আমাদের পক্ষে এটি শেখা দরকার যাতে আমরা সকল বিষয়ে ভগবৎ কৃপারই উপর নির্ভর করতে পারি এবং সকল ব্যাপারেই তার সাহায্য চাইতে পারি; তাহলে সেই কৃপার দ্বারা নিত্য অঘটন ঘটবে।
আমাদের পক্ষে এটি শেখা দরকার যাতে আমরা সকল বিষয়ে ভগবৎ কৃপারই উপর নির্ভর করতে পারি এবং সকল ব্যাপারেই তার সাহায্য চাইতে পারি; তাহলে সেই কৃপার দ্বারা নিত্য অঘটন ঘটবে।
উপরে সব কিছুই শাশ্বত, সুসম্পূর্ণ; কিন্তু বাস্তব জগতে সেগুলি প্রকাশ পাবে একের পর এক হয়ে, কারণ তার সম্ভূতি হবে কালানুযায়ী পূর্বাপর ভাবে। তা কেমন রীতিতে হবে? কারণ উপরে তো সব কিছুই সম্পূর্ণ মুক্ত।…তাহলে কে বলতে পারে যে কোন তীব্রতম আস্পৃহা বা তীব্রতম প্রার্থনা সেই প্রকাশের ধারার গতি বদলে দিতে পারবে না?
অর্থাৎ এখানে সব কিছুই সম্ভব হতে পারে।
অতএব আমাদের আস্পৃহা জোরালো এবং প্রার্থনা তীব্রতম হওয়া দরকার। মানুষের প্রকৃতির মধ্যে তেমন ক্ষমতা দেওয়া আছে। কেবল মানব প্রকৃতিই এই বিশেষ অপূর্ব কৃপা লাভ করেছে, কেবল আমরা জানি না তার সদ্ব্যবহার।
তোমার আস্পৃহা যদি তেমন জোরালো হয়, প্রার্থনা যদি তেমন তীব্র হয়, তাহলে তোমার মধ্যে এমন কিছু বানিয়ে আনতে পারো যার দ্বারা সব কিছুই বদ্লে যায়, প্রকৃতপক্ষে সমস্তই ওলট-পালট হয়ে যায়। একটি ছোট্ট দৃষ্টান্ত দিয়ে বোঝাই। মনে কর একটা পাথর কিংবা একটা টালি উপর থেকে পড়ছে আল্গা হয়ে; কিন্তু যদি সেখান দিয়ে যেতে যেতে, মনের বা প্রাণের ইচ্ছাতে সেটা পড়ে কারো অনিষ্ট হতে দিতে না চেয়ে সেখানে তার হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে সেটা নিচে না পড়ে তার হাতের উপরেই পড়বে, সেই পাথর বা টালির মাটিতে পড়বার যে নিয়তি ছিল সেটা বদ্লে যাবে। সেটা কারো মাথায় না পড়ে বা আঘাত না করে ঐ হাতের দ্বারাই আট্কে যাবে। যে ক্রিয়া অচেতন ভাবে হতে যাচ্ছিল তা চেতন ইচ্ছার দ্বারা প্রতিরুদ্ধ হবে।
তাই বলছি যে, তোমার আস্পৃহা তেমন ঐকান্তিক বা প্রার্থনা তেমন তীব্র হওয়া দরকার। “কিংবা” বলছি এই জন্য যে কেউ-বা এটা পছন্দ করে কেউ-বা ওটা পছন্দ করে। কিন্তু দুয়েরই আশ্চর্য শক্তি আছে, কেবল তা প্রয়োগ করতে জানা চাই।
দুই জিনিসেরই চমৎকার গুণ আছে, দুইই সমান ফলপ্রদ। কেউ কেউ প্রার্থনা অপছন্দ করে; তাদের হৃদয়ের মধ্যে যদি খুঁজে দেখ তো দেখবে সেখানে রয়েছে আত্মগর্ব, দম্ভ। আবার কেউ কেউ আস্পৃহা করতে পারে না; তার কারণ তাদের মধ্যে ইচ্ছার এবং নম্রতার শিখা জ্বলে না। কিন্তু দুইই প্রয়োজন। নিজের কর্মকে বদলাবার জন্য ইচ্ছার জোরও চাই আবার দীনতাও চাই। শ্রীঅরবিন্দের ‘প্রার্থনা ও মন্ত্র’ থেকে