নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পালাবদলের পর সারা রাজ্যের মতো উত্তর শহরতলিতে নানা অভিযোগে একের পর এক তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তার হচ্ছেন। এবার জলাশয় ভরাট, মাটি চুরি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন খড়দহ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি প্রসেনজিৎ সাহা। তিনি বন্দিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান পদেও রয়েছেন। প্রসেনজিৎবাবু গ্রেপ্তার হতে না হতেই তাঁর প্রাসাদ সম ‘পি গ্যালাক্সি হাউস’ বাড়ি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁকে বারাকপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তিনদিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
বিধানসভা ভোটের কয়েক মাস আগে খড়দহ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি হন প্রসেনজিৎবাবু। তবে উপপ্রধান হিসাবে এলাকায় তার দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। গত ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে তিনি বাড়ি ছাড়া ছিলেন। তার বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, উপপ্রধান থেকে ব্লক সভাপতি হওয়ার পর তিনি এলাকায় দাপট শুরু করেন। ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রাখা, তোলাবাজি, মারধর, হুমকি, জলাশয় ভরাট, কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ধারে জলাজমি ভরাট করে মোটা দামে বিক্রির মতো একাধিক বেআইনি কাজ এই প্রসেনজিৎবাবুর নেতৃত্বে হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকি তৃণমূল জমানায়, বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। রহড়া শিল্পতালুকে তোলাবাজি ও মারধরের মতো নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এসবের মধ্যে প্রসেনজিৎবাবু ‘পি-গ্যালাক্সি হাউস’ নামের বিশালাকার বাড়ির ছবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। যা নিয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, একজন উপপ্রধানের এত সম্পত্তি হয় কীভাবে? আয়ের উৎস কি? কেন প্রসেনজিৎকে গ্রেপ্তার করা হবে না এই প্রশ্ন তুলে বুধবার রহড়া থানায় একদল মহিলাসহ স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখায়। শেষমেশ বুধবার পুলিশ খড়দহের মোড়লপাড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব তাঁর কঠোর শাস্তির দাবি তুলছেন। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি বিজেপি ক্ষমতার আস্ফালন দেখাচ্ছে। প্রসেনজিৎবাবু রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।