শ্যামলেন্দু গোস্বমী, বারাসত: বসিরহাটে রয়েছে একাধিক বারোয়ারি ও বনেদি পুজো। সেগুলির মধ্যে অন্যতম হাড়োয়ার গোপালপুরের হরচৌধুরীদের দুর্গাপুজো। আনুমানিক ৩৪৫ বছরের পুজো। সে কালের রীতি আজও সমানভাবে মেনে চলেছে এই পরিবার। এ বাড়ির দশমীর অনুষ্ঠান সবার কাছে আবেগের। বিসর্জনের আলাদা ঐতিহ্য। মন্দিরের সামনে তিন ফুট বাই দু’ফুট গভীর গর্ত তৈরি করে তাতে জল ঢালা হয়। বাড়ির প্রবীণ কোনও পুরুষ সদস্য তাতে বসেন। অন্যান্য পুরুষরা তাতে নেমে ওঁকে প্রণাম করে দশমীর শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি চলে কোলাকুলি। দেবীমূর্তির মধ্যেও রয়েছে অভিনবত্ব। বছরের পর বছর ধরে তা চলে আসছে। একচালার দেবীমূর্তির সঙ্গে থাকেন লক্ষ্মী ও সরস্বতী। কিন্তু তাঁদের কোনও বাহন নেই। পুজোর প্রথম দিন থেকে যে মৃৎশিল্পী, পুরোহিত বা ঢাকি জড়িত ছিলেন তাঁদের বংশধররা এখনও যুক্ত। কথিত, ১৬৮০ সালে পরিবারের তৎকালীন সদস্য রত্নেশ্বর হরচৌধুরী রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে কাজ করতেন। তাঁর কাজে মুগ্ধ হয়ে কৃষ্ণচন্দ্র কিছু জমি তাঁকে দেন। সেই জমি পাওয়ার পর বিভিন্ন দেবদেবীর পুজো শুরু করেন রত্নেশ্বর। তখনই শুরু দুর্গাপুজো। যা এখনও হয়ে চলেছে। এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না বলে এ বনেদি বাড়িতে আগে জ্বলত অসংখ্য ঝাড়বাতি। পুজো ঘিরে একাধিক গ্রামের মানুষ উৎসবে মাতেন পঞ্চমী থেকে। উল্টোরথের দিন কাঠামো পুজো। মালি পরিবার প্রতিমা তৈরি করে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে পরিবারের এক সদস্য দেবীর প্রতিমা তৈরি নিয়ে নাকি কিছু কারসাজি করেন। ফলে পুজো চলাকালীন মূর্তিতে দেখা দিয়েছিল ক্ষত। বিষয়টি নিয়ে কানাকানি হওয়ার পর সে শিল্পী দেবীর কাছে ক্ষমা চান। পঞ্চমীতে পুরনো আসবাবপত্র ধুয়ে সাফ করা হয়। ষষ্ঠীতে পুজো শুরু। অষ্টমীর পুজো বিশেষভাবে হয়। আগে পশুবলি হতো। বর্তমানে চালকুমড়ো বলি হয়। ১২তম পুরুষের হাতে পুজোর দায়ভার আছে। দীপঙ্কর হরচৌধুরী বলেন, ‘আগের সমস্ত নিয়ম মেনে পুজো হয়। পুজো ঘিরে উৎসাহ উন্মাদনা তুঙ্গে ওঠে।’ নিজস্ব চিত্র



