়েই নিউটাউন সনাতনী দুর্গাপুজোর সূচনা। ২০২৩ সালেও পুজো হয়েছিল। কিন্তু রামমন্দির থিমের অনুমতি চাইতেই ২০২৪ সালে আর অনুমতি মিলল না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে আমরা আদালতে গিয়েছিলাম। পঞ্চমীর দিন রাত ৮ টায় অনুমতি দেয় এনকেডিএ। তাও আবার নিউটাউন মেলাপ্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে হনুমান মন্দিরের কাছে। তাই ২০২৪ সালে পুজো বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৫ সালেও একই কৌশল নেয় সরকার। ১১ মাস ধরে আমাদের অনুমতি আটকে রাখে এনকেডিএ। তাই ওই বছরও পুজো করতে পারিনি। এবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই দু’বছর বন্ধ থাকার পর এবার আড়ম্বরের সহিত মায়ের পুজো হবে। ১৩ অক্টোবর উদ্বোধনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সহ ২১ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ করেছি। ৭৬ দেশের ডেপুটি হাই কমিশনার, শাসক ও বিরোধী রাজ্যের ২৯২ বিধায়ক, আমাদের ১৮ সাংসদকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। এক অন্য পুজো দেখতে চলেছে নিউটাউন। নিজস্ব চিত্র