Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কোচবিহার ও বর্ধমান রাজপরিবারের স্মৃতিজড়িত পুজো নৃপেন্দ্রনারায়ণ হলে

অঞ্জলি থেকে ভোগ। সঙ্গে মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা। গান, নৃত্য ও নাটক। এমনকী, কাকদ্বীপের চার মহিলা ঢাকির কলাকৌশল প্রদর্শন। এবার পুজোয় পর্যটকদের আপ্যায়ণে এমন পরিকল্পনা নিয়েছে শৈলশহর দার্জিলিং।

কোচবিহার ও বর্ধমান রাজপরিবারের স্মৃতিজড়িত পুজো নৃপেন্দ্রনারায়ণ হলে
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: অঞ্জলি থেকে ভোগ। সঙ্গে মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা। গান, নৃত্য ও নাটক। এমনকী, কাকদ্বীপের চার মহিলা ঢাকির কলাকৌশল প্রদর্শন। এবার পুজোয় পর্যটকদের আপ্যায়ণে এমন পরিকল্পনা নিয়েছে শৈলশহর দার্জিলিং। এজন্য পাহাড়ের শতাব্দী প্রাচীন নৃপেন্দ্র নারায়ণ বেঙ্গলি হিন্দু হল দুর্গাপুজো কমিটি প্রস্তুতি মিটিং করেছে। এই পুজো কোচবিহার ও বর্ধমানের রাজপরিবারের স্মৃতিবিজরিত। 

Advertisement

একদা বর্ধমানের রাজমাতা স্বর্ণমুদ্রা দান করে প্রতিমা বরণ করতেন। সেই প্রথায় ইতি পড়লেও এখনও পুজোর নিমন্ত্রণ যায় বর্ধমান রাজপরিবারে। সেই সঙ্গে প্রাচীন প্রথা মেনে মায়ের কাছে চালকুমড়ো, আখ ও কলা বলি দেওয়া হয়। নৃপেন্দ্র নারায়ণ বেঙ্গলি হিন্দু হল দুর্গাপুজো কমিটি ও শ্রীমন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রতাপাদিত্য গুহ বলেন, পুজোয় পর্যটকদের আপ্যায়ণে খামতি রাখা হবে না। এজন্য সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এবারও পুজোয় পর্যটকদের ঢল নামবে বলেই আশা করছি। 
দার্জিলিং জেলার প্রাচীন দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে শৈলশহরের নৃপেন্দ্র নারায়ণ বেঙ্গলি হিন্দু হলের পুজো অন্যতম। ১৯১৪ সালে  ব্রিটিশ শাসনকালে কয়েকজন বাঙালি এই পুজোর সূচনা করেন। জমিদান করেন কোচবিহারের মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ। এজন্য তাঁর নামেই সেই হলের নামকরণ করা হয়। সেই সময় পুজোতে সহায়তা মিলত দার্জিলিংয়ে থাকা বর্ধমান রাজপ্রাসাদ থেকে। কাঁসার পাত্রে সীতাভোগ, মিহিদানা, মণ্ডা সহ বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি ও স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে দেবীর মুখদর্শন করতেন বর্ধমানের রাজমাতা। পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বর্ধমান রাজপরিবারের সেই সহায়তা মেলে না। তা হলেও নিয়ম করে পুজোর আমন্ত্রণপত্র রাজপ্রাসাদে পাঠানো হয়। এবারও আমন্ত্রণ পাঠানো হবে। এবার পুজোর ১১১ বছর। 
এদিকে, রাজ্য তো বটেই দেশের পর্যটন মানচিত্রে দার্জিলিংয়ের নাম অন্যতম। ফি বছর পুজোয় পাহাড়ে ভিড় করেন পর্যটকরা। তাই শতাব্দী প্রাচীন এই পুজো পর্যটকদের আপ্যায়ণে সবরকম ব্যবস্থা করছে। পুজো কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী তিনদিনই অঞ্জলি হয়। পর্যটকরা যাতে অঞ্জলি দিতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা হয়। একইসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদেরও তিনদিন ভোগ খাওয়ানো হয়। ভোগের মেনু খিচুড়ি, লাবরা ও চাটনি। পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, পর্যটকদের সুবিধার্থে পুজো ও অঞ্জলির সময়সূচি প্রতিটি হোটেল ও ট্যুর অপারেটরদের আগাম জানানো হয়। 
শুধু অঞ্জলি দেওয়া ও ভোগ বিলি নয়, এবারের পুজোয় থাকছে মনোরঞ্জনের ঢের উপকরণ। পুজোর উদ্যোক্তারা জানান, প্রাচীন রীতি মেনে দশভুজার কাছে চালকুমড়ো, আখ ও কলা বলি দেওয়া হবে। অষ্টমীতে হবে কুমারীপুজো। এরবাইরে তিনদিনই মণ্ডপ চত্বরে নাচ, গান ও নাটক হবে। এবারের চমক দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের চার মহিলা ঢাকির কলাকৌশল, ধুনুচি নৃত্য। প্রতিটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন পর্যটকরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ