সংবাদদাতা, কাটোয়া: সোনার দাম আকাশছোঁয়া। ফলে কাজ পাচ্ছেন না কাটোয়ার বিষ্ণুপুর গ্রামের পরিযায়ী স্বর্ণশিল্পীরা। মুম্বই, জয়পুরে কাজের বরাত মিলছে না। তার রেশ এসে পড়েছে সেখানকার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আয়োজনেও। রোজগার কমে যাওয়ায় বিগ বাজেটের পুজোয় এবার বাজেট কাটছাঁট করতে হয়েছে। বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দারা বরাবরই লক্ষ্মীপুজোতেই দুর্গাপুজোর স্বাদ মেটাতেন। তবে এবার বাজেটে কাটছাঁটের জেরে পুজোয় জৌলুস কমে যাওয়ায় তাঁরা হতাশ।
প্রতি বছরের মতো এবারও বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দারা মা লক্ষ্মীর আরাধনায় মেতেছেন। কিন্তু, মণ্ডপসজ্জায় বাজেট কমে যাওয়ায় তাঁদের মন খারাপ। তাঁদের সাফ বক্তব্য, গ্রামের বেশিরভাগ ছেলেই ভিনরাজ্যে পরিয়ায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। প্রত্যেকেই সোনা-রুপোর কারিগর হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু, সোনার দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যাওয়ায় তাঁরা বাইরে কাজ পাচ্ছেন না। রোজগার কম হচ্ছে। তাই লক্ষ্মীপুজোর বাজেটেও কাটছাঁট করতে হয়েছে। এবারে বাজেট ৩-৪ লক্ষ থেকে কমে দেড়-দু’লক্ষ টাকা করা হচ্ছে।
বিষ্ণুপুর গ্রামের ইয়ংস্টার ক্লাবের সম্পাদক জগন্নাথ পাল বলেন, এবার আমাদের মণ্ডপ তৈরি হয়েছে ঠিকই। তবে গতবারের চেয়ে বাজেট কম। এবার দু’লক্ষ টাকার মধ্যেই পুজো ও চারদিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সারতে হচ্ছে। গ্রামের নাগিন স্টার ক্লাবের সম্পাদক নোটন দাস বলেন, আমাদের এবার ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকার মধ্যেই পুজো সারতে হচ্ছে। পরিযায়ী শ্রমিক মিন্টু দাস, বুদ্ধদেব সরকার বলেন, সোনার দাম বেড়ে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা হয়েছে। জয়পুরে কাজ কম হচ্ছে। তাই পুজোতেও এবার সেভাবে খরচ করতে পারছি না। গিনিস্টার ক্লাবের সম্পাদক নন্দ সরকার বলেন, এবছর আমাদের বাজেট ৪ লক্ষ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ লক্ষ টাকা করতে হয়েছে।
কাটোয়া-২ ব্লকের জগদানন্দপুরের বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দারা লক্ষ্মীপুজোতেই দুর্গাপুজোর স্বাদ মেটান। গ্রামবাসীরা বলেন, বিষ্ণুপুর গ্রামের বেশিরভাগ যুবকই সোনা-রুপোর কাজ করতে দিল্লি, মুম্বই, দিল্লি সহ ভিনরাজ্যে পাড়ি দেন। দুর্গাপুজোয় তাঁরা বাড়ি ফিরতে পারেন না। তাই লক্ষ্মীপুজোয় বাড়ি ফিরে ধনদেবীর আরাধনা করেই তাঁরা দুর্গাপুজোর আনন্দ পুষিয়ে নেন। লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষ্যে গ্রামবাসীরা চারদিন ধরে উৎসবে মাতেন। গ্রামে নানারকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়, বাড়ি বাড়ি আত্মীয়-স্বজন আসেন। এবারে পুজোয় কোথাও গ্রাম্য পরিবেশে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে। আবার কোথাও মণ্ডপের ভিতরে নানা রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। চোখ ধাঁধানো রঙিন আলোয় মণ্ডপ সাজানো হয়েছে।
পাশাপাশি, পূর্বস্থলীর সরডাঙা গ্রামজুড়েও লক্ষ্মীপুজোয় থিমের ছড়াছড়ি। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষ্যে কাটোয়া, পূর্বস্থলীজুড়ে যেন শারদীয়ার আমেজ শুরু হয়েছে।