নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম রাজ্যের পশ্চিম প্রান্তের ছোট্ট জেলা। নদী অববাহিকা, জঙ্গল, পাহাড়ী এলাকার ছোট গ্ৰামের মানুষের জীবন কেটেছে দারিদ্রে। অনুন্নয়নের চেনা ছবি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকের আলমপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে উন্নয়ন।
আলমপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েত মূলত কৃষি প্রধান এলাকা। ১২ হাজার মানুষের বসবাস। চাষবাসের সঙ্গে, হাঁড়ি, কলসি তৈরি করেন অনেকে। গ্ৰামের বিভিন্ন এলাকায় সপ্তাহে একদিন হাট বসে। বেশিরভাগ চাষি আগে জমির সব্জি এখানে বিক্রি করতে আসতেন। পিচ কংক্রিটের রাস্তা তৈরি হবার পর ধান, সব্জি এখন জেলা শহর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড রাজ্যে যাচ্ছে। গ্ৰামের মানুষ এখন সহজে বাজার, পঞ্চায়েত অফিস, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে যেতে পারছেন। আগে পানীয় জলের সমস্যা ছিল। বর্তমানে পঞ্চায়েতের ১১টি সংসদ এলাকায় পাইপলাইন বসিয়ে নিয়মিত জল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাড়ি বাড়ি বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আগের মতো এখন লোডশেডিং হয় না।
এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য এলাকায় স্থায়ী স্টল গড়ে তোলা হয়েছে। পঞ্চায়েতের তেঁতুলিয়া, বাকরা সংসদ এলাকায় কংক্রিটের রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। দূষণমুক্ত গ্ৰাম গড়ে তুলতে চিতামাটিয়া, বাকড়া, আলমপুরের সংসদ এলাকায় পাকা ড্রেন তৈরি হয়েছে। অন্য সংসদ এলাকার কাঁচা নালা ধাপে ধাপে পাকা করা হবে। বাকরা এলাকায় স্থানীয় ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারে স্টল গড়ে দেওয়া হয়েছে। বেকার যুবকদের সেই স্টল দেওয়া হবে। প্রত্যেক সংসদে শৌচালয় গড়ে তোলা হয়েছে। গ্ৰামের মহিলারা স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়ে রোজগার করছেন। মৃতপ্রায় কুটিরশিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
আলমপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান স্বপনকুমার সাউ বলেন, দশকের পর দশক ধরে এই এলাকার মানুষ অভাব অনাটনে দিন কাটিয়েছেন। গ্ৰামগুলি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো ছিল। গ্ৰাম থেকে প্রধান সড়কে যাওয়ার ভালো রাস্তা ছিল না। ছোট চাষিরা জমির ফসল স্থানীয় হাটে বিক্রি করে সামান্য রোজগার করতেন। এখন ধান, সব্জি ভিনরাজ্যে যাচ্ছে। সার্বিক উন্নয়নে গ্ৰামের মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
গোপীবল্লভপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হেমন্ত ঘোষ বলেন, ব্লকের তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতগুলিতে উন্নয়নের কর্মযোগ্য চলছে। গত দেড় দশকে গ্ৰামীণ এলাকার মানুষের রোজগার বৃদ্ধি পেয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের হাত ধরে মহিলাদের আর্থ সামাজিক অবস্থার বদল ঘটেছে। কৃষক শস্যবিমার জন্য উপকৃত হচ্ছেন। বিকল্প চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। গ্ৰামে ছোট স্টল তৈরি করে ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসার ঘটানো হচ্ছে। গ্ৰামের বাসিন্দা মিনতি শ্যামল বলেন, স্বরোজগার গ্ৰামের মেয়েদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করে দিচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র