রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: এক সময়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিরোধিতা করতে গিয়ে পথে বসেছিল বিজেপি, এবার যুবসাথীর শক্তি পরখ করবে তারা। এমনটাই দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন, স্বশক্তিকরণ, আগামীর পথে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করা— মূলত এই ভিতের উপর দাঁড়িয়ে বাংলার মানুষের পাশে থাকার সংকল্প নিয়েছে তৃণমূল সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এবং তাঁর সরকার বারবার এটা প্রমাণ করেছে যে, বাংলার মানুষের সার্বিক উন্নয়নই তাদের লক্ষ্য। যেখানে কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্প বিশ্ব দরবারে প্রশংসিত হয়েছে এবং স্বীকৃতি অর্জন করেছে, সেখানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পকে আজ অনুসরণ করছে দেশের একাধিক রাজ্য। এই তালিকায় রয়েছে মা ক্যান্টিনও। এই পরিসরে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল সরকারের যুবসাথী প্রকল্পকে মাস্টার্স স্ট্রোক হিসেবেই দেখছেন রাজনীতির কারবারিরা। তৃণমূল নেতৃত্ব বলছে, বিজেপি ও বাম নেতাদের রক্তে শুধুই বিরোধিতা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে তামাম বাংলার নারীরা যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন খামোখা বিরোধিতা করেছিল বিরোধীরা। এবার ওরা বুঝবে যুবসাথীর শক্তি কতটা!
২০২১ সালের নির্বাচনে ট্রাম কার্ড ছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। এই প্রকল্পের জন্যই বাংলার মহিলারা উজাড় করে সমর্থন দিয়েছিলেন তৃণমূলকে। সেবার তৃণমূল একাই জিতেছিল ২১৫টি আসনে। ওই ভোটে নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠেছিলেন মহিলারা। তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, ২ কোটি ২১ লক্ষ মহিলা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হয়েছেন। তাঁরা এখন মাসে হাতে পাচ্ছেন ১৫০০ টাকা এবং তফসিলি মহিলারা পাচ্ছেন ১৭০০ টাকা। এর সঙ্গে ২২ লক্ষ মহিলাকে রূপশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। মহিলাদের নিরাপত্তায় জোর দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। অপরাজিতা বিল এবং ‘রাত্তিরের সাথী’ উদ্যোগ তার মধ্যে অগ্রগণ্য। যেখানে পঞ্চায়েত স্তরে দেশে মহিলা প্রতিনিধির হার ৪৫.৬ শতাংশ, সেখানে বাংলায় এই হার ৫১.৪ শতাংশ। তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, মহিলাদের সামাজিক সুরক্ষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন অঙ্গীকারবদ্ধ, তেমনই বাংলার যুবদের পাশে দাঁড়াতে তার যুবসাথী প্রকল্প নজির সৃষ্টি করেছে। মাসে দেড় হাজার টাকা করে যুবদের ভাতা দেওয়ার বিষয়ে বিরোধীরা যখন কটাক্ষ করছে, তখন পরিসংখ্যান বলছে, ৮৪ লক্ষ ৫৭ হাজার ৬৩০ জন যুবসাথী প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছেন। এই পরিসংখ্যানই বুঝিয়ে দিচ্ছে, বাংলার যুবসমাজের বিরাট অংশ এই প্রকল্পকে সমর্থন জানিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই যুবদের ওই অংশ যে ভোটের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই থাকবে, তা সহজেই অনুমেয়।
তৃণমূলের পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তথা বিধায়ক অজিত মাইতি বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিরোধিতা করে পথে বসেছিল বিজেপি, এবার যুবসাথীর শক্তি টের পাবে তারা। প্রসঙ্গত, প্রথমে বিজেপি ও সিপিএম লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিরোধিতা করলেও পরে তারা বুঝতে পেরেছে, যে তাদের ভুল হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলার তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা, যুব সমাজের বড় অংশের ভোট এবার তৃণমূলের বাক্সেই পড়বে। বীরভূম জেলার তৃণমূল কোর কমিটির সদস্য তথা বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ (রানা) বলেন, যুবসাথী প্রকল্প কতটা জনপ্রিয় হয়েছে, তা বোঝা যাচ্ছে এই প্রকল্পে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ দেখে।
ফলে যুবসমাজ এবার আরও বেশি করে সমর্থন জানাবে তৃণমূলকে, এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। যুব সাথীর আবেদনের
তথ্য বলছে, কালিম্পং ছাড়া বাদবাকি জেলায় কোথাও আবেদনের সংখ্যা এক লক্ষের কম নয়। সর্বাধিক দক্ষিণ ২৪ পরগনায়, ৯ লক্ষ।