নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া ও সংবাদদাতা, মানবাজার: দলীয় পতাকাকে সামনে রেখে ব্লকে বর্ণাঢ্য মিছিল হচ্ছে। অথচ তা জানেনই না তৃণমূল ব্লক সভাপতি। মিছিলে নেই অঞ্চল সভাপতিরাও। শনিবার পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লকে এমনই একটি মিছিল নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। প্রকাশ্যে এসেছে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল।
শনিবার সকালে পুঞ্চায় তৃণমূলের একটি মিছিল হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং ওবিসি সংরক্ষণ বাড়ানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে এই মিছিল হয়। পুঞ্চা কৃষক বাজার থেকে হরিমন্দির পর্যন্ত ওই মিছিল হয়। মিছিলের আয়োজক ছিলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। মিছিলে একজন ছাড়া কোনও অঞ্চল সভাপতি উপস্থিত ছিলেন না। দেখা যায়নি ব্লক সভাপতি সহ অন্যান্য দলীয় পদাধিকারীদের। ব্লক সভাপতি অশোক মাহাতর দাবি, এই মিছিল দলীয় নয়, ব্যক্তিগত। যারা দুর্দিনে তৃণমূলের বিরোধিতা করেছে, দলকে বিপাকে ফেলেছে, তাদেরই মিছিলের সামনের সারিতে দেখা গিয়েছে।
পাণিপাথরের অঞ্চলের সভাপতি অম্বুজকুমার গোপ, চাঁদড়া অঞ্চলের চন্দন অধিকারীরাও বলছিলেন, মিছিল একটা হবে শুনেছিলাম। তবে তা দলীয় মিছিল নয় বলে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করিনি।
এনিয়ে অবশ্য সুজয়বাবুর জবাব, পুঞ্চা ব্লকে কেউ নেতা আছে বলে আমি জানি না। আমি আর কৃষ্ণ মাহাতই রয়েছি বলে জানি। তাঁর দাবি, সেনাকে কুর্নিশ জানিয়ে এর আগে যে মিছিলটা হয়েছিল, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক ছিল। অনেক কম লোক হয়েছিল। তাই এই মিছিলটা করতে হল। তবে, ব্লক সভাপতির দাবি, উনি নিজেকে ভাসিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। মিছিল করে দলের কাছে নিজের গুরুত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
তৃণমূল সূত্রের খবর, সম্প্রতি তৃণমূলের সাংগঠনিক রদবদল হওয়ার পর থেকেই দলের মধ্যে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন সুজয়বাবু। তাই দলের কাছে তিনি কতটা ‘গুরুত্বপূর্ণ’, তা বোঝাতেই এই মিছিলের আয়োজন। তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, এর আগে জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়ার অপসারণের দাবি তুলে ‘অগ্রণী’ ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল সুজয়বাবুকে। দলের প্রায় ১১ জন পদস্থ নেতাকে একত্রিত করে জেলা সভাপতির রদবদল চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন শীর্ষ নেতৃত্বকে।
ঘনিষ্ঠদের আশা ছিল, জেলা সভাপতি না হোক, অন্তত চেয়ারম্যান পদে দেখা যাবে সুজয়বাবুকে। কিন্তু, তা তো হলই না, ঘুরিয়ে সুজয়বাবুর বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর নেতা বলে পরিচিত শান্তিরাম মাহাতকেই চেয়ারম্যান করে দল। -নিজস্ব চিত্র