সংবাদদাতা, বারুইপুর: সামনেই দুর্গাপুজো। জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। কিন্তু তার মধ্যে ভয়ঙ্কর ছবি ধরা পড়ল বারুইপুরে। এখানে একাধিক জায়গায় বিপজ্জনকভাবে গেট তৈরি হয়েছে রাস্তার উপর। কোথাও বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের সঙ্গে, কোথাও আবার বিদ্যুতের পোস্টের সঙ্গে দড়ি বেঁধে বাঁশ লাগানো হয়েছে। অথচ বিষয়টি জানেই না পুলিশ ও বিদ্যুৎ বিভাগ! তাঁরা একথা শুনে আকাশ থেকে পড়েছেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, কুলপি রোডে বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার ও মহকুমা শাসকের অফিসের নাকের ডগায় এমন একটি গেট তৈরি হলেও তা নজরে আসেনি পুলিশের। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন এলাকার মানুষ। তাঁরা ভিডিয়ো পোস্ট করে দুর্ঘটনার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। ভাইরাল হওয়া এই পোস্ট দেখে টনক নড়েছে প্রশাসনের। আজ, সোমবার পুলিশ ও বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন পরিদর্শন করবেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু কী করে পুলিশ প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এভাবে গেট লাগানো হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বারুইপুর রেলগেটের কাছে কালীতলা মোড়। এখানে একদিকে বিদ্যুতের খুঁটি, আর অন্যদিকে রয়েছে ট্রান্সফরমার। দু’দিকেই দড়ি দিয়ে বাঁশের কাঠামো বাঁধা হয়েছে। এই জায়গাটি জনবহুল। রয়েছে শপিং মল সহ একাধিক দোকান। আছে অটো স্ট্যান্ড। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এখানে কী করে বাঁশের কাঠামো হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের কথায়, শর্ট সার্কিট হলে তো কথাই নেই! বড়ো বিপদ হতে পারে। বিপদ হলে তবে টনক নড়বে প্রশাসনের। একই অবস্থা বারুইপুরের পুরাতন বাজার মোড় থেকে জয়নগরের দিকে যাওয়ার রাস্তায়। সেখানে ট্রান্সফরমারের সঙ্গে দড়ি বেঁধে পুজোর গেট নির্মাণ হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রশাসনের উচিত পুজো কমিটিগুলিকে ডেকে সতর্ক করা। এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনা বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার এক কর্তা বলেন, পুলিশের সঙ্গে এব্যাপারে কথা হয়েছে। বারুইপুর পুলিশ জেলার এক আধিকারিক বলেন, কীভাবে এমন কাজ হয়েছে এবং কারা করেছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে। আজই পরিদর্শন করা হবে।
বারুইপুরের কুলপি রোডে যত্রতত্র ছড়িয়ে রয়েছে বাঁশ। ফলে পথচারী থেকে শুরু করে গাড়িচালকদের যাতায়াত করতে সমস্যা হচ্ছে। এর সঙ্গে জুড়েছে বেআইনি পার্কিং। ফলে বাঁশ আর গাড়ির সারির কারণে এই রাস্তা দিয়ে এখন চলাচল করাই দায়!