সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতীর সংগীত ভবনে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক আলোচনা সভা। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার শান্তিনিকেতনে উত্তরায়ন ক্যাম্পাসে কোনার্ক বাড়ির সামনে মঞ্চস্থ হল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা নৃত্যনাট্য ‘নটীর পূজা’। উল্লেখ্য, এই বাড়ির প্রাঙ্গণে একশো বছর আগে রবীন্দ্রনাথ এই নাটক মঞ্চস্থ করেছিলেন। শতবর্ষ পূর্তিতে সেই একই প্রাঙ্গণে আবার অভিনীত হল নাটকটি।সংগীত ভবনের অধ্যাপক অমর্ত্য মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় প্রায় ২৫ জন ছাত্রী এই প্রযোজনায় অংশগ্রহণ করেন। রবীন্দ্রনৃত্যের আঙ্গিকে উপস্থাপিত এই নাটকে সুর, নৃত্য ও অভিনয়ের সুনিপুণ সমন্বয় ফুটে ওঠে।
জানা যায়, এই নাটকের মধ্য দিয়ে সমাজে সাধারণ মেয়েদের নিয়ে নাচ, গান ও নাট্যাভিনয়ের সূচনা রবীন্দ্রনাথই করেছিলেন। একশো বছর আগে ‘নটীর পূজা’র মঞ্চায়নের মধ্য দিয়েই নারীদের অভিনয়ের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে সম্মান জানিয়েই আয়োজিত হয় এই বিশেষ প্রযোজনা। এই নাটকে সংগীত ভবনের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ থিয়েটার উৎসবের আয়োজক এই প্রতিষ্ঠান। তাঁরা তাঁদের আন্তর্জাতিক থিয়েটার উৎসবের অংশ হিসেবেও এই প্রযোজনাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এমনকি উত্তরায়নকে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ফলে এই অনুষ্ঠানের গুরুত্ব শুধু ঐতিহ্যগত নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি বিশ্বভারতী ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃতি পেয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে এই প্রযোজনাকে ‘লিভিং হেরিটেজ’-এর অংশ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে বলে জানান তাঁরা।