প্রীতেশ বসু, কলকাতা: সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা। তারপর রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা। দু’টি শিফটে ২৪ ঘণ্টা এভাবেই একজন করে ডব্লুবিসিএস অফিসারের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় নবান্নের বিশেষ কন্ট্রোল রুম বা স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার। প্রতি বছর উৎসবের মরশুমে রাজ্যের মূল কন্ট্রোল রুমে ডিউটির জন্য বিশেষভাবে আধিকারিকদের নিযুক্ত করা হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবার উৎসবের মধ্যেই রাজ্যে আছড়ে পড়েছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়। উত্তরবঙ্গে ভারী বর্ষণ ও ধস কেড়ে নিয়েছে একাধিক প্রাণ। ডিভিসির ছাড়া জলে দক্ষিণবঙ্গেও ফের বন্যার ভ্রুকুটি। এই পরিস্থিতির কারণে নবান্নে অবস্থিত স্টেট কন্ট্রোল রুমের গুরুত্ব এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। এহেন গুরুত্বপূর্ণ সময়েই কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা এক ডব্লুবিসিএস অফিসারের বিরুদ্ধে উঠল চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগ। সকাল ৮টার বদলে বেলা সাড়ে ১১টায় কাজে যোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। প্রাথমিক রিপোর্টে আরও উঠে এসেছে, অফিস থেকে তিনি বেরিয়ে গিয়েছেন বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ। আসল বিড়ম্বনার শুরু এবার! ওই দিনই সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে কন্ট্রোল রুমের ল্যান্ডলাইনে ফোন করে ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলতে চান মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ স্বয়ং। রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিতেই ফোন করেছিলেন তিনি। কিন্তু বিস্তর খোঁজাখুঁজির পরও নবান্নে তাঁর দেখা মেলেনি। সূত্রের খবর, কন্ট্রোল রুম থেকে এক সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ার তাঁকে ফোন করলে তিনি জানান, তাঁর শিফট শেষ হয়ে গিয়েছে। পরের শিফটের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে কার্যত যাবতীয় দায় এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই বিসিএস অফিসারের বিরুদ্ধে। শেষমেষ এই খবর পৌঁছয় মুখ্যসচিবের দপ্তরে। তারপরই কাজে গাফিলতির অভিযোগে গণশিক্ষা সম্প্রসারণ ও গ্রন্থাগার সেবা দপ্তরের যুগ্ম সচিব তথা ওই সময়ে কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা আশিস কুমার সাহাকে শোকজ করেছে নবান্ন।



